অপরূপ স্বর্ণালী ছড়া, শ্রীমঙ্গল খরচ ও যেভাবে যাবেন

একখণ্ড স্বর্গ হিসেবে পরিচিত চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গলের অপার নিসর্গে মন্ত্রমুগ্ধ হন প্রায় সকল পর্যটকই। পাহাড়ের কোলে ঘুমিয়ে থাকা চা বাগান, বিস্তীর্ণ হাওড়ের জলরাশি, অবারিত সবুজ বনানী এখানে সৃষ্টি করেছে অপরূপ সৌন্দর্যের এক উপাখ্যান। তাই প্রকৃতি প্রেমী ও ভ্রমণ পিপাসুদের অন্যতম একটি প্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে শ্রীমঙ্গল। এখানে উপভোগ করার মত অনেকগুলো চমৎকার স্থান রয়েছে। শ্রীমঙ্গলের চা বাগান, বাইক্কা বিল, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক হয়ত অনেকেই ঘুরে এসেছেন। এবার দেখে আসুন অপূর্ব সৌন্দর্যের স্বর্ণালী ছড়া। প্রাকৃতিক নিসর্গের এই ছড়াটি তার অপার সৌন্দর্যে মুগ্ধ করছে পর্যটকদের।

রাধানগর থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার সামনে গেলেই ছোট্ট একটি ব্রিজের নিচে স্বর্ণালী ছড়ার অবস্থান। অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর এই জায়গাটি যে কাউকেই বিমোহিত করবে। ব্রিজের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়া এই ছড়াটির পাথরের উপড়ে সোনালি আঁশ পড়ে উজ্জ্বল হয়ে অপূর্ব সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়েছে এখানে। এই সোনালী আবরণের কারণেই মূলত এই ছড়াটি স্থানীয় ভাবে “স্বর্নালী ছড়া” নামে পরিচিতি লাভ করেছে। ছড়ার মধ্য দিয়ে আবার একটি ছোট্ট নালা প্রবাহিত রয়েছে। একটু উঁচু থেকে নিচে স্বচ্ছ পানি পড়ার শব্দ আপনাকে দেবে অপার আনন্দ।

ছড়া দিয়ে সামান্য হেঁটে সামনের দিকে এগিয়ে গেলে দেখা মিলবে বাঁশ বাগানের। এর পাশে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের গাছপালা। স্বচ্ছ সাদা পানির নিচে দেখা যাবে সোনালী সৌন্দর্য। পানির শোঁ শোঁ শব্দে মনে যেনো কোনো বিশাল সোনালী বর্ণের ঝর্ণার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন আপনি। খণ্ড খণ্ড গর্তের উপর থেকে নিচে পানি পড়ছে অবিরাম ধারায় যা দেখে মুগ্ধ হবেনই। ছড়া দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সামনের দিকে এগোতে থাকলে দেখতে পাবেন সোনালী আঁশযুক্ত পাথর। এসব পাথরের মাঝে উঁচু থেকে নিচুতে প্রবেশ করলে যে সৌন্দর্য দেখতে পাবেন তা সত্যিই অপরূপ।

ছড়ার দু পাশে রয়েছে হরেক রকমের নাম না জানা বিভিন্ন বন্য ফুলের ঝোপ। ছড়ার দু’পাশে বাঁশের ঝাড় থাকায় ঝিঁ ঝিঁ পোকার আওয়াজ শুনে মনে হবে প্রকৃতির অপার আদিরূপ আপনার একদম সান্নিধ্যে। আরও সামনে এগিয়ে গেলে চোখে পড়বে বাঁশের তৈরি সাঁকো। প্রাকৃতিক নিসর্গের মনোরম এই স্থানটি দেখতে অনেক দর্শনার্থীর আগমন ঘটে এখানে।

যেভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে সড়ক ও রেল পথে সরাসরি শ্রীমঙ্গল যাওয়া যায়। ঢাকার ফকিরাপুল ও সায়দাবাদ থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, এনা পরিবহন, সিলেট পরিবহন ইত্যাদি পরিবহনের নন এসি বাস ছাড়ে শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশে। ভাড়া পড়বে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। এছাড়া কমলাপুর স্টেশন থেকে আন্তঃনগর ট্রেন পারাবত এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, ও উপবন এক্সপ্রেস এ চড়েও যেতে পারেন শ্রীমঙ্গল।
শ্রীমঙ্গল শহর থেকে অটোরিকশা কিংবা সিএনজিতে চড়ে পৌঁছাতে পারবেন রাধানগরে।

কোথায় থাকবেন:

শ্রীমঙ্গলে থাকার জন্য সবচেয়ে ভাল মানের জায়গা ভানুগাছ সড়কে টি-রিসোর্ট। এছাড়াও রয়েছে হোটেল গ্র্যান্ড সুলতান (পাঁচ তারকা), রেইন ফরেস্ট রিসোর্ট, টি টাউন রেস্ট হাউজ, হোটেল প্লাজা ইত্যাদি। এসব হোটেল ও রিসোর্টের ভাড়া পড়বে ৫’শ টাকা থেকে ৫ হাজার ৫’শ টাকা।
এছাড়া রাধানগরে চমৎকার দুটি রিসোর্ট হল নিসর্গ নীরব ইকো রিসোর্ট ও নিসর্গ লিচিবাড়ি ইকো রিসোর্ট।

এছাড়াও সাধারণ মানের কিছু হোটেল রয়েছে, চাইলে সেগুলোতেও থাকতে পারেন। খরচ পড়বে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা।

Share:

Leave a Comment

Shares
error: Content is protected !! --vromonkari.com