একাকী ভোলাগঞ্জ দর্শন

বিছনাকান্দি এবং জাফলং এ বার দুয়েক একাকী ভ্রমণ করেছি। কিন্তু একাকী ভোলাগঞ্জ যাওয়ার সৌভাগ্য হয়ে উঠেনি। গত দুইবার রাস্তা খারাপ এবং বন্যার কারণে চেষ্টা করেও যেতে পারিনি সাদাপাথর (অবশ্য বর্তমানে রাস্তা অনেক ভাল) । এর মাঝে বন্ধুরাও ব্যস্ত থাকায় যেতে অনীহা দেখায়। সেদিন শুক্রবারে হঠাৎ করেই ঠিক করলাম একা একাই যাবো দেখতে সাদা পাথর। যেমন ভাবা তেমনি কাজ। পরিকল্পনা মাফিক সকাল ১০ টায় হবিগঞ্জ থেকে সিলেট রুটের স্পেশাল বাসে চড়ে ঘণ্টা দেড়েকে মাঝে চলে গেলাম সিলেট। তারপরে সিলেটের আম্বরখানা থেকে ১৩০ টাকায় সিএনজি অটোরিকশা করে সোজা একদম ভোলাগঞ্জ ১০ নাম্বার ঘাটে গেলাম। সেখানে যাওয়ার আগে চিন্তায় ছিলাম নৌকা পাবো কি না। আর যদিও পাই তাহলে অন্য কোনো দলের সাক্ষাৎ পাবো কি না। ভাগ্য ভাল ছিল বলে একটা দলের সন্ধান পেয়ে যাই। আর অন্য দলের সাথে মিলে গিয়েছি বলেই জনপ্রতি ১০০ টাকা করে লেগেছে ( সাদাপাথর এর নৌকা ভাড়া ৮০০ টাকা নির্দিষ্ট করা আর এক নৌকায় ৮ জন উঠতে পারবে)। মিনিট পনেরোর ভিতরে কাংখিত সাদা পাথরে পৌঁছে গেলাম আর উপভোগ করলাম সেই চিরাচরিত সৌন্দর্য। ঘণ্টা খানেক সেখানে অতিবাহিত করে আবার ফিরে গেলাম নিজ শহরে।

কয়েকটা সাধারণ টিপস –

* আপনার হাতে যদি পর্যাপ্ত সময় থাকে তাহলে সিএনজি অটোরিকশায় না গিয়ে বাসে চলে যাবেন। সময় লাগবে ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট। যেখানে সিএনজি ভাড়া জনপ্রতি ১৩০ টাকা সেখানে বাস ভাড়া মাত্র ৬০ টাকা। আম্বরখানা থেকে সামান্য একটু হাটলেই মজুমদারী বাস স্ট্যান্ড থেকে ভোলাগঞ্জ এর বাস পেয়ে যাবেন।

* ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর এর আশেপাশে অনেক চিপস এর প্যাকেট, খালি বোতল এবং অন্যান্য ময়লা আবর্জনা ফেলে দেওয়া হয়েছে দেখলাম। এমনকি সাদা পাথরের মূল স্পটেও অনেকেই দুপুরের খাবার খেয়ে পানিতে ওয়ানটাইম গ্লাস, প্লেট এবং পানীয় বোতল ফেলে এসেছেন। যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। পর্যটন কেন্দ্রগুলো সুন্দর এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের কর্তব্য। তাই আমাদের দ্বারা যেন কোনো পর্যটন কেন্দ্র অপরিচ্ছন্ন না হয় সেটা খেয়াল রাখা দরকার।

*** আপনার চারপাশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন।

Source:  Rajib Gope<Travelers of Bangladesh (ToB)

 

Share:

Leave a Comment

Shares