অপূর্ব এক নদী ভ্রমণ বিতান্ত

আজ বিশ্ব নদী দিবস। পৃথিবীর সবচে নদীনির্ভর দেশ আমাদের বাংলাদেশ। আমাদের ট্যুরিজমও হতে পারতো নদীনির্ভর৷ আজকের দিন এদেশে উৎসব হতে পারতো, হয়নি কিছুই। নদীবৈচিত্র‍্যের এই দেশে ট্যুরিজম দূরে থাকুক, প্রতিদিন নদী হচ্ছে দখল। নদী সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞতাও ভাববার মত, বলতে বললে ১০-১৫টার পরই আমরা থেমে যাই। অথচ ৭০০ নদীর দেশ বাংলাদেশ 🇧🇩 হিমালয়ের বরফগলা সাগরসন্ধানী জলপ্রবাহ নানা বেশে, নানা নামে এই দেশের হাট-ঘাট-বন্দর ছুঁয়ে, পথজুড়ে অবিরাম পলি বিলিয়ে শেষে আশ্রয় খুজে নেয় বঙ্গোপসাগরের মোহনায়। এ দেশ নদীসৃষ্ট, এ বদ্বীপ তাই নদীর মায়াজালে বাঁধা, সাথে আমরাও।

অদ্ভুত এ দেশে যেমন আছে ফুলকুমার নদী তেমন আছে ফকিরনী নদী! আছে খেপা, আছে পাগলা, আছে লেংগা এমনকি মাথাভাঙাও! যেমন চিকনাই আছে, তেমন পেটকিও আছে! আছে ধলা নদী, আছে কালা নদী! ক্ষেপা, মিরগি, বাউলাই আছে, আবার আছে ঘুমানি আর ভাবনা টাইপ নদীও! বুড়ি যেমন আছে, আছে “জুয়ান” ও! লেংটা আছে, বোরকা আছে। জুরি আছে, মুহুরী আছে! পান্ডব, বিষ্ণু, হরি, নারদ, হরিহর, মানস, রামচন্ডি, রাবণবাদ, ভুবনেশ্বর, গদাই, নিতাই, নারদ, শিব, ধলেশ্বরী, গভেশ্বরী, কাগেশ্বরী, সোমেশ্বরী, নাগেশ্বরী, যমুনেশ্বরী, ভাটেশ্বরী, মুক্তেশ্বরী কিচ্ছু বাদ নাই। সেইসাথে আছে আড়িয়াল খাঁ, জলকদর খাঁ, মিনহাজ, মুসা খান, ইসদার খানেরাও।

পুটিমারী থেকে শুরু করে সিংগিমারী, শোলমারী, চিতলমারী, ইলিশমারী, সাপমারা, খাসিমারা থেকে মারামারি শেষ পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে ঘোড়ামারায়! ওদিকে কাঁচামাটিয়ার সাথে রাঙামাটিয়াও আছে। সুই নদী আছে, সাথে সুতা নদীও আছে। শুক আছে, সারীও আছে। আছে বগী, চন্দনা, টিয়াখালী, পায়রা, ডাহুক, কোকিল, ময়ুরও! চোরখাই না শুধু, আছে ডাকাতিয়াও। আমাদের ছোট্ট বাংলাদেশে শুধু ইছামতিই আছে আটটা। ভাবা যায়? অপূর্ব সুন্দর কিছু নদীর নাম শুনলে মনটা ভরে যায়। যেমনঃ সুবচনী, প্রাণসায়র, ময়ূর, ধানসিঁড়ি, মনু, পিয়াইন, যাদুকাটা, ডাহুক, তালমা, বিজলী, ঘুঙুর, টংকাবতী, বংশী, পারুলী, লুভা, সন্ধ্যা, সুগন্ধা, রূপসা, মালঞ্চ, চিত্রা, মধুমতি, লবঙ্গবতী! এরা জনপদে জনপদে বয়ে চলেছে, বলে চলেছে ভিন্ন ভিন্ন গল্প ভিন্ন ভিন্ন নামে! এ দেশ যদি নদীমাতৃক হয়, আমরা তবে নদীরই সন্তান! নদী বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে!

Source: Apu Nazrul‎ < Travelers of Bangladesh (ToB)

Share:

Leave a Comment

Shares