জুরাছড়ি, রাঙামাটি পাহাড় ঘেরা মনোমুগ্ধকর জলরাশি

যাদের ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য , থাইল্যান্ড, বা মালদ্বীপের বিখ্যাত পাহাড় ঘেরা মনোমুগ্ধকর জলরাশি দেখার সুযোগ হয়নি তারা সেই সৌন্দর্য দেখতে পাবেন রাঙামাটির গহীনের সৌন্দর্য জুরাছড়িতে। পাহাড় তলায় জলের শরীরে বুক পর্যন্ত ডুবে থাকা জুরাছড়ির অপরূপ রূপ অনেক পর্যটকদের চোখের আড়ালেই রয়ে গেছে। অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি এ স্থানটি না দেখলে আপনার রাঙামাটি ভ্রমণ হবে অসম্পূর্ণ।

রাঙামাটি সদর থেকে ৫৭ কিলোমিটার দূরে জুরাছড়ির অবস্থান। জুরাছড়ি নামের ঝর্ণা থেকে এই উপজেলার নামকরণ করা হয়েছে। ‘জুর’ শব্দের অর্থ ঠাণ্ডা আর ‘ছড়ি’ শব্দের অর্থ ছড়া বা ঝরণা । জুরাছড়ির এক পাশে ওই দূর পাহাড় থেকে নেমে আসা বৃক্ষরাজী। অন্য পাশে কাপ্তাই হ্রদের নীরব জলে ঝিরি ঝিরি বাতাসের মিতালী মানুষের ঘুমন্ত সৌন্দর্যবোধকে এক ঝাঁকিতে জাগিয়ে তোলে। কোথায় যেন হারিয়ে যেতে চায় মন। যেন ডাক দিয়ে যায় ‘বাহির পানে’। এই এলাকার একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম হলো নৌপথ।

প্রায় ২৭ হাজার লোকের বসতি এই জুরাছড়ি উপজেলায়। এদের অধিকাংশই চাকমা সম্প্রদায়ের। এ ছাড়া রয়েছে মুসলমান, হিন্দু, রাখাইন, মারমা, তংচ্যাংগা, প্যাংকো, ত্রিপুরা, কিয়াং, মরুং ও বোম সম্প্রদায়ের বসবাস। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি জুরাছড়ির সৌন্দর্যের অন্যতম অনুষঙ্গ।

জুরাছড়ি উপজেলা কমপ্লেক্সের পাশেই রয়েছে আর্মি ক্যাম্প। তাছাড়া জুরাছড়ি থানার পুলিশ পযর্টকদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য সার্বক্ষণিক প্রস্তুত। যে কোনো প্রয়োজনে ছুটে আসেন তারা।

রাঙ্গামাটি শহর থেকে জুরাছড়ি যোগাযোগ ব্যবস্থাও মোটামুটি সন্তোষজনক।
জুরাছড়ি থাকার তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। খাওয়ার জন্যও আধুনিক কোনো রেস্তোরাঁ গড়ে ওঠেনি। তবে উপজেলা কমপ্লেক্সের পাশে মোহম্মদ আলী হোটেলে সুস্বাদু খাবার মেলে। দামও কম।
যেহেতু থাকার কোনো ব্যবস্থা নেই, সেহেতু দিন যেয়ে দিনেই ফিরে আসতে হবে রাঙ্গামাটি শহরে। এ জন্য দুপুর দেড়টা ও রাত সাড়ে ৮টায় ফিরতি বোট ধরতে হবে।

Share:

Leave a Comment

Shares