নিকলি হাওড় ডে ট্রিপ

একদিনের ভ্রমনের জন্য নিকলী বেড়িবাঁধ ঘুরে আসতে পারেন, ঢাকা থেকে সকালে রওয়ানা হলে সারাদিন ঘুরে আবার বিকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিতে পারেন । শীতকালে যে প্রান্তর ফসলে পূর্ণ বা শুকনো মাঠ কিংবা বালুচর, বর্ষাকালে সেখানে জলধারা চারদিক প্লাবিত থাকে। বর্ষার সময় এই জায়গা ভ্রমনের জন্য বেশ উপযুক্ত। বেড়িবাঁধ থেকে নৌকায় করে ছাতিরচরও যাওয়া যায়। নিকলী উপজেলাটির একপাশে সমতল, অন্যপাশে হাওর। বেরিবাঁধ নিকলী উপজেলা সদরকে বন্যার হাত থেকে সুরক্ষা দিয়েছে। বর্ষায় নদীর পানি বাড়তে বাড়তে ভেসে যায় চরাচর বাতাসে হাওরের পানির ঢেউ বেরিবাঁধে এসে আছড়ে পড়ে। হাওরের মুখ্য মজা হচ্ছে, নৌভ্রমণ ও তাজা মাছের তরকারি দিয়ে উদরপূর্তি।

কিশোরগঞ্জে যাওয়ার সবচেয়ে আরামদায়ক জার্নি হচ্ছে ট্রেন। আমরা ১৪ জনের টিম সকাল ৭.১৫ তে এগারসিন্ধু প্রভাতী ট্রেন চেপে বসি ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ যাওয়া জন্য । নিকলি যাওয়ার জন্য নামতে হবে সরারচর। আনুমানিক ১০.৩০ দিকে আমরা সরারচর নামি। নেমে ডান দিকে ১/২ মিনিট গেলে মানে ইঞ্জিন যে দিকে মুখ করা লেভেল ক্রসিং পাবেন। ওখান থেকে বাম দিকে যেতে হবে। আমরা ওখানে সকালে নাস্তা করে সিএনজি ঠিক করি নিকলি বেরিবাধ পযম্ত। সময় নিবে ৪৫/ মিনিটের মতো বলে নিবেন না হলে বাজারে নামিয়ে দিবে। ভাড়া রিজার্ভ ৩০০/৪০০ টাকা নিবে দামাদামি করে নিবেন। চাইলে বাসেও যেতে পারেন, ঢাকার গোলাপবাগ থেকে কিশোরগঞ্জে বাস যায়। ‘অনন্যা সুপার’ ও ‘যাতায়াত’ ভাড়া ২৫০ টাকা। সময় লাগবে ৪ ঘণ্টা। পুলেরঘাট থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা দিয়ে ১ ঘণ্টায় নিকলী বেড়িবাঁধ। গাড়ি ও মাইক্রোবাসে ইচ্ছেমতো যাওয়া যায়।

নিকলী উপজেলার সব স্থাপনাকে বাঁয়ে রেখে নিকলী বাঁধ ধরে এগিয়ে যেতে থাকলে ডানদিকে দিগন্ত বিস্তৃত হাওর। দিগন্তের মাঝে মাঝে ছোপ ছোপ গ্রাম ও জনবসতি। একপাশে জলরাশি অন্য পাশে গ্রাম, পুরো রাস্তা আপনাকে আর্কষন করে রাখবে এক মায়াবী জালে। বেরিবাঁধের শেষ মাথায় নৌকাঘাট। তবে ভাড়ার কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। ভ্রমণকারীদের দরাদরি ভেদে কেউ সারাদিনে হিসাবে ভাড়া নেয়, কেউ ঘন্টায় । ভরা মৌসুম বলে নৌকা ভাড়া নাকি এখন বেশি। আমরা ১৪ জনের টিমে ২ ঘন্টার জন্য বেশ বড় একটা নৌকা নেই। মাঝি প্রথমে ২৪০০/ চায়। তারপর দামাদামি করে ১৯০০/ তেও তার মুখে হাসি ফুটাতে পারি নাই।

উঠার সময় বলে নিয়েছি চাতিরচর যাবো। চাতিরচরে আপনারা রাতারগুলের সাধ পাবেন। আমরা ওখানে পানিতে দাপাদাপি করি। পানি ভালোই গভীর, সাতার না জানলে না নামাই ভালো। তবে গাছের ডালপালা ধরে আরামসে পানিতে পা দুলিয়ে বসে থাকতে পারবেন। চাইলে মনপুরাও যেতে পারেন।

হাওর অভিজ্ঞতার অন্যতম হচ্ছে হাওরপারের হোটেল থেকে হাওরের নানারকম তাজা মাছের তরকারি দিয়ে উদরপূর্তি। নিকলী মোড়ে অনেকগুলো মোড়ের মধ্যে সেতু হোটেলটিতে আমরা খেয়েছি। এই হোটেলের রান্না ভাল, এরা হোটেলের পিছনেট বাড়িতে রান্না করে। আমরা খাওয়ার শুরুতে ওনাদের সাথে বলে বাংলা সেট মেনু ঠিক করি। মাঝারী সাইজের ভাজা পুটি মাছ, সাথে বাইন মাছ/ পাবদা মাছ/ চিংড়ি (যে যেটা মন চায় নিয়েছে) টাকি মাছ দিয়ে মশুরের ডাল সাথে ভাত। ওনারে প্রথমে ২৫০ টাকা চেয়েছিলো পরে ২০০/ তে রাজি করাই, চিকন চালের ভাত পাওয়া দুষ্কর। এরা মোটা চালের ভাত রান্না করে থাকে।
বেড়িবাঁধ থেকে রিজার্ভ সিএনজি নিয়ে কিশোরগঞ্জ রেল স্টেশন, ভাড়া ৩৫০/৪৫০ টাকা নিবে। যাওয়ার সময় রাস্তার ২ পাশে মাছের ঘের। পরিবেশ টা ছিলো অস্থির, বলে বুঝানো যাবে না। স্টেশনে নেমে অটো নিয়ে চলে যাই গুরুদয়াল কলেজের ওখানে মৃত প্রায় নরসুন্দা নদীর পাশে ওয়াচ টাওয়ারে। ১০ তলা বিল্ডিং সমান উচু টাওয়ার। যেটার উপর দাড়িয়ে বলতে গেলে পুরো কিশোরগঞ্জ শহর দেখা যায়।সেখান থেকে অটোতে করে বাস টার্মিনাল। ২৫০/ টাকা দিয়ে যাতাায়তে টিকেট কেটে ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা দিলাম।

শেষকথা হচ্ছে, আমরা যেখানেই যাই, পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখতে সচেষ্ট থাকবো। জগতের এসব দর্শনীয় স্থানগুলো আবর্জনায় বিনষ্ট হলে আমাদেরই ক্ষতি। তাই ভ্রমণের সময় চীপ, বিস্কুট কিংবা খাবার দাবারের প্যাকেগুলো একটি ব্যাগে রেখে তা যথাস্থানে বীনে ফেলে দেয়াই বাঞ্চণীয়।

Source: রেজাউল করিম সানি‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

Share:

Leave a Comment

Shares
error: Content is protected !! --vromonkari.com