কম খরচে ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর ট্যুর

ভোলাগঞ্জ মুগ্ধ করেছে আমাকে, আমি শিওর মুগ্ধ করবে আপনাকে ও। কোলাহল মুক্ত নিরিবিলি পরিবেশে যদি প্রকৃতি উপভোগ করতে চান, তাহলে ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর এর তুলনা কেবল এটি নিজেই। হাওরের পরিস্কার স্বচ্ছ পানি আপনার মন ভুলাতে বাধ্য করবে। আর মেঘলয় এর বিশাল বিশাল পাহাড়ের সাথে মেঘের ছন্দপতন খেলা উপভোগ করতে গিয়ে কখন যে সময় পেরিয়ে যাবে আপনি টের পাবেন না আমি নিশ্চিত। বাকিটা নিজের চোখে গিয়ে দেখে আসাই ভালো।

#ভ্রমন_বৃত্তান্ত: বহুদিনের শখ ছিলো সিলেট যাব। কিন্তু দিনটি যে এভাবে হুট করে চলে আসবে সেটি ভাবিনি। যাবার আগের দিন রাতে সিদ্ধান্ত নিলাম, দ্যান সকালে অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটতে গিয়ে দেখি টিকেট শেষ। স্টেশন এর কাছাকাছি থাকে এক বন্ধুকে কল দিয়ে বললাম টিকেট আছে কিনা গিয়ে দেখার জন্য। ভাগ্য ভালো, টিকেট পেলাম।

বন্ধুর কাছ থেকে টিকেট বুঝে নিয়ে আমরা দুজন আল্লাহর নাম নিয়ে উঠে পরলাম ৯.৫০ এর ট্রেনে। ভাগ্য টা এত ভালো, আল্লাহর অশেষ কৃপায় এ যাত্রায় রক্ষা পেয়ে গিয়েছিলাম কারন আমাদের পরের রাত ১২.০০ এর ট্রেন টাই এক্সিডেন্ট করে :'(

যাহোক, সকাল সকাল স্টেশন এ নেমে হাত মুখ ধুয়ে নাস্তা সেরে রিক্সা নিয়ে চলে গেলাম আম্বখানা পয়েন্টে। সকালের নীরব শহর মুদ্ধ করবে আপনাকে। এবার BRTC এর জন্য ওয়েট করার পালা। সাড়ে সাতটায় ও আসার নাম নেই। ততক্ষনে দেখি কিছু গ্রুপ হাজির হয়ে গেছে। তারপরে হুট করে এক লোক এসে বলল টিকেট কাটুন, প্রথম বাস ছাড়বে সাড়ে আট্টায়। হুড়মুড় করে টিকেট কেটে উঠে পরলাম দোতলায়।

একেবারে ঠিক সাড়ে আট্টায় বাস ছেড়ে দিলো। কিছুদূর না যেতেই দুইপাশে চলে আসলো উঁচুনিচু পাহাড়ি চা বাগান। রাতের জার্নির ক্লান্তি নিমিষে দূর হয়ে গেলো। বাগান পেরি দু ধারে বিস্তৃর্ন খোলা মাঠ। মাঠ পেরিয়ে এবার মেঘালয় এর উচু পাহার দূর থেকে একটু একটু উকি দিতে শুরু করল। বাস যতই সামনে এগুচ্ছে মনে হচ্ছে এইতো পাহাড় ছুয়ে ফেললাম।

বাস নামিয়ে দিলো একদম সাড়ে নয়টায় জিরো পয়েন্ট নৌকাঘাট। কড়া রোদ পরবে সেটা জেনেই ছাতা নিয়ে এসেছিলাম বলে রক্ষা। যাহোক, ওখানে যেতেই একটা গ্রুপ আমাদের বলল সাদাপাথর যাব কিনা। তখন তাদেএ সাথে মিল হয়ে উঠে পরলাম নৌকায়। পরিস্কার পানি দেখছি, ওরা গান ধরছে, সামনে বিশাল বিশাল পাহাড়। মনে হচ্ছিলো সারাটা জীবন যদি এভাবে পার করতে পারতাম। যাহোক, ২০ মিনিটেই পৌছেগেলাম সাদাপাথরে। নেমে পানি দেখে আর আনন্দ ধরে রাখা যাচ্ছিলোনা। এ যেনো সাজানো গোছানো সুইমিং পুল। আর রোদ ও ছিলো কড়া। গোছল সেরে নিলাম।

পাহাড়ের সাথে মেঘের বন্ধুত্ব দেখছি আনমনে। কি একটা যোগসূত্র যেনো আছে তাদের। 😌 দেখতে দেখে সময় পেরিয়ে গেলো। পুরো যায়গাটা ঘুরে দেখলাম। অসাধারণ সুন্দর। ছোট একটা মাচায় দেখলাম আবার ভাত রান্না করছে। রুই মাছ দিয়ে খেয়ে নিলাম ওখানেই। এবারে ফেরার পালা।

ফিরার পথে চা বাগান নেমে যেতাম। কিন্তু পাশের জনের আপত্তি তে আর নামা হলোনা। আম্বখানা গিয়ে রিক্সা নিয়ে চলে গেলাম মাজারে। ওখানে কিছুক্ষন কাটিয়ে চলে সিএনজি করে চলে গেলাম শাহ পরানের মাজারে। মাজার ঘুরে সাতরঙ এর চা খেয়ে লোকাল সিএনজি করে সোজা বাসস্টপ। এক্সিডেন্ট এর পরে ট্রেনে যাবার সাহস হয়নি আর। ওখানে খেয়ে দেয়ে উঠে পরলাম রাতের বাসে। দুই রাত একদিন কিভাবে গেলো কিছুই টের পেলাম না। 😌

যাতায়াত :
1) → ট্রেন/বাস নামাই দিবে সিলেটের কদমতলী(এনা/হানিফ/ইউনিক: ভাড়া ৪৮০) ট্রেনে ভাড়া:(শোভন চেয়ার ৩২০, শোভন: ২৬০)।
টিপস: ট্রেনে আসুন। খরচ কম এবং আরামদায়ক। দুইদিন আগেই টিকেট করে রাখুন। রাত সাড়ে দশটার ট্রেনে চলে আসুন কদমতলী।

২) → কদমতলী থেকে রিক্সা/লোকাল সিএনজি/রিজার্ভ সিএনজি সব কিছু পাবেন। রিক্সা নিয়ে চলে আসুন আম্বরখানা সিএনজি স্টেশন। (ভাড়া ৫০ টাকা)

৩) → সিএনজি পাবেন ভোলোগঞ্জ এর। জনপ্রতি ১৫০ করে। নামবেন ভোলাগঞ্জ জিরো পয়েন্ট/সাদাপাথর নৌকাঘাট।

টিপস: সিএনজি তে উঠার কোনো দরকার নাই। স্টেশন থেকে ৩০ সেকেন্ড সামনে হাটলে BRTC কাউন্টার পাবেন। ৬০ টাকা জন প্রতি টিকেট কেটে দোতলায় উঠে পরুন। চা বাগান দেখতে দেখতে আপনাকে মাত্র ১ ঘন্টার ভিতরেই ভোলাগঞ্জ নৌকাঘাট নামায়া দিবে। BRTC সকাল ৭ টায় ছাড়ার কথা থাকলে ও আমাদের সময় ছেড়েছিলো সকাল ৮.৩০ এ। তারপরে আর থামাথামি নাই 😌

৪) → ঘাট থেকে নৌকা পাবেন। ভাড়া ফিক্সড। সাদাপাথর আসা যাওয়া ৮০০ টাকা। সময় দিবে দুইঘন্টা। এক নৌকায় আটজন বসা যাবে।

টিপস: আমরা গিয়েছিলাম দুইজন। পরে আরো সাত জনের একটা গ্রুপের সাথে কানেক্ট হয়ে তারপর নৌকা ঠিক করি।।

৫) → যেভাবে গেছেন, ফিরবেন ও সেভাবে। অবশ্যই ফিরার টাইমে বিমানবন্দর রোড চা বাগানে নেমে যাবেন। চা বাগান দেখে আম্বরখানা চলে আসবেন। শাহজালাল মাজার কাছেই। টু মেরে আসতে পারেন। শাহজালাল মাজার থেকে ৩০ টাকা করে লোকাল সিএনজি যায় শাহপরান মাজারে। মাজারের সাথেই পাবেন সাতরং এ চা। মাঝার ঘুরে লোকাল সিএনজি পাবেন বাসস্ট্যান্ড/ট্রেন স্টপেজ এর। ভাড়া জনপ্রতি ৪০ টাকা।

খরচ: আমরা দুইজন গিয়েছিলাম। জনপ্রতি হিসেব দিচ্ছি এখানে।
ঢাকা-সিলেট ট্রেন: ৩২০
সকালের নাস্তা: ৫০
রিক্সাভাড়া: ৫০
BRTC: 60+60(আসা যাওয়া)
নৌকাভাড়া: ১০০
দুপুরের খাবার: ১০০
আম্বখানা-শাহজালাল: ২৫
শাহজাল-শাহপরান: ৩০
শাহপরান – বাসস্ট্যান্ড: ৪০
রাতের খাবার: ১৫০
বাসের টিকেট: ৪৮০
চা,পানির বোতল, অন্যান্য: ১৫০
টুটাল: 1620 টাকা(per person)

বিঃদ্রঃ পরিচ্ছন্ন একটা যায়গা ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর। দয়া করে এখানে সেখানে ময়লা চিপস এর প্যাকেট ফেলে পরিবেশ নোংরা করবেন না। দেশ আমার, পরিচ্ছন্ন রাখার দ্বায়িত্ব ও আমার। ধন্যবাদ সবাইকে। হ্যাপি ট্রাভেলিং..!

Source: Abdullah Imran<Travelers of Bangladesh (ToB)

Share:

Leave a Comment

Shares