নিঝুম দ্বীপ

নিঝুম দ্বীপ সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে অনেকেই জেনেছেন কারো কারো হয়তো যাবার সৌভাগ্যও হয়েছে। সৌভাগ্য কেন বললাম তা সেখানে না গেলে আমি ওষুধ দেই কাজে আসবেনা যতক্ষন না নিঝুম হাসপাতালে গিয়ে মনের চিকিৎসা না করাবেন।
নিঝুম দ্বীপকে অনেকেই অনলাইনের তথ্য আর রিভিও দেখে ছোট্ট একটা দ্বীপ মনে করেন কিন্তু মনে রাখবেন অনলাইন আর বাসের লাইন দুটোই ভিন্ন একটি কল্পনা আর অন্যটি বাস্তবতা।
যারা সুন্দরবনকে একটি ব্যয়বহুল জায়গা মনে করেন তাদের জন্য নিঝুম দ্বীপ উত্তম জায়গা। এখানে আপনি সুন্দরবনের ফ্লেভার পাবেন। প্রচুর হরিনের দেখা পাবেন(কপাল ভালো হলে) তবে যতই কাইন্দা বুক ভাসান না কেন এখানে বাঘের দেখা পাইবেন না(কপাল ভালো হইলেও না)।
এখানে বীচ পাবেন, বন পাবেন, ওয়াচটাওয়ার, নদী খাল সাগর সব পাইবেন। প্রচুর তাজা মাছ পাইবেন। খেজুরের রস পাইবেন।
খাবার দাবার:- এখানে খাবার তুলনামূলক সস্তা। টেংরা, ইলিশ, রুই, কোরালসহ বিভিন্ন তাজা মাছ(অবশ্যই রান্না করা) খেতে পারবেন। যারা মাছ খান না তারা দেশি মুরগী আর হাসের মাংস খেতে পারেন। ভাত এখানেই চাষ করা চালের (মোটা ভাত)। কেউ যদি বাসমতি খেতে চান তবে পকেটে করে নিয়ে আসবেন। ভুলেও হরিনের মাংস খেতে চাইবেন না তাইলে আপনাকেই স্থানীয়রা হরিন বলে চালিয়ে দিতে পারে। সন্ধ্যায় বাজারে জিলেপী ভাজা হয় গরম গরম খেতে পারেন তবে হিসেব রাইখেন কয়টা খাচ্ছেন মজায় অনেকে কাউন্ট করতেই ভুলে যায়। খেজুরের রস খেতে পারেন তবে আমি রাতে নিজে গিয়ে চেক করে দেখছি তারা ঢাকনা ছাড়াই গাছ থেকে রস কালেক্ট করে তাতে বাদুর বা অন্য নিশাচর পাখি ইজিলি মুখ দিতে পারে আর তা থেকে নিপাহ ভাইরাসে আপনি চীতপটাং হতে পারেন। তাই রস খেলে নিজের ঝুঁকিতেই খাবেন আপনার কিছু হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী না।
থাকার ব্যবস্থা:- বেশ কিছু রিসোর্ট আছে মোটামুটি মানের। সরকারী বা টানা বন্ধের সময় বুকিং দিয়ে যাওয়াই ভালো তবে স্থানীয় লোকজন বেশ হেল্পফুল আপনার থাকার একটা ব্যবস্থা করবেই তবে খরচ করতে হবে কিছু এই আর কি। এছাড়া তাবু নিয়ে গেলে ক্যাম্পিং করতে পারেন কেউ ডিস্টার্ব করবেনা কুয়াশা ছাড়া।
যাতায়াত:- এই একটা যায়গায় নিঝুম দ্বীপের নামকরনের সার্থকতা খুজে পেলাম না। পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত থেকে নোয়াখালির চেয়ারম্যান ঘাট আসুন সেখান থেকে ট্রলার, স্পীডবোট বা সী ট্রাকে করে নলচিরা ঘাট হাতিয়া(জনপ্রতি ট্রলার ১৫০, স্পীডবোট ৪০০, সী ট্রাক ৯৩টাকা)। সেখান থেকে সড়ক পথে বাইক, সিএনজি বা চান্দের গাড়িতে চান্দের পথে মানে মোক্তারিয়া ঘাট(বাইক ৬০০টাকা, সিএনজি ১২০০টাকা, জীপ জনপ্রতি ১২০-১৫০)। আপনি চাইলে নলচিড়া ঘাট বা নোয়াখালি চেয়ারম্যান ঘাট থেকে ট্রলার রিজার্ভ করে ডিরেক্ট নিঝুম দ্বীপ যেতে পারেন তবে সেটি বেশ ব্যায়বহুল বড় টিম না হলে পোষাবেনা। মোক্তারিয়া ঘাট পৌঁছানোর পর বোটে নদী পার হয়ে(জনপ্রতি ৪৫টাকা) নিঝুম দ্বীপ ঘাট তারপর সেখান থেকে বাইকে চড়ে (প্রতি বাইক ১০০টাকা) নামার বাজার। তবে একটি কথা নলচিড়া থেকে মোক্তারিয়া ঘাট পর্যন্ত রাস্তা খুব খারাপ ওই পথে বাইকে গেলে কিছুটা স্বস্তি অন্যথায় শরীরের জয়েন্টে জয়েন্টে স্মৃতি নিয়ে ফিরে আসবেন।
পরামর্শ: হরিন দেখতে চাইলে বোট নিয়ে চৌধুরী খাল চলে যাবেন খুব ভোরে অথবা বাইকে চোয়াখালি। কপাল ভালো হলে দেখতে পারেন। এই সিজনে গেলে অবশ্যই শীতের কাপড় নিবেন ওখানে শীত বেশ ভালোই। আর শেষ অনুরোধ জায়গাটা নোংরা করবেন না। ওখানে হরিনের চিহ্নই থাক আপনার চিহ্ন রেখে আসার দরকার নাই।

Post Copied From:Abu Nasar‎>Travelers of Bangladesh (ToB)

Share:

Leave a Comment

Shares
error: Content is protected !! --vromonkari.com