ঘুরে আসুন সিঙ্গাপুরের পাঁচটি স্বর্গীয় দ্বীপ থেকে

আপনি যদি সিঙ্গাপুরের আরো গভীর অঞ্চলগুলোতে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন এবং ইতোমধ্যে যদি আপনি দক্ষিণের দ্বীপপুঞ্জগুলো ঘুরে থাকেন তবে এবার আপনার জন্য রয়েছে একটু আলাদা চমক। ছোট একটি দেশ হিসেবে সিঙ্গাপুরে শুধু উন্নত শহর দেখেই পুরো সিঙ্গাপুর ঘোরার আনন্দ পাওয়া যায় না। এর জন্য সিঙ্গাপুরের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো ঘোরা খুবই জরুরী। এজন্য থাকতে হবে পর্যাপ্ত টাকা পয়সা এবং পর্যাপ্ত পরিকল্পনা।

পরিকল্পনা ছাড়া এ দ্বীপপুঞ্জগুলো ঘোরা একদম অনর্থক বলেই মনে হয় আমার। শুধুমাত্র সিঙ্গাপুরের জীবনযাপনই কখনো থেমে থাকে না। কোথাও কোথাও খুবই উন্নত আর দ্বীপগুলো সাধারণত একটু অনুন্নত। কিন্তু এই অনুন্নত অঞ্চলেও রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ আধার। তাই সিঙ্গাপুর ভ্রমণ শেষে কেউ যদি মনে করেন সবকিছু ঘোরা শেষ হয়ে গেছে তবে তার ধারণা ভুল হবে।

শহরের অন্যদিকে রয়েছে এক্সপ্লোর করার মতো আরো বেশ কয়েকটি দ্বীপ। যেগুলো অনুসন্ধানের জন্য আপনি জমিয়ে কটা দিন কাটিয়ে দিতে পারেন। আপনি যখন সিঙ্গাপুরে আসবেন তখন থেমে থাকবেন না। সিঙ্গাপুরের এক একটি অঞ্চল আপনাকে উপহার দেবে এক এক রকম অভিজ্ঞতা। আর এতে আপনার ভ্রমণ হয়ে উঠবে অত্যন্ত স্মৃতিময়। সিঙ্গাপুরের দ্বীপগুলো সিঙ্গাপুর থেকে খুব বেশি দূরে না হলেও এগুলো মূলত ইন্দোনেশিয়ার অধীনে আছে। কিন্তু ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই সে সিঙ্গাপুর থেকেই হোক আর ইন্দোনেশিয়া থেকে হোক।
তবে ভ্রমণের সময় সব সময় সচেতন এবং সতর্ক থাকাই ভালো। যদি কোনো কোনো দ্বীপে যেতে পারমিশনের প্রয়োজন হয় তবে অবশ্যই সেই পারমিশন যথাযথ জায়গা থেকে সংগ্রহ করার চেষ্টা করতে হবে। এটি না হলে হয়তো আপনার সারাদিনের পরিকল্পনাটি একটি পারমিশনের জন্য ভেস্তে যেতে পারে। আসুন এবার দ্বীপগুলো সম্পর্কে কিছু জানি।

পুলু লায়ং-লেয়াং:
ডাইভারদের কাছে জনপ্রিয় অন্যতম একটি দ্বীপ এটি। বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক জীবন অনুসন্ধান করা যায় এই দ্বীপে খুব কম সময়েই। দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থিত মালয়েশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এই উপনিবেশে চলে এসেছে এই দ্বীপটি। কিন্তু এই অঞ্চলের স্বর্গ বলা হয় এই দ্বীপটিকে। এখানে এসে ডিপ সি ডাইভিংয়ের সাথে উপভোগ করতে পারবেন গভীর সমুদ্রের প্রাচীন প্রবাল আর জলের গভীরের জীবন। সিঙ্গাপুরের কিনাবলু থেকে ফ্লাইটে করে আসতে হয় এখানে। তবে আসার সময় ফেরার ফ্লাইটের টিকেট নিশ্চিত করেই আসা উত্তম।

পুলু লিংগা:
জনসাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরের এই দ্বীপের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে পাহাড়ের উপর থেকে নেমে আসা বিশাল ঝর্ণা। উঁচু পাহাড় থেকে নেমে এসেছে দ্বীপের নিচের দিকে এবং এই সুন্দর চকচকে জল অনেক দূর থেকে প্রতিফলিত হয়ে দর্শকের চোখে এক অন্যরকম শোভার সৃষ্টি করে। এই জল মূলত প্রবাহিত হয় শীতকাল আসা পর্যন্ত। নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত আপনি ঝর্ণার উৎসব দেখতে পাবেন। এই উৎসবটি মূলত কোনো মানুষের উৎসব নয় বরং এই ঝর্ণাকে সাজিয়ে এমন একটি রূপ দেওয়া হয়েছে যেটাকে দেখলে মনে হবে যেন একটি উৎসব ঘনিয়ে আসছে।

এই স্বচ্ছ পানির ঝর্ণার আশেপাশে আপনি হয়তো কোথাও তাবু গেড়ে অথবা কোনো রিসোর্টে থাকতে পারবেন অনায়াসে। তাই সিঙ্গাপুর ভ্রমণের সময় এই দ্বীপটি ভ্রমণ আপনার জন্য হতে পারে জীবনের অন্যতম একটি অধ্যায়। এখানে যেতে পারবেন তানজুং পিংয়ের মাথা থেকে সরাসরি যেকোনো ফেরীতে করে।

পুলু নিকই:
আপনি যদি স্থল ভাগে একটি সুন্দর রিসোর্টের সাথে সমুদ্রের নিচে আন্ডার ওয়াটার অ্যাডভেঞ্চারগুলো করতে চান, তাহলে এই দ্বীপটি আপনার জন্য একেবারে উপযুক্ত। এই দ্বীপে রয়েছে সোলার প্যানেল যুক্ত বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা এবং বেশ কিছু থাকার জায়গা। যেখানে আপনি সকল ধরনের বৈদ্যুতিক সুবিধার পাশাপাশি অসুস্থ হয়ে গেলে চিকিৎসা সেবা পর্যন্ত পেতে পারেন।

সুন্দর দ্বীপটিতে এছাড়া রয়েছে বেশ কিছু বার, ক্লাব এবং রিসোর্ট। যেগুলোতে আপনি একা অথবা আপনার সঙ্গীদেরকে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন যেকোনো সময়। এখানে আসলে সমুদ্র এবং দ্বীপের বন ও পরিবেশ আপনাকে একটু সময়ের জন্য হলেও মুগ্ধ করে রাখবে। বিন্টন থেকে ফেরীতে বিশ মিনিট সময়ের মধ্যে এই দ্বীপে চলে আসা যায়।

পুলু বাওয়াহ:
ক্রান্তীয় অঞ্চলের স্বর্গের মতো পোস্ট কার্ডগুলোতে আপনি প্রায়শই হয়তো দেখে থাকবেন কিছু আশ্চর্য দ্বীপ। এটি অন্য কোনো দ্বীপ নয় ইন্দোনেশিয়ান উপকূলে পুলু বাওয়াহ নামে দ্বীপের দৃশ্য এটি। জলের উজ্জ্বলতা এবং স্বচ্ছতা এতটাই বেশি যে নিচের প্রবাল সহ সামুদ্রিক বন্যপ্রাণী দেখার জন্য পানির নিচে ডুব দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। শুধুমাত্র সাঁতার কেটেই স্কুবা ডাইভিং উপভোগ করা যায়। এই স্কুবা ডাইভ করতে শারীরিক কসরতের দরকার পড়ে না।

উপকূলের ধার দিয়ে হাঁটলেই শুধুমাত্র দেখেই আপনি অবাক হয়ে যাবেন। সারা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমনার্থীরা এখানে আসেন স্কুবা ডাইভিং করতে। এই সমুদ্রের স্বচ্ছ জলে স্কুবা ডাইভিং করে সমুদ্রের তলদেশে যে অন্যরকম একটা পৃথিবী রয়েছে সেই পৃথিবী দেখতে কার-ই বা ইচ্ছা না হয়! তাই আপনিও চলে আসুন এবং উপভোগ করুন ক্রান্তীয় মহাসমুদ্রের তলদেশের এই সৌন্দর্য। বিনতেনের তনজুং পিং থেকে একটি ফেরি করে আপনি সরাসরি এই দ্বীপে চলে আসতে পারেন।

পুলু বেনান:
এই দ্বীপটি মূলত আইডিলিক উপদ্বীপ অঞ্চলে অবস্থিত। এই দ্বীপের জনসংখ্যা ঐতিহ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কমে এবং বাড়ে। সাধারণত এই দ্বীপের স্থানীয়দের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং তাদের পারফরম্যান্স দেখার জন্য সকলে এসে থাকেন। বছরের বিভিন্ন সময়ে এখানে আয়োজন করা হয় নাচ, গান এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। যে অনুষ্ঠানগুলো সাধারণত রঙে রঙে বর্নিল হয়ে থাকে। আর সেই বর্ণিল রঙে আপনার মন কখন রঙিন হয়ে যাবে সেটি আপনি বুঝতে পারবেন এই দ্বীপে আসলেই।

এছাড়া এখানে রয়েছে সামুদ্রিক পরিবেশ বেঁচে থাকার মতো বেশ কিছু সুযোগ সুবিধা। উপভোগ করতে পারবেন এখানকার স্থানীয় মানুষরা কীভাবে জীবন যাপন করে। ইচ্ছে করলে সে জীবনের স্বাদ নিতে পারেন। এছাড়া সামুদ্রিক মাছ শিকার থেকে শুরু করে বারবিকিউ পর্যন্ত সবকিছুই আপনি এখানে করতে পারবেন অনায়াসে। নৌকায় করে দ্বীপের চারপাশটা ভালোভাবে ঘুরে দেখা যায় খুব অল্প সময়েই। কিন্তু এখানকার নিয়ম অনুযায়ী সমুদ্র সৈকতে আপনাকে কখনোই দীর্ঘ সময়ের জন্য অবস্থান করতে দেওয়া হবে না। তাই অল্প সময় নিয়ে হলেও এখান থেকে ঘুরে ফিরে আসতে পারেন।

Share:

Leave a Comment

Shares
error: Content is protected !! --vromonkari.com