দেশে আসছে আধুনিক ট্রেন মিনিটে যাবে আড়াই কি.মি

যুগ বদলেছে, সময় পেরিয়েছে, বেড়েছে রেলের গতি, পথ, পরিসেবা সব কিছুই। কিন্তু এসব বাড়াতে যা লেগেছে তা হল বিজ্ঞানের অবদান। রেল মাত্রই বিজ্ঞান, তার চাকার পরিমাপ থেকে, গতি থেকে, চালিকা শক্তি থেকে ভেতরে পাখা, এসি এমনকি রেলের থেমে যাওয়াটাও বিজ্ঞান।

আর এই বিজ্ঞানের সব থেকে সুসন্তান হল প্রযুক্তি, যা মানব জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ বদলে দিয়েছে। রেলের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা। প্রতিদিন নতুন নতুন প্রযুক্তির প্রয়োগ ও ব্যবহার চলছে। চলছে আধুনিক ট্রেন বানানোর প্রয়োগ।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো উন্নয়নে থেমে নেই বাংলাদেশও। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে সরকার। গেল বছরের শুরুর দিকে বাংলাদেশ একটি মাহেন্দ্রক্ষণ উদ্‌যাপন করেছে, যখন জাতিসংঘের মানদণ্ডে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে।

এইতো কয়েক বছর আগেই দেশের মানুষের স্বপ্ন ছিল মেট্রোরেল, যা শুধু উন্নত রাষ্ট্রেই দেখা যেত, এখন আর সেটি স্বপ্ন নয় বাস্তবায়নের পথে। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত এলাকায় একে একে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে একেকটি পিলার। অন্যদিকে দিয়াবাড়িতে তৈরি আছে গার্ডার। সবকিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বরেই এই রুটে চলবে মেট্রোরেল। নিরসন হবে যানজট।

এবার বাংলাদেশ রেলওয়েতে যোগ হচ্ছে সর্বাধুনিক হাইস্পিড কোচ। ঘণ্টায় এর গতি হবে ১৪০ কিলোমিটার। অর্থাৎ প্রতি মিনিটে ট্রেনগুলো আড়াই কিলোমিটার (২.৩৩ কিলোমিটার) গতিতে চললে সক্ষম। শুধু তাই নয় এই আসনগুলো থাকবে আরও আরামদায়ক। প্রতিটি কোচের আমদানিমূল্য ৫ কোটি টাকা।

ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ট্রেন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান পিটি ইন্ডাস্ট্রি কেরেতা এপি (ইনকা) থেকে কোচগুলো জাহাজে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রথম শিপমেন্টে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছবে ১৫টি কোচ। এরপর আরও দুটি শিপমেন্টে মোট ৫০টি ব্রডগেজ কোচ আসবে। এরপরে আরও ৯টি শিপমেন্টে আসতে থাকবে ২০০ টি মিটারগেজ কোচ।

রেলওয়ে প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী (সিএমই) হারুনুর রশীদ বলেন, ‘পিটি ইনকার কারখানা মাদিয়ুন থেকে কোচগুলো তাদের স্থানীয় বন্দর সুরাবায়াতে বড় লরিতে আনা হচ্ছে। বড় এসব লরিতে প্রতিদিন দুটি করে কোচ সুরাবায়া আনা হচ্ছে।’

২০ জানুয়ারি সুরাবায়া থেকে জাহাজ ছাড়বে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে। এরপর ১২ থেকে ১৫ দিনে এগুলো চট্টগ্রামে চলে আসবে। চট্টগ্রাম থেকে কোচগুলো বিশেষ ট্রলি বগির ওপর বসিয়ে রেললাইনে টাঙ্গাইল আনা হবে। এরপর ক্রেন দিয়ে ব্রডগেজ বগির ওপর কোচগুলো স্থাপন করে সৈয়দপুর নেওয়া হবে। সেখানে যাচাই-বাছাই শেষে দুই ধাপে ট্রায়াল রান দেওয়া হবে। দুই থেকে তিনমাসের মধ্যে কোচগুলো ট্রেন চলাচলের জন্য ছেড়ে দেওয়া হবে।

রেলওয়ে ট্রাফিক বিভাগ জানায়, সবচেয়ে পুরাতন ব্রডগেজ কোচ যেসব ট্রেনে আছে সেখানে নতুন কোচগুলো প্রতিস্থাপন করা হবে। আর সব শিপমেন্ট পেলে আরও নতুন দুয়েকটি ট্রেন চালু হতে পারে।

নতুন কোচ কেনা প্রকল্প অনুযায়ী, আগামী এপ্রিলে আরও ২০০টি মিটারগেজ কোচ আসা শুরু হবে। ৯ শিপমেন্টে ২০২০ সালের মে মাসের মধ্যে সব কোচ আসা শেষ হবে।

নতুন এই কোচগুলো বাংলাদেশ রেলওয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে আধুনিক সুবিধাযুক্ত করা বলে জানান সিএমই হারুনুর রশীদ।

Share:

Leave a Comment

Shares
error: Content is protected !! --vromonkari.com