আন্দামান ট্যুর গল্প

আমাদের মত ছোটখাটো চাকরিজীবীদের জন্য আসলে দুই ঈদের ছুটি ছাড়া বড় কোন ছুটি আমারা আশা করতে পারি না। রোজার ঈদে ইচ্ছা ছিলো কিন্তু কিছু সমস্যার কারনে হয়ে উঠে নাই। তাই কোরবানীর ঈদটাকেই বেঁছে নিয়েছিলাম আন্দামান ভ্রমনের জন্য। যদিও এই সময়টা আন্দামান ভ্রমনের জন্য সঠিক সময় না অনেকেই বলেছিলো, তবুও দিলাম। এই সময় গুলোতে আসলে বৃষ্টি-পাত হতে থাকে কোন কারন ছাড়া। মুভ করা একটু কষ্টকর হয় অনেক সময়। যেহেতু সিঙ্গেল মানুষ তাই খুব একটা গায়ে মাখি নাই কয়েকটা জিনিষ মাথায় রেখে আসলে অফ সিজনে এই ট্রিপটা লাগালাম।
১। ট্যুরিস্ট কম হবে।
২। কম খরচায় এদিক ওদিক ঘুরাঘুরি করা যাবে।
৩। ডিস্কাউন্টে মন মত হোটেল পাওয়া যাবে।
যেহেতু এটা একটা সোলো ট্যুর ছিলো তাই হয়ত মনে হতে পারে খরচ মনে হয় একটু বেশী। কিন্তু হেডস বেশী হলে অনেক কিছুই কমে যাবে শুধু এয়ার টিকেট ছাড়া।
আমার সর্বসাকুল্যে খরচ হয়েছিলো ৪ দিন/ ৪ রাতের জন্য ১৪,০০০ হাজার টাকার মত (এয়ার খরচ ও শপিং ছাড়া)
এয়ারে টিকেট কেটেছিলাম ১৮,৫০০ টাকায় (ঢাকা টু কোলকাতা টু পোর্ট ব্লেয়ার আসা-যাওয়া। আরো কমেও সম্ভব)
যে জায়গা গুলোতে আমি গিয়েছিলাম~
~চিরিয়াটাপু বিচ
~ওয়ান্দুর বিচ
~কর্বিন কোভ বিচ
~সেলুলার জেল
~ভাইপার আইল্যান্ড
~নর্থ বে আইল্যান্ড
~রস আইল্যান্ড

প্রথম দিনঃ
ঢাকা থেকে কোলকাতা পৌছালাম রাত ৮.৩০ এর দিকে। খুব একটা ঝামেলা হয় না ইমিগ্রেশনে। একপর ৯ ঘন্টার এর বিরতি। একটা টেক্সি নিয়ে একটু কোলকাতা শহর চক্কর দিলাম। খাওয়া দাওয়া করলাম সিটি সেন্টারে জাস্ট সময় পার করার জন্য।

দ্বিতীয় দিনঃ
সকাল ৭.৩৫ এর ফ্লাইট কোলকাতা থেকে পোর্ট ব্লেয়ারে। ৯.৩৫ এর পৌছে গেলাম। বলা বাহুল্য ইন্ডিগো এয়ারে কিন্তু ফ্রি খাবার দেয় না। খাবারের দাম একটু বেশী। তাও বেটার আপনি খেয়ে নিয়ে অথবা নামার পরও খেয়ে নিতে পারেন। নেমেই টেক্সি নিয়ে গেলাম পরের দিনের হ্যাভলক আর নীল আইল্যান্ডের টিকেট কাটার জন্য। কিন্তু দুঃখজনক গিয়ে টিকেট পেলাম না। গিয়ে দেখি জাহাজ অনেক গুলা বন্ধ যেহেতু অফ সিজন। তাই টিকেট স্বল্পতা ছিলো। যাওয়ার টিকেট পেলেও ফিরে আসার টিকেট ম্যানেজ করতে পারিনি। তাই রিস্ক আর নেই নাই, যেহেতু আমার ফেরার টিকেট কাটা ছিলো। মিস হয়ে গেলে সর্বনাস। সাধারনত এসব আইল্যান্ড গুলাতে যাওয়ার টিকেট ৩-১০ দিন আগে কেটে নেয়া ভালো যদি পিক সিজন হয়। অফ পিকে অবশ্য এরকম হাওয়ার কথা ছিলো না। কিন্তু জাহাজের মেইন্টেনেন্সের কাজের কারনে অলমোস্ট সব গুলা জাহাজই বন্ধ। তাই জাহাজে যাত্রীদের চাপ বেশী ছিলো। যাই হোক কিছু করার নাই। কয়েকটা হোটেল দেখে আবেরদিন বাজারে মোটামুটি খুব ভালো একটা হোটেল পেয়ে গেলাম মাত্র ২২৫০ রুপিতে। বলা বাহুল্য পোর্ট ব্লেয়ারে সবাই কম বেশি এই বাজারেই উঠে। এইখানে আসলে সব কিছুই একটু হাতের নাগালে। তাই সুবিধা। চেক-ইন করে দুপুরের খাবার ওর্ডার করে দিলাম। খেয়ে হাল্কা ভাত ঘুম দিলাম। সন্ধায় আর তেমন কোথাও যাই নাই। পাসেই একটা বিচ আছে নাম করবিন কোভ বিচ। সেখানে গেলাম, তারপর একটা ভিউ পয়েন্ট আছে। তারপর হাল্কা সিটি টা দেখে ডিনার সেরে ঘুমিয়ে পরলাম। ৮.৩০-৯.০০টার পর আসলে এখানে করার মত কিছু থাকে না।

তৃতীয় দিনঃ
খুব সকালে ঘুম থেকে উঠেই চলে গেলাম জংলিঘাটে। সেখান থেকে দুইটা আইল্যান্ডে যাব আজকে। একটা ভাইপার আইল্যান্ড এবং আরেকটা নর্থ বে। ৭৫০ রুপি নিল যাওয়া আসার জন্য। সময় লাগলো সব মিলিয়ে ৪.৩০ ঘন্টার মত। নর্থ বে ১.৫০ এর মত স্টে করেছিলো। এখানে যারা সি-ওয়াকিং(৩৫০০ রুপি) কিংবা স্নোরক্লিং(৭০০ রুপি) করতে চায় করতে পারে। আমি এগুলা আগে করেছিলাম তাই ইচ্ছা ছিলো না। ১.৩০ এর দিকে চলে এসেছিলাম। আসার সময় প্রচন্ড বৃষ্টি ছিলো। কিছুটা বিলম্ব হয়েছিলো আমাদের। তারপর একটা অটো ধরে আবার হোটেল। এসে খাওয়া দাওয়া করলাম। সন্ধ্যায় একটু বের হয়ে ঘুরাঘুরি করে অইদিনের এক্টিভিটিস শেষ করলাম।

চতুর্থ দিনঃ
অনেক বৃষ্টি থাকার কারনে সকালে বের হতে পারি নাই। দুপুরের দিকে সেলুলার জেল টা ঘুরে এসেছিলাম। ভালোই লেগেছে। ইন্ডিয়ানদের জন্য ৩০ রুপি আর ফরেইনারদের জন্য ১০০ রুপি। বিকালে লাইট শো আছে। আমার খুব একটা ইচ্ছা জাগে নাই। তাই আর দেখি নাই। সেলুলার জেলের বিস্তারিত ইতিহাস জানতে ~ https://cutt.ly/qwdkH8P

পঞ্চম দিনঃ
খুব সকালে উঠে চলে গেলাম মেরিনা বে তে। ওইখান থেকে বোটে ৩৫০ রুপিতে (আসাযাওয়া) চলে গেলাম রস আইল্যান্ডে। যদিও এর নাম পরিবর্তন হয়ে এখন হয়েছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু দ্বীপ। দ্বীপের ভিতরে প্রবেশ করতে আরো লাগবে ৩০ রুপি। চমৎকার একটা দ্বিপ। অনেক ইতিহাস ধারন করে এই দ্বিপ। বিস্তারিত ~ https://cutt.ly/0wdkVqH দুপুরের দিকে ফিরে হাল্কা রেস্ট নিয়ে ৩৫ কিলোমিটার দূরে দুইটা বিচ আছে। একটার নাম চিরিয়াটাপু আর আরেকটা ওয়ান্দুর বিচ। ২০০০ রুপির বিনিময়ে ঘুরে এলাম। ভালোই কাটলো সন্ধ্যাটা। হোটেলে ফিরে ব্যাগ গুছালাম কারন পরেরদিন সকাল ১০.৩০ এ ফ্লাইট।

ষষ্ঠ দিনঃ
কাছেই এয়ারপোর্ট। ১০.৩০ এর ফ্লাইট ধরে কোলকাতা। ৪ ঘন্টার ট্রানজিটে হাল্কা পাতলা কেনাকাটা করলাম পাসের বিগবাজার আর সিটি সেন্টার থেকে। তারপর বিকাল ৪.৫০ এর ফ্লাইট ধরে বাংলাদেশ।
পুরো ট্রিপে আমার সাথে ছিলো একজন ট্যাক্সি ড্রাইভার আর একজন অটো ড্রাইভার। এরাই মূলত আমাকে সব জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলো। সিটির কাছাকাছি জেগুলা সেইগুলার জন্য অটো বেটার। দূর পাল্লার জন্য টেক্সি। ভবিষ্যতে কোন ধরনের বুকিং টুকিং এর জন্য এদের সহযোগিতা নেয়া যেতে পারে যদি কেও চান ~
টেক্সি ড্রাইভার এরান্না- +৯১৯৯৩৩২৯৭৭০৮
অটো ড্রাইভার পিন্টু- +৯১৯৯৩৩২২৭৩৯১
লাঞ্চ-ডিনারে আমার এভারেজ ২৫০-৪০০ টাকা খরচ হয়েছিলো।
হোটেল- গুরু ইন্টারন্যাশনাল +৯১৯৯৩৩২০৮৪৮৯

আরো বিস্তারিত জানার থাকলে জিজ্ঞাসা করে জেনে নিতে পারেন।

বি:দ্রঃ
~ যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা টাইপ এর মানুষ হলে এই জায়গাগুলো এভয়েড করুন।
~ জন সম্মুখে থুথু ফেলা থেকে বিরত থাকুন।
~ খোলা জায়গায় ধূমপান করা থেকে বিরত থাকুন।

Source: Duke Anam <Travelers of Bangladesh (ToB)

Share:

Leave a Comment