একদিনে ঢাকার আশেপাশে ঘুরার গল্প

এবারের ঈদের ছুটিতে কোথাও যাওয়া হয়নি। গতবার গিয়েছিলাম নেপাল।ভেবে দেখলাম যে, একদিনে ঢাকার আশেপাশে কোথায় ঘুরে দেখা যায়? পরে মনে হল যে,কুমিল্লাতো কাছেই আর যেহেতু ঈদের ছুটি কাজেই জ্যাম পাবো কম। কয়েকটা গ্রুপে বেশ আগে কুমিল্লাতে ডে ট্যুরের পোস্ট পড়েছিলাম। যেমন চিন্তা তেমন কাজ।

ঈদের চতুর্থদিন রওনা দিলাম কুমিল্লার উদ্দেশ্যে আমার দুই কাজিনকে নিয়ে। একটু চিন্তিত ছিলাম সেফটি নিয়ে কিন্ত তেমন কোনো সমস্যা হয়নি আলহামদুলিল্লাহ। কমলাপুর বাসস্ট্যান্ড যেয়ে রয়াল কোচ এসি বাসের টিকিট নিলাম ২৫০ টাকা দিয়ে। পাশেই ছিল এশিয়া এয়ারকন নামের আরেকটি এসি বাসের বুথ। টিকেট প্রাইস সেইম। এরপর মনোরম সুন্দর দৃশ্য দেখতে দেখতে চলে গেলাম কুমিল্লা। সময় লেগেছিল মাত্র ১ঘন্টা ২০ মিনিটের মতো। আমি নেমেছিলাম কোটবাড়ি কারন কোটবাড়ি থেকে শালবনবিহার, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, ময়নামতি জাদুঘর সব কাছাকাছি।

এবার কোটবাড়ি থেকে রিসার্ভ সিএনজি নিয়ে গিয়েছিলাম নব শালবন বিহার।এখানে এন্ট্রির জন্য টিকেট নিয়েছিলাম ২০ টাকা দিয়ে । এটি একটি বৌদ্ধ আশ্রম এবং উপাসনালয়।দেশের বাইরে অনেক মোনাস্ট্রি দেখেছি আমি। সেই মোনাস্ট্রিগুলোর সাথে তুলনা করবোনা।কিন্তু বেশ শান্ত নিরিবিলি জায়গা।

কুমিল্লার নব শালবন বিহার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বিহার বা শান্তি প্যাগোডা। নব শালবন বিহারের প্রবেশ দ্বার হতেই বা দিকে রয়েছে সোনালী রঙ এর ৬ টন ওজনের ৩০ ফুট উচ্চতার বিশাল প্রার্থনারত বৌদ্ধের মূর্তি। মূর্তির পাশে রাজকীয় ভাবে নিরাপত্তা দেয়ার ভঙ্গিতে স্থাপিত আছে গর্জন রত একই রঙের দুটি সিংহ। এছাড়া চারপাশে দাড়িয়ে আছে ৩ টি বড় ও ১ টি ছোট্ট সোনালী মোটক। পুরো মন্দিরটাই নানা রকম শৈল্পিক কারুকার্যখচিত।
ধাতব পদার্থের এই মূর্তিটি থাইল্যান্ডের একটি বৌদ্ধ ধর্মীয় ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে নব শালবন বিহারকে উপহার হিসেবে দেয়া হয়। ২০১৪ সালের ১৫ আগস্ট স্থাপন করা চমৎকার এই মূর্তিটি যা অনেক দূর থেকেই পরিলক্ষিত হয়।

কিছু সময় এখানে থেকে আমরা চলে গিয়েছি শালবন বিহারে। নব্ শালবন বিহার থেকে হেঁটে যেতে সময় লাগে ৫ মিনিট। আমার কাছে এই জায়গায়টি খুবই ভালো লেগেছে কিন্তু ভিড় একটু বেশি ছিল। পাশেই ছিল ময়নামতি জাদুঘর আর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। ওখানে যাওয়া হয়নি সময় সল্পতার কারনে।

এরপর চলে গেলাম বার্ড এ। কুমিল্লা আসবেন অথচ বার্ড দেখবেন না তা কি করে হয়! তাই কুমিল্লা বেড়াতে আসলে অবশ্যই ঘুরে যাবেন বার্ড থেকে।ভিতরে আছে হরেকরকমের গাছপালা,বোটানিকাল গার্ডেন আর কি সুন্দর নিরিবিলি পরিবেশ। বেশ খানিকটা ঘুরে এবার বার্ড থেকে বের হয়ে অটোরিকশা নিয়ে গেলাম কোটবাড়ি মেইন রোড আর ক্যান্টনমেন্ট যাওয়ার জন্য মাইক্রোবাসে গেলাম প্রতিজন ২০ টাকা করে।
ক্যান্টনমেন্ট এ বেশকিছু হোটেল রিসোর্ট আছে। সুবিধামত জায়গায় খেয়ে নেয়া বেটার। সবচেয়ে ভালো অপশন হচ্ছে ভাত, ডাল, মাংস। আমরা খেয়েছিলাম মনিহার নামের একটি হোটেলে। দেশি মুরগী,ভাত আর ডাল নিলে ম্যাক্সিমাম ১৫০ টাকা বিল আসবে।তবে দাম আগেই জেনে নিবেন নয়তো বিল চাইবে উল্টাপাল্টা।

এরপর আবার অটোরিক্সা নিয়ে চলে গেলাম ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি, লোকাল মানুষজন যদিও বলে বিদেশিদের বা খ্রিস্টানদের কবরস্থান।এটি একটি কমনওয়েলথ যুদ্ধ সমাধি।বার্মায় সংঘটিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যে ৪৫০০০ কমনওয়েলথ সৈনিক নিহত হন, তাদের স্মৃতি রক্ষার্থে বার্মা, আসাম এবং বাংলাদেশের ৯টি রণ সমাধিক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছে।
এখানে বেশ খানিকটা সময় কাটিয়ে আবার ক্যান্টনমেন্ট যেয়ে এশিয়া ট্রান্সপোর্ট নামের নন এসি বাসের টিকিট নিলাম ২৫০টাকা দিয়ে কারন কোনো এসিবাসের টিকিট ছিলো না। সব থেকে ভালো হতো যদি কুমিল্লা যেয়েই আগে ঢাকায় আসার টিকেট নিয়ে নিতাম অথবা কুমিল্লার শাসনগাছা যেয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিতাম। কিন্ত নন এসি বাস খারাপ ছিলো না শুধু সমস্যা একটাই ছিলো, ড্রাইভারের কাছে জীবনের থেকে সময়ের মূল্য বেশি। তাই পাগলের মত ওভারটেক করছিল। সকালে রওনা দিয়েছিলাম ৮ টায় আর বাসায় ফিরেছি রাত ৮ টায়। সময় না থাকায় রানীর কুঠি আর ধর্মসাগর দিঘি যাওয়া হয়নি। ওখানে ক্যান্টনমেন্ট থেকে যেতে সিএনজি ভাড়া লাগবে ৩০০ টাকার মত যেহেতু এই জায়গাগুলো শহরের দিকে।
আরো যেই জায়গাগুলো ঘুরে দেখতে পারেন তা হলো:
ইটাখোলা মূড়া
রূপবান মূড়া
চারপত্র মূড়া
কোটিলা মূড়া
আনন্দ বিহার
ভোজ বিহার

ঘুরতে গেলে সাথে অবশ্যই সানক্রিম,ছাতা,পানি আর স্ন্যাক্স জাতীয় খাবার নিবেন। আর যেকোনো জায়গার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা আমাদের সকলের কর্তব্য তাইনা??
সামনে আছে পূজার ছুটি। কাজেই ঘুরে আসুন কুমিল্লা থেকে। একদিনের ঘুরাঘুরির জন্য বেশ ভালো জায়গা।
হ্যাপি ট্রাভেলিং

Source: Sonia Zarin <Travelers of Bangladesh (ToB)

 

Share:

Leave a Comment

Shares