ঢাকা বান্দরবান রুমা বাজার বগালেক কেওক্রাডং

দিন-০(১০-০৯-১৮)
আমাদের দল ছিল ১০জনের।
পান্থপথ সিগনাল থেকে রাত ১০.৩০ মিনিটে আমাদের বান্দরবান এর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু হয়।মজা মাস্তিতে সারারাতের জার্ণি শেষ হয় সকাল ৭টার দিকে।

দিন-০১(১১-০৯-১৮)

এরপর বাসস্ট্যান্ডে (পাবলিক টয়লেটে/কাউন্টারের টয়লেটে) ফ্রেশ হয়ে সকালের নাস্তা সেরে রুমা যাওয়ার বাসস্ট্যান্ডে পৌছে ৮.১৫মিনিট এর বাসে উঠি।আমরা ৪জন ছাদে উঠেছিলাম এক্সট্রিম লেভেল এর এডভেঞ্চার প্রেমি হলে এই ছাদে যাওয়ার চান্স টা হাত ছাড়া করবেন না।ওভার এক্সসাইটেড না হয়ে একটু সাবধানে উপরের ডাল পালা খেয়াল রাখলে আশা করি আর কোনো রিস্ক থাকবেনা।তাহলে দেখবেন এই ৩ঘন্টার বাস জার্নি হয়ত আপনার লাইফের সেরা একটা জার্নি হয়ে থাকবে।চলার পথে বান্দরবান -রুমা রাস্তা এবং আসে পাশের সৌন্দর্য অবর্ণনিয়।সারে ১১টার মধ্যে আমরা রুমা বাজার পৌছাই। এরপর আগে থেকে ঠিক করা গাইড আমাদের কে রিসিভ করে এবং সকল কাগজ পত্র ঠিক করে রুমা আর্মী ক্যাম্ফে সাইন করে চান্দের গাড়িতে রওনা হই কমলাবাজারের উদ্দ্যেশ্যে।আর চলার পথে রুমা-কমলাবাজার পথের সৌন্দর্য উপভোগ করতে থাকি।ইহা এক কথায় ভয়ানক সুন্দর।এরপর দুপুর একটার মধ্যে কমলাবাজার পৌছে লাঠি কিনে বগালেক এর উদ্যেশে পাহাড়ে উঠতে শুরু করি।এই ৩০মিনিটের যাত্রা টা একটু কষ্টকর হবে।এতে হতাস হবেন না।পরবর্তীতে এত খারা পথ নাই বললেই চলে।আর সবসময় খেয়াল রাখবেন সামনে আপনার জন্য চমক অপেক্ষা করছে।যেকোনো যাত্রা পথে এই জিনিস টা খেয়াল রাখলে আপনার মনোবল দৃড় হবে।দুপুর দেরটার মধ্যে বগালেক পৌছে বগালেক আর্মী ক্যাম্ফে সই করে আমরা আমাদের কটেজে উঠি।এরপর বগালেকে গোসল করে ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে কিছু সময় রেস্ট নিয়ে বগালেক এর আশ পাশ ঘুরে দেখি।এরপর ৯টার মধ্যে রাতের খাবার খেয়ে রাত১১টার দিকে বার-বি-কিউ পার্টি করি।(এক্ষেত্রে আপনাকে রুমা বাজারেই গাইডকে বলতে হবে এবং রুমা বাজার থকেই প্রয়োজনীয় কেনা কাটা করে নিয়ে আসতে হবে যার সবই গাইড করবে আপনাদের একজন সাথে থাকলেই চলবে)।এটা ছিল আমাদের লাইফের সেরা বার-বি-কিউ(আমাদের গাইড দাদা জাস্ট রকস)। একদম শেষে ওনার নাম্বার দিয়ে দিয়েছি কেউ গেলে আমাদের জার্ণী ডেট আর আমাদের ১০জনের টিমের কথা বলবেন।এক্সট্রা এডভান্টেজ পেলেও পেতে পারেন।

দিন-০২(১২-০৯-১৮)

সকালে উঠে প্রস্তুতি নিয়ে নাস্তা সেরে রওনা হই কেওক্রাডং এর উদ্দ্যেশ্যে। কেওক্রাডং উঠার পথে সেরা কিছু ভিউ পাবেন।আর চিংড়ি ঝর্ণার সৌন্দর্য… আহা আর নাই বলি।মাঝে চলার পথে কলা,পেপে,পেয়ারা,ভুট্রা অনেক কিছুই পাবেন এবং খাবেন পাহাড়ি নির্ভেজাল ফলের স্বাদই আলাদা,সো মিস করলেই মিস।সকাল ১০টার মধ্যে আমরা দার্জিলিং পাড়ায় পৌছাই।এখানে এক দিদির দোকানে ডিম,চা,পেয়ারা ইত্যাদি খাই আড্ডবাজি করি প্রায় দের ঘন্টা।এই দের ঘন্টা অসাধারণ একটা সময় ছিল যা ভুলবার নহে।দার্জেলিং পাড়া খুবিই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন অসাধারণ সুন্দর একটি পাড়া।এখানে আমরা বৃষ্টির কবলে পরি।বৃষ্টির মধ্যেই আমরা আবার রওনা হই কেওক্রাডং এর উদ্দ্যেশ্যে। ৩০-৪০ মিনিটের মধ্যে পৌছে যাই বহু প্রতিক্ষিত সেই কেওক্রাডং এর চুড়ায়।পৌছে আমরা একদম উপরের কটেজে উঠি।এরপর দুপুরের খাওয়া খেয়ে হাল্কা রেস্ট নিয়ে কেউক্রাডং এবং এর আসে পাশে ঘুরে দেখি।রাতে বন মুরগী দিয়ে খাওয়া শেষে প্রায় সারারাত আড্ডাবাজি চলে।

দিন-৩(১৩-০৯-১৮)
সকাল ৬টার মধ্যে উঠে রওনা হই বগালেকের উদ্যেশ্যে। নামার পথে দার্জীলিং পাড়ায় ঔ একই দিদির দোকানে চা,নাস্তা সেরে নেই।এরপর আবার শুরু করি যাত্রা।১০টার মধ্যে বগালেক পৌছে যাই।একটু রেস্ট নিয়ে কটেজ মালিকের ঘরে রেখে যাওয়া সবার বড় ব্যাগ নিয়ে রওনা হই কমলা বাজারের উদ্দেশ্যে। ওখানে আমাদের চান্দের গাড়ি অপেক্ষা করছিল।আমাদের লক্ষ ছিল রুমা থেকে বান্দরবানগামী প্রথম বাস টি ধরা।কিন্তু দুর্ভাগ্যবসত আমাদের চান্দের গাড়ি মাঝ পথে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কোনো রকম ৩টার বাস ধরতে পারি।আপনাদের জেনে রাখা ভালো ৩.১৫মিনিটে রুমা থেকে বান্দরবানগামী সর্বশেষ বাস টি ছেড়ে যায়।তাই প্রত্যেক ক্ষেত্রে সময় হিসেব করে চলবেন।এরপর বিকাল সারে ৬টার দিকে আমরা বান্দরবান পৌছে বাস স্ট্যান্ড গিয়ে আগে হোটেলে খাবার খেয়ে নেই।বলতে পারেন ডিনার/লাঞ্চ একসাথে।লাঞ্চ করার সময় ছিলনা এদিকে ৮.৩০ মিনিটে আমাদের ফিরতি টিকেট কাটা ছিল। এই এক চান্দের গাড়ি খারাপ হয়েই আমাদের প্ল্যানিং এ অনেক পরিবর্তন আসে।যাই হোক এভাবেই আমাদের বান্দরবান ট্যুরের সমাপ্তি ঘটে।

দিন-৪(১৪-০৯-১৮)
সকালে ঢাকা পৌছাই।

এবার আসি হিসেব নিকেশে….

আমাদের টিম মেম্বার ছিল ১০জন সেই হিসেবে ১০জনের হিসেব দেয়া হলো..

ঢাকা -বান্দরবান ~৬২০ (পার হেড)

দিন-১

বান্দরবান বাস স্ট্যান্ড -রুমা যাবার বাস স্ট্যান্ড (অটো)~১৫টাকা (পার হেড)

বান্দরবান -রুমা বাজার ~১২০টাকা (পার হেড)

ফর্ম +ফটোকপি~৯০(১০জনের)

রুমা-কমলাবাজার(চান্দের গাড়ি)-২৫০০/-
কিন্তু আমাদের লেগেছিল ১৭৩০/-(১১)জন(৪জনের একটা গ্রুপ পেয়েছিলাম)
লাঠি-১০/- টাকা(একটা)
দুপুরের খাবার-১২০/- (ডাল,ভাত,ডিম ভাজি,মিস্টি কুমড়া ভাজি) পার হেড।
রাতের খাবার-১২০/- (ডাল,ভাত,ডিম ভাজি খেলে ভাজি,আর রান্না খেলে রান্না,আলু ভত্তা)

কটেজ~১৫০/- (পার হেড)

দিন-২
সকালে চা বিস্কুট -২০/- (পার হেড)
উঠার পথে কলা-৬০/-(১১জন)
দারর্জিলীং পাড়ায় ডিম,কলা,চা,পেয়াড়া ইত্যাদি খাওয়া- ৪৮০/- (১১জন)
কেউক্রাডং এ দুপুরে খাওয়া-১৩০(ভাত,ডাল,ডিম,সবজি)
রাতে খাওয়া -২০০/-(ভাত,মুরগি,আলু ভত্তা,ডাল) আলু ভত্তা খেলে আগে থেকে বলতে।
কটেজ-৩০০/- পার হেড (আমরা সবথেকে উপরের কটেজে থেকেছিলাম আমার জানামতে এটার ভাড়া সবথেকে বেশি,যতসম্ভব ১৫০-২০০ টাকা সর্বনিম্ন কটেজ ভাড়া)

দিন-৩
দার্জিলীং পাড়ায় সকালের নাস্তা-৪৬০/- (১১জন) এখানে আমরা ডিম সিদ্ধ,কলা,চা,পেয়ারা,বিস্কুট এইগুলা খাই।
কমলাবাজার-রুমা বাজার (চান্দের গাড়ি)-২৫০০/-কিন্তু আমাদের লেগেছিল
১৮৭০/- (১১জন) আমরা ৪জনের আরেকটা গ্রুপ পেয়েছিলাম
গাইড-৬০০টাকা (পার ডে)
রুমাবাজার-বান্দরবান-১২০/- (পার হেড)
বান্দরবান বাস স্ট্যান্ড -১৫/-(পার হেড)
আগেই বলেছি আমরা দুপুরে খাওয়ার সুযোগ পাইনি বিকালে খেয়েছি একদম বান্দরবান গিয়ে
-১৮২০/-(১০জন) শেষ খাওয়া আর সারাদিন ভাড়ি খাবার খাওয়া হয়নি তাই এই খাবার টা একটু বেশিই খাওয়া হইছে।

***আমরা বার-বি-কিউ করেছিলাম এর জন্য প্রায় ১১০০টাকা খরচ হয়েছিলো আর এই বার-বি-কিউ এর জন্য গাইডকে এক্সট্রা ২০০আর আমরা খুশি হয়ে বোনাস দিয়েছিলাম ২০০টাকা।

*গাইডের থাকা খাওয়া আপনাদের।

~অভিজ্ঞতা থেকে কিছু কথা~

°সময় হিসেব করে চলবেন।

°যার যার কাছে শুকনো খাবার রাখাবেন অবশ্যই।

°পাহাড়ে উঠা নামার পথে প্রচুর পরিমাণ পানি,স্যলাইন,গ্লুকোজ খাবেন

°পাহাড়ে প্রত্যেকটা সময় সতর্কতার সাথে পা ফেলবেন।

°অতি উৎসাহিত হয়ে নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনবেন না।

°অনেকবার আর্মী ক্যাম্ফে সাইন করতে হবে।এই কাজটা বিরক্ত লাগতেই পারে।এজন্য আর্মীদের সামনে হা হুতাস করার কিছু নেই।তাদের সাথে ভালো ব্যাবহারের ফলও অবশ্যই ভালো হবে।

°প্রথম দিন একটু বেশিই কষ্ট হবে,বিশেষ করে কমলাবাজার থেকে বগালেক উঠতে।এতে হতাশ হবেন না।ধৈর্য্য ধরবেন।ধৈর্য্যের ফল সবসময় মিষ্ট হয়।কষ্ট করার পরে যে ভিউ গুলো পাবেন তা প্রাণ জুরায় দেবে।
°একটু ভালো গ্রিপের জুতা ব্যবাহার করবেন।ব্যাগ হালকা রাখার চেস্টা করবেন।

~লেখাটা অনেক বড় হয়ে গেলো, ভুল ত্রুটি থাকলে ধরিয়ে দিবেন।
ধন্যবাদ, হ্যাপি ট্রাভেলিং

****সর্বশেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ কথা হচ্ছে যেখানে যাবেন সেখানকার ন্যাচার নষ্ট হয় এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকবেন।আপনার বহন করা ময়লা আবর্জনা যথা স্থানে ফেলুন বা নিজ ব্যাগে রেখে পরে যথাস্থানে ফেলে দিন এতে আপনার আমার প্রকৃতির সবার উপকার।****

গাইড-০১৮-৪৩২২৯৫৪৭(সাফুল বড়ুয়া)দাদা।
Source:Rahat Ahmed‎>Travelers of Bangladesh (ToB)

Share:

Leave a Comment

Shares
error: Content is protected !! --vromonkari.com