ডিবির হাওর, জৈন্তাপুর, সিলেট যেভাবে যাবেন

গতবছর একটা ওয়েবসাইটে এখানকার একটা ছবি দেখেই মনে মনে প্ল্যান করে রেখেছিলাম এবছর এখানে আসার চেষ্টা করবোই। যখন ছবিটা দেখি তখন মাত্র এখানে শাপলার সিজন শেষ হয়েছে। তাই একবছর অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় ছিলোনা। এদেশে অবশ্য শাপলার বিলের অভাব নেই৷ তবে যারা ঘুরতে পছন্দ করেন তাদের কাছে দেশের মধ্যে শাপলা দেখার জন্য দুইটা জায়গা বেশ পছন্দের। একটা বরিশালের উজিরপুরের শাতলা নামক গ্রামে, আরেকটা সিলেটের জৈন্তাপুরে। শাতলায় শাপলা থাকে বর্ষায় আর জৈন্তাপুরে শীতে।

শীত আসতেই জৈন্তাপুরে যাবো যাবো করছিলাম কিছুদিন ধরেই। ঠিক সেই সময়েই সিলেটে ব্যাচমেট-কলিগের বিয়ের দাওয়াত পেয়ে গেলাম। এমন সুযোগ হাতছাড়া করার বোকামি করতে চাইনি। শেষমেশ ডিসেম্বরের ১৫ তারিখ বিয়েতে এটেন্ড করে ১৬ই ডিসেম্বর একদম সকালেই রওনা দিলাম সিলেট থেকে ৪২ কি.মি. দূরের জৈন্তাপুরে। সাথে ছিলো আরো ৪ জন। সিলেট-তামাবিল সড়ক ধরে জৈন্তাপুর বাজার পেরিয়ে একটু এগোলেই হাতের ডানে একটা সাইনবোর্ড চোখে পড়ে যেখানে লেখা ডিবির হাওড় বিশেষ বিজিবি ক্যাম্প। সেই রাস্তা ধরে এক কি.মি. গেলেই চোখে পড়বে লাখ লাখ শাপলায় ছেয়ে থাকা ডিবির হাওর। জায়গাটা ঠিক বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে। তাই মেঘালয়ের পাহাড়গুলো যায়গাটার সৌন্দর্য্য বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুন। এখানেই ডিবির হাওর নিজেকে আলাদা করেছে শাতলার চেয়ে।

জৈন্তা রাজ্যের রাজা রাম সিংহের স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই ডিবির হাওরে। উনাকে এই হাওরে ডুবিয়ে মারা হয়েছিলো। হাওরের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে রাজা রাম সিংহের স্মৃতি বিজড়িত প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো জীর্ন একটি মন্দির।

ডিবির হাওরে শাপলা থাকে মোটামুটি ৩/৪ মাস। নভেম্বর-জানুয়ারি গেলেই দেখা মিলবে এই অপরূপ সৌন্দর্য্যের। তবে এজন্য যেতে হবে একদম সকাল সকাল। সূর্যের আলো শাপলার গায়ে পড়লে আস্তে আস্তে ফুলগুলোর পাপড়ি বন্ধ হয়ে যায়।

সিলেট থেকে এখানে পৌছানো যায় ঘন্টাখানেকের মধ্যেই। আমরা সিলেট থেকে সকাল ৭ টায় রওনা দিয়ে ৮ টার দিকে ডিবির হাওরে পৌছাই। মোটামুটি ৯.০০-৯.৩০ এর মধ্যে গেলে জাগ্রত শাপলার দেখা মিলবে। ওরা ঘুময়ে গেলে কিন্তু তখন আর ডেকে তুলতে পারবেন না।

হাওরে নৌকায় ঘুরতে পারবেন। গেলে তো অবশ্যই নৌকায় উঠবেনই। ভাড়া নিবে ঘন্টায় ৩০০ টাকা। এই ভাড়া উপজেলা প্রশাসন থেকে নির্ধারন করে দেয়া। মাঝারি সাইজের এক নৌকায় ৭/৮ জন উঠা যায় অনায়াসেই।

যেভাবে যাবেন-
বাংলাদেশের যেকোন যায়গা থেকে সিলেট।
সিলেট থেকে সিলেট-তামাবিল রুটে চলাচলকারী বাস/লেগুনায় করে জৈন্তাপুর এর একটু পরেই ডিবির হাওর লেখা ফলকের ওখানে নামবেন। ভাড়া নিবে জনপ্রতি ৪০-৫০ টাকা। সময় লাগে ১ ঘন্টার মত। সিলেট থেকে সিএনজি রিজার্ভ করে নিলে আসা-যাওয়া ভাড়া নিবে ১০০০ টাকার মত। আমরা সিএনজি রিজার্ভ করে গিয়েছিলাম। সারাদিনের জন্য সিএনজি ১৫০০ টাকায় পাওয়া যায়।

Share:

Leave a Comment

Shares
error: Content is protected !! --vromonkari.com