তিয়ানজিন ভ্রমন কথা

তিয়ানজিন শহর চীনের ৫ টি বড় শহরের একটি। সমুদ্র উপকূল হতে সন্নিকটে এ শহরে সবসময় শীতল বাতাস বয়ে চলে। অনেকদিন ধরে যাব যাব করলেও যাওয়া হয়ে উঠেনি। অবশেষে পরীক্ষা শেষ হলো, বউ বাচ্চারা দেশ হতে এসেছে। এবার বন্ধুরা ও পরিবারের সবাই পরিকল্পনা করলাম তিয়ানজিন দেখতে যাব। আমরা বুলেট ট্রেন এ উঠলাম বেইজিং হতে। শব্দহীন, ঝাঁকিহীন জলের উপর জলার অনুভূতিতে বুলেট গতিতে ছুটে চললাম।

ঢাকা-চট্রগ্রাম এর মত দূরত্ব হলেও ৩০ মিনিটে পৌঁছে গেলাম। নেমেই অভিভূত, কি বিশাল বিশাল অাধুনিক অট্রালিকা আর পুরাতন ঐতিহাসিক স্থাপনার মেলবন্ধন। তিয়ানজিন শহরের মাঝ বরাবর হাইহি নদী। আমাদের বুড়িগঙ্গার চেয়ে কম প্রশস্থ হবে। দুকূল বাঁধানো, কী মমতায় আর যত্নে নদীটাকে শতাব্দীর পর শতাব্দী সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এই শহরটিতে আগে বিভিন্ন পরাশক্তি ছোট ছোট অধিক্ষেত্রের (এরা বলে কনসেসন) মত ভাগ করে দখলদারিত্ব চালিয়েছে। সেখানে নিজ নিজ স্কুল, হাসপাতাল, প্রশাসনিক ভবন, পানশালা, আর্মি ব্যারাক ইত্যাদি তৈরী করেছিল।

ফিরে পাওয়ার পর চীন এগুলোর একটিও গুড়িয়ে দেয়নি। রেখে দিয়েছে পরম যত্নে। যেসব দেশের কনসেসন আছে সেগুলো হলো রাশিয়া, বৃটেন, জাপান, ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙগেরী, ইতালি ও আমেরিকা। আমরা শহরে প্রথমে হেঁটে হেঁটে ঘুরলেও ব্যাটারী শেষ হওয়ার মত হলে (রাহিন বলে এটা- ক্লান্তিতে ঘুম আসার মত হলে) ট্যাক্সি নিচ্ছিলাম। এই কনসেসনগুলো এত মজার দেখতে যে, আপনি যদি ইতালি কনসেসন এ যান, মনে হবে সত্যিকার ইতালিতে এসেছেন। ফোয়ারা, স্থাপত্য, শিল্পকর্ম দেখে মনে হতে পারে, আপনি মাইকেল এন্জেলা বা ভিঞ্চির সাহচর্য পাচ্ছেন।

দুপুরে একটা বিখ্যাত চায়নিজ রেস্তোরাঁয় ডুকলো সবাই। আমি ও আমার পত্নী- আমরা রোজা। জুরি রাহিন খেতে পারবে। রেস্তোরাঁয় দেয়ালে দেয়ালে চায়নার কৃষ্টি কালচার ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মনিটরে দেখাচ্ছে, চায়না ভ্রমনে এসে পুতিন ও শি জিন পেন এখানে এসেছিলেন ও খেয়েছিলেন। শহরের বিপনী বিতানগুলো যে এলাকায়, সেখানে গাড়ী চলে না। পর্যটকেরা সবাই হেঁটে হেঁটে কেনা-কাটা করছে। বিকেলে আমরা হাইহি নদীতে ১ ঘন্টা ঘুরলাম। দুপাশে ঐতিহ্য আর ইতিহাস নিয়ে দাড়িয়ে আছে নানা স্থাপত্য। জাহাজে ৩০/৪০ জনের আসন।

বেশিরভাগ ইউরোপিয় পর্যটক। একজন উপস্থাপক চায়না ভাষায় বিভিন্ন স্থাপনার বর্ণনা করছে। একটুও বুঝিনি বলে দৃশ্য দেখায় মন দিলাম। স্বচ্ছ গ্লাসের মধ্য দিয়ে দেখলাম নান্দনিক তিয়ানজিন। সন্ধ্যায় আলো জ্বলে উঠার পর দেখতে আরও সুন্দর লাগে। বাচ্চারা ক্লান্ত, শ্রান্ত হয়ে পরেছে, আমরা দুজনও। আমাদের অন্য ৬ জন বন্ধু ৬ দেশের, ক্লান্তি ওদের স্পর্শও করতে পারেনি। চায়নাতে রাতের খাবার বিকেল ৫/৬ টায় খায়। আমাদের বন্ধুরা রাতের খাবার আমাদের সাথে খাবে, আমাদের জন্য ইফতারের সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করলো। তারপর রাতের খাবার শেষে আসলাম ট্রেন স্টেসনে। এখন আলো জ্বলে উঠেছে। আলো ঝলমল তিয়ানজিন অপ্সরার মত। ৯ টায় ট্রেন ছাড়লো, ৯.৩০ এ বেইজিং! একটা নদী একটা শহরকে যে কী পরিমান সৌন্দর্য্য উপহার দিতে পারে, তা দেখতে এই শহরটা দেখা দরকার।

Source: Z R ZiaTravelers of Bangladesh (ToB)

Share:

Leave a Comment

Shares