একদিনের ট্যুরে ঘুরে আসুন মানিকগঞ্জের তিন জমিদারবাড়ী

ব্যস্ত নগরজীবনে কাজকর্মের চাপে যখন পিষ্ট হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। প্রতিদিনের একঘেয়েমি কাজ থেকে মুক্তির জন্য ছুটির দিনটি কাজে লাগিয়ে ঘুরে আসতে পারেন ঢাকার আশেপাশেরই কোন দর্শনীয় স্থান। যেখান থেকে অফুরন্ত প্রাণশক্তির পাশাপাশি ইতিহাস-ঐতিহ্যের সান্নিধ্য ও পাওয়া যাবে খুব কাছ থেকে। ঢাকার কাছাকাছি পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার মত এসব জায়গাগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় অবস্থিত বালিয়াটি জমিদারবাড়ী, ঠিক একই রাস্তায় টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় অবস্থিত পাকুটিয়া জমিদারবাড়ী এবং একই জেলার দেলদুয়ার উপজেলার বারোভূঁইয়াদের ইতিহাস গাঁথা নর্থ হাউস। এটা অনেকটা এক ঢিলে তিন পাখি শিকারের ন্যায়। একই সাথে আপনাকে দেবে আনন্দ ও ইতিহাস ও ঐতিহ্য চর্চার এক দারুণ সুযোগ।

বালিয়াটি জমিদারবাড়ী:
আঠারো শতকের মধ্যভাগে জমিদার গোবিন্দরাম শাহ বালিয়াটি জমিদারবাড়ীটি নির্মাণ করেন। বালিয়াটি জমিদারবাড়ীটি প্রায় পাঁচ একর জমির ওপর অবস্থিত। জমিদারবাড়ীর সমস্ত চত্বর বেশ উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। এতে রয়েছে মোট সাতটি প্রাসাদসম ইমারত, যাতে মোটকক্ষ রয়েছে ২০০টির মত। এখানে আর ও রয়েছে পূর্ব বাড়ি, পশ্চিম, উত্তর, মধ্য ও গোলাবাড়ি নামে বিশাল আকারের পাঁচটি ভবন। মূল ভবনগুলোর সামনের দেয়ালগুলো জুড়ে নানা রকম কারুকাজ আর মূর্তি চোখে পড়ে। ভবনগুলোর সামনে প্রাচীরের দেয়ালে রয়েছে চারটি প্রবেশপথ। চারটি প্রবেশপথের চূড়ায় রয়েছে পাথরের তৈরি বড় বড় চারটি সিংহমূর্তি। ভবনগুলোর পেছনের দিকে আছে ছয়টি ঘাট যুক্ত বড় একটি শানবাঁধানো পুকুর। বালিয়াটি জমিদার বাড়ির বিশালে ঘেরা সৌন্দর্য আপনাকে বিমোহিত করবেই।

পাকুটিয়া জমিদারবাড়ি:
টাঙ্গাইলের বহু ইতিহাস ও ঐতিহ্যে ঘেরা নাগরপুর উপজেলা প্রাচীন লৌহজং নদীর তীরে অবস্থিত। ঊনবিংশ শতকে দিকে যমুনা নদীর মাধ্যমে নাগরপুর এলাকার সঙ্গে ভারতের কলকাতার সাথে সরাসরি ব্যবসায়িক যোগাযোগ ঘটে। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে মুঘল আমলের শুরুর দিকে নাগরপুরের সুবিদ্ধা খাঁর হাত ধরেই নাগরপুরের বিখ্যাত ‘চৌধুরী’ বংশের আবির্ভাব ঘটে। সুবিদ্ধা খাঁর পথ অনুসরণ করে কলকাতা থেকে আর ও আসেন রামকৃষ্ণ সাহা মণ্ডল। ১৯১৫ সালের ১৫ এপ্রিল তিন একর জমির ওপর একই নকশায় তৈরি করা হয় বিশাল তিনটি মহল। পাকুটিয়া জমিদারবাড়ীটি তিন মহলা বা তিন তরফ নামে পরিচিত। এই এলাকায় আর ও বেশ কিছু ছোট বড় জমিদার বাড়ি রয়েছে।

নর্থ হাউস:
টাঙ্গাইলের অদুরেই দেলদুয়ার উপজেলায় নর্থ হাউস বাড়ির অবস্থান। এখনো বারোভূঁইয়াদের এক ভূঁইয়া উত্তরসূরি হিসেবে এখন ও আছেন এই নর্থ হাউসের মালিক। অপরূপ সৌন্দর্যের ঘেরা এক রাজবাড়ী হলো দেলদুয়ার উপজেলার এই নর্থ হাউস। নর্থ হাউসের সামনের দিকে আছে বিশাল একটি শানবাঁধানো পুকুরঘাট। প্রাসাদের সামনেই চোখে পড়বে বারোভূঁইয়াদের হাতে তৈরি সাত গম্বুজবিশিষ্ট জামে মসজিদ। আপনি চাইলেই এখানে নামাজ আদায় করে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকতে পারেন। নর্থ হাউসের ভেতরে প্রবেশ করলে আপনার মনে হবে আপনি প্রাচীন ইংল্যান্ডের কোথাও ঘরতে বেড়িয়েছেন। সামনের দিকে চোখে পড়বে প্রায় ২০০ বছরের বেশি পুরনো কড়ই গাছ, আছে প্রাচীন পোড়ামাটির অসাধারণ কারুকাজের ফলক, পানির ফোয়ারা। বাড়ীর পেছনের অংশে আছে বিভিন্ন জাতের আমগাছের বাগান। সাজানো-গোছানো অসাধারণ এর সৌন্দর্য আপনার মন কেড়ে নেবে।

যেভাবে যাবেন:
পুরো তিনটি জমিদার বাড়ি ঘুরে দেখতে চাইলে নিজেদের গাড়ি অথবা গাড়ি ভাড়া করে নিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে উত্তম। তবে চাইলে ঢাকা থেকে বাসে মানিকগঞ্জ নেমে সেখান থেকে সিএনজি করে ঘুরে আসতে পারেন সবগুলো জমিদার বাড়ি।

Share:

Leave a Comment

Shares
error: Content is protected !! --vromonkari.com