চট্রগ্রাম থেকে কুতুবদিয়া দ্বীপ যাবার উপায় ও খরচাবলি

১.চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট বাস স্ট্যান্ড কিংবা নতুন ব্রিজের বাস স্ট্যান্ড থেকে চকরিয়ায়/কক্সবাজার গামী যে কোন বাসে করেই চকরিয়া যাওয়া যায়। তবে জে.বি. এক্সপ্রেস, এস আলম কিংবা সৌদিয়া ডাইরেক্ট বাসে যাওয়া ভালো। ১৫০-১৮০ টাকা বাস ভাড়ায় চকরিয়া যেতে সময় লাগবে প্রায় আড়াই থেকে প্রায় তিন ঘন্টার মত। চকরিয়া বাস স্ট্যান্ড থেকে লোকাল সিএনজি করে জনপ্রতি ৬০-৮০ টাকা ভাড়ায় (রিজার্ভ ২৮০-৩২০ টাকা) মগনামা ঘাটে যেতে হবে। সময় লাগবে আনুমানিক ৪০-৫০ মিনিট। মগনামা ঘাট থেকে ডেনিস বোটে করে বড়ঘোপ ঘাট ভাড়া ৪০ টাকা সর্বোচ্চ, স্পিড বোট এ বেশি ভাড়া।মেবি ৭০টাকা মনে হয়।

আরেক উপায়..
*২.চট্টগ্রাম রেল স্টেশন থেকে ২ নং বাস এ করে যাওয়া যায় বদ্দারহাট বাস টার্মিনাল এ!বাস টার্মিনাল থেকে বাসখালী সুপার ( অন্য আরও বাস আছে তবে এটা সবথেকে ভালো) বাসে করে মগনামা ঘাট,ভাড়া ১৫০ টাকা প্রায় ৪ ঘন্টা লাগে।মগনামা ঘাট থেকে ডেনিস বোটে করে বড়ঘোপ ঘাট ভাড়া ৪০ টাকা সর্বোচ্চ,

আরেক উপায়..
**৩চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গা বাজার ব্রীজঘাট থেকে সকাল ৬ঃ৩০/৭টায় জনপ্রতি ১০০ টাকায় ইঞ্জিন কাঠ বোটে সরাসরি কুতুবদিয়া দ্বীপের বড়ঘোপ ঘাঠে যাওয়া যায়।

আরেক উপায়..
*৪.এছাড়া চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ থেকে সিএনজি দিয়ে জনপ্রতি ১৮০ টাকা ভাড়ায় ২-৩ ঘন্টা সময়ে যেতে পারবেন মগনামা ঘাট।মগনামা ঘাট থেকে ডেনিস বোটে করে বড়ঘোপ ঘাট ভাড়া ৪০ টাকা সর্বোচ্চ

তাই অনেকে বলে একে বাংলাদেশের ভার্জিন সী বীচ অথবা প্রাইভেট সী বীচ বলে।লাইট হাউস বিচ একদম পরিস্কার একটা বীচ এই বীচে আপনি বিন্দু পরিমান কাগজ অথবা প্লাস্টিকের কোন টুকরাও চোখে পড়বে না। বরং পড়বে দূরে ভাসমান নোঙ্গর করা বিশাল বিশাল জাহাজ, চোখে পড়বে লাল কাঁকড়াদের স্বাধীন ভাবে ছুটোছুটি, জেলেদের আনাগোনা এবং এক বিশাল জলরাশি। মনে হবে নিজের কেনা কোন এক ভূখণ্ড। যেখানে শুধুই আপনি

আসি কিভাবে ঘুরবেন:
১ম দিনঃ‌‌-
আমরা ব্রাক্ষণবাড়িয়া থেকে গিয়েছিলাম
ব্রাক্ষণবাড়িয়া থেকে রাতে ১১টার ট্রেনে মহানগর এক্সপ্রেস চট্রগ্রাম পৌঁছায় ভোর ৫টায় তারপর নাস্তা করি।ইস্টেশন সামনে থেকে কাওকে জিজ্ঞেস করলে বলে দিবে নতুন ব্রীজ মোড় যেতে হলে কোথায় থেকে সি,এন,জি পাওয়া যায় ইস্টেশন থেকে হাতের ডানে ৪/৫ মিনিট হাটলে পেয়ে যাবেন সি,এন,জি অনেক গুলা দাড়িয়ে আছে জনপ্রতি ১০টাকায় নতুন ব্রীজ মোড়ে যাই।নতুন ব্রীজ মোড় থেকে আবার সি এন জি করে জনপ্রতি ১৮০টাকা ২ঘন্টা ৩০মি.ভিতর চলে যাই মাগনামা ঘাট।মাগনামা ঘাট থেকে বোডে জনপ্রতি ৪০টাকা করে চলে যাই বড়ঘোপ ঘাট ৩০মি. মত লাগে(এই দ্বীপে ঘাট দুইটা একটা বড়ঘোপ ঘাট আর একটা দরবার ঘাট আপনি বোডে ওঠার সময় বলতে হবে বড়ঘোপ ঘাটে যাবো)
বড়ঘোপ ঘাট থেকে অটো অাছে জনপ্রতি ১৫ টাকা নিছে হোটেল সমুদ্র বিলাস পর্যন্ত।হোটেল সমুদ্র বিলাস পাশেই ডাক বাংলো তে থাকার ব্যবস্থা আছে ৪জন থাকার জন্য ৪০০/৫০০মত নিবে।এখানে ৪জনের রুম সব গুলা।

আমরা প্রথমে ডাক বাংলো তে গিয়েছিলাম ৪জনের জন্য চাইছে ৫০০ তারপর আর কিছু বলি নাই কারণ আমাদের ৪ জনের মধ্য কারো ই রুম দেখে তেমন ভালো লাগে নাই।দামাদামি করলে ৪০০ ভিতর দিয়ে দিত আমার যা মনে হয়ছে।যারা কমের মধ্য থাকতে চান এই দাম অনুযায়ী তেমন খারাপ না থাকতে পারেন।যখন যাবেন থাকার ইচ্ছা থাকলে রুম গুলা দেখতে পারেন।যাইহক,আমরা ছিলাম হোটেল সমুদ্র বিলাস।হোটেলের মেনেজার ভাড়া ১৫০০ টাকা চাইছে অনেক কথা বলে স্টুডেন্ট এই সেই বলে ১২০০ টাকা তে রাজি করাইছি অনেক কষ্টে(এক রুমে ২বেড ৪জন থাকা যাবে)হোটালে রুমে যখন যাই তখন ৯টা মত বাজে।অনেক ক্লান্ত তখন তারপর রুমে ব্যাগ রেখে গোসল দিতে চলে গেলাম সমুদ্র পাড় হোটেলের পাশে বিচ।গোসল দিয়ে রুমে এসে আবার বাথরুমে গোসল দিয়ে ফ্রেস হয়ে তারপর অনেক খিদা লাগছে দুপুর খাবার টা তখন খেয়ে নেয় তখন বাজে মেবি ১১টা।

তারপ ক্লান্ত শীরলে একটা ঘুম দেয়। ঘুম থেকে ওঠে বিকালে চলে গিয়েছিলাম বায়ু বিদ্যুৎ সী-বীচ।সমুদ্র বিলাস হোটেল টা ছিল বড়ঘোপ বাজারে বিচের পাশে।বড়ঘোপ বাজার থেকে ৩০-৪০ টাকা রিক্সা ভাড়ায় কিংবা ৫-১০ টাকা টেম্পু ভাড়ায় বায়ু বিদ্যুৎ যাওয়া যাবে।আমরা টেম্পু করে গিয়েছিলাম বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাথেই আছে বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সী-বীচ। বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় কাটানোর সব চেয়ে সুন্দর বীচ মনে হয় এইটাই। তারপর সন্ধ্যা যখন হয়ে যাচ্ছে তখন বিচ ধরে হাটতে হাটতে চলে আসলাম হোটেলে তখন রাত হয়ে গেছে।রাতে খাবার খেয়ে তারপর হোটেলের সাদে বসে গান আড্ডা সাথে চাঁদের আলো সমুদ্র দেখা😍 সে এক অন্য রকম ভাল লাগা। রাত ২টা পর্যন্ত ছিলাম।

আর রাতে মন চাইলে হোটেল থেকে সামনে বিচ মানে বড়ঘোপ বীচে হাটতে পারেন( তবে কুকুর ভয় পাবেন না ঐখানে প্রচুর কুকুর তবে ওরা অনেক ফ্রেন্ডলি কিচ্ছু করবেনা আপনাকে) জাহাজের লাল হলুদ বাতি জ্বলতেছে দেখতে দেখতে হারিয়ে যাবেন তারা ভরা আকাশ আর সমুদ্রের এক অমায়িক সৌন্দর্যের মধুর😍
মনে রাখা ভাল কুতুবদিয়া রাত ১০/১১ টার পড় সকল দোকান বন্ধ হয়ে যায়। তাই এই টাইমে বেড় হইলে একা বেড় হবেন না। যদিও নিরাপত্তা কোন সমস্যা নাই,তবে সমস্যা কথা বলা যায় নাহ সাবধান থাকা ভাল।

2য় দিনঃ
প্লান ছিল ভোরে ঘুম থেকে উঠে হোটেল সাদ থেকে সূর্য উদয় দেখবো বাট দেখা হল নাহ ঘুমের কারনে😓।এই হোটেলের সাদ থেকে সমুদ্র দেখা যায়।হোটেল সাদ থেকে ভিউ টা জুস লাগে।পরে ঘুম থেকে ওঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করি এই হোটেল রেস্টুরেন্ট থেকে তারপর রেডি হয়ে যাই লাইট হাউস বিচ দেখতে হোটেলের ডান পাশ দিয়া বিচ ধরে হাটলে যাওয়া যায় লাইট হাউস বিচ। হোটেল থেকে নামার সময় এক লোক কে জিঙ্গাস করলাম লাইট হাউস বিচে যেতে কতখন লাগবে হেটে গেলে বললো ৩০মি. আমার বিশ্বাস হয় নাই আমার তথ্য মতে আরো বেশি সময় লাগবে পরে আরেক জনকে জিজ্ঞাস করলাম বলছে তারা তারি হাটলে ১ঘন্টা লাগবে তারপরে হাটা ধরলাম বিচের ডান পাশ দিয়ে ৪০মি.মত হাটার পর ঝাউ বনের দেখা পেলাম বাট লাইট হাউস বিচ দেখা পাই নাহ পরে ঝাউ বনের এখানে কিছু লোক কাজ করতেছিল তাদের জিঙ্গাস করলাম ঝাউবন থেকে কতখন লাগবে ওনারা বললো আর ১ঘন্টা লাগবে হেটে গেলে পরে আর যাওয়া হয় নাই।আমার মনে হয় সব মিলিয়ে হোটেল থেকে ২ঘন্টা মত সময় লাগবে যাইতে তারা তারি হাটলে।

এই দ্বীপ টা অনেক বড়।বাউবনে ছবি তুলে সময় কাটিয়ে রুমে ফিরে আসি তখন ১২টা বাজে।তারপর দুপুর খাবার টা ছেড়ে ফেলি এর কিছুক্ষন পর বৃষ্টি শুরু একদিকে অসুবিধা(অসুবিধা টা হলো এইদিন ফিরতে হবে বিকাল মধ্য) আরেকদিকে ভাল। এই প্রথম সমুদ্র দেখতে এসে বৃষ্টি মামা দেখা পেলাম তারপর হোটেল এর রেস্টুরেন্ট বড় বারেন্দা বসে বৃষ্টি উপভোগ😍….

সে এক অন্য রকম ভালো লাগা তারপর অনেকক্ষণ অপেক্ষা পর বৃষ্টি কমলো ৪টার দিকে বের হলাম আসার জন্য হোটেল পাশ থেকে জনপ্রতি ১৫টাকা অটো দিয়ে বড়ঘোপ ঘাটে আসি।তারপর ঘাট থেকে বোটে করে ৪০টাকা জনপ্রতি মাগনাম ঘাট যাই।তারপর মাগনামা ঘাট থেকে ২মিনিট হাটলেই সি,এন,জি বা বাস পাবেন বৃষ্টি দিন ছিল তারা তারি অন্ধকার হয়ে যাচ্ছিল তাই বাস দিয়ে ডাইরেক নতুন ব্রিজ মোড় আসি জনপ্রতি ১৫০টাকা করে বাস নাম (স্টার লাইন) ৩ঘন্টা লাগছে আসতে।সি এন জি দিয়া আসি নাই সন্ধা হয়ে গেছে সি এন জি দিয়া আসলে কোন সমস্যা হলে রাস্তায় অনেক দূর জার্নি।নতুন ব্রীজ থেকে ইস্টেশন যাই সি এন জি দিয়ে ১০টাকা।তারপর নাস্তা করলাম ইস্টেশন পাশে হোটেল থেকে।আমাদের ট্রেন ছিল রাত ১১টায় নিশিতা ট্রেন ছাড়তে অনেক সময় বাকি তাই আড্ডা দিয়ে সময় পার করলাম ট্রেনের ছাড়া সময় হলো ট্রেনে ওঠলাম ভোরে ব্রাক্ষণবাড়িয়া নিজের শহরে আইসা পৌঁছায়লাম😍

সমুদ্র বিলাসে হোটেলের কিছু সুবিধা
**হোটেলের রেস্টুরেন্ট খাবার মান অনেক ভাল এই দ্বীপে আর এইটার মত কোন (হোটেল+রেস্টুরেন্ট) নাই।পর্যটক কম বিদায় এইটার মত তেমন হোটেল গড়ে ওঠে নি আর কিছু হোটেল আছে যে গুলা এইটার মত মান ব্যবস্থা নাহ।তারপর আপনারা ঘুরে ঘুরে দেখবেন কোথায় কমের মধ্য ভাল খাবার পাওয়া যায়।এইটার আশেপাশেই আরো খাবার হোটেল আছে বিসমিল্লাহ হোটেল,নিউ আল মদিনা হোটেল কাওকে বললে দেখিয়ে দিবে..
**এই হোটেলের রেস্টুরেন্ট ফিন্নি টা ক্ষেতে ভুলবেন নাহ আমরা যতবেলা খাবার খেয়েছি খাবার পর ফিন্নি টা মিস করি নাই।ফিন্নি খাইসি আর বারেন্দা বসে সমুদ্র উপভোগ করছি
**এই হোটেল রেস্টুরেন্ট থেকে আপনি সমুদ্র দেখতে পারবেন খুব কাছ থেকে।এই রেস্টুরেন্টে দুইটা বারেন্দা মত অনেক বড় করে বসার জায়গা আছে বসে (আড্ডা+সমুদ্র) দেখা যায় যা ২/৩ ঘন্টা পার করে দেওয়া যাবে আনা আইসে।
আরো কিছু তথ্যঃ-
বড়ঘোপ বাজার থেকে ডান দিকে হেটে ১০ কি.মি পথ ২-৩ ঘন্টা হেটে যেতে পারেন লাইট হাউজে!

অথবা,..**ভেংগে ভেংগে গেলে..
বড়ঘোপ বাজার থেকে ধুরং বাজার জনপ্রতি ২০ টাকা তারপর আবার ধুরং থেকে লাইট হাউজ বা বাত্তিঘর ১০ টাকা জনপ্রতি! রিক্সা, সিএন জি থেকে নেমে যে কাওকে জিজ্ঞেস করলে লাইট হাউজ বীচটা দেখিয়ে দিবে!
আর ব্যাক করার সময় লাইট হাউজ থেকে বড়ঘোপ ৩/৪ জনের রিকশা তে ১২০টাকা নিতে পারে

খরচ…
খাবার খরচ টা দিলাম না কারন খাবার টা নিজের চাহিদা অনুযায়ী ডিপেন্ট করে আনুমানিক একটা খরচ দিলাম এই দামে খাবার হয়ে যাবে সুন্দর করে।
সকালের নাস্তাঃ-৪০/৫০
দুপুরের খাবারঃ-১২০/১৫০
রাতের খাবারঃ-১২০/১৩০
আমরা ৪জন ছিলাম আমাদের জনপ্রতি মোট খরচ হয়েছে ১৭৫০ টাকা।

বি.দ্র.ঃ ভ্রমণে গিয়ে কোথাও কোন ময়লা আবর্জনা ফেলে আসবেন না।ময়লা আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার অভ্যাস করুন।এছাড়া ভ্রমণে গিয়ে বিরানি খেয়ে বিরানীর প্যাকেট আর পানির বোতল ফেলে আসা থেকে বিরত থাকুন।

Source: শাহরিয়ার হোসাইন‎>Travelers of Bangladesh (ToB)

Share:

Leave a Comment

Shares