নেপাল ভ্রমন

~নেপাল ভ্রমন
The Himalayan diary

ভিসা টিসার ঝামেলা নেই বলেই হয়ত দেশের বাইরে হুট করে কোন প্লান করতে গেলে প্রথম নেপালের কথাই মাথায় আসে। আমাদের অবস্থাটাও এরকম ই ছিল। যাওয়া হবে না হবেনা এরকম করতে করতে ৪ জনের ছোট একটা গ্রূপ নিয়ে হঠাৎ করেই রওনা হয়ে যাওয়া।

নেপাল ভ্রমনের ক্ষেত্রে প্রথম সাজেশন হচ্ছে রিলাক্স না করে যদি নেপালের আসল সৌন্দর্যের দেখা পেতে নেপাল যেতে চান তাহলে নেপালের সবচে পপুলার টুরিষ্ট স্পটগুলো যেমন পোখারা, নাগরকোট এগুলাকে লিষ্টের একেবারে তলায় নিয়ে যান। হিমালয় কন্যার আসল সৌন্দর্য যে আসলে লুকায়ে আছে আরেকটু ভিতরে। তাই আমাদের প্রধান লক্ষ্যই ছিল Kathmundu থেকে ৩৬০ কিমি দূরে মুসতাং জেলা। এর আবার দুটা ভাগ আছে। আপার মুসতাং আর লোয়ার মুসতাং। আমাদের প্লান এর সময়ে দুটো কাভার দেয়া কঠিন হয়ে যেত তাই লোয়ার মুসতাং এর জমসম ই ছিল টার্গেট। বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট এ শুকনা বানের ভিতর শুধু মেয়োনিজ দেয়া জঘন্য ঠান্ডা একটা স্যান্ডউইচ আর বাইরে ৫-১০ টাকায় পাওয়া যায় এমন একটা কেক খেতে খেতে ১ ঘন্টার কম সময়েই কাঠমুনডু পৌছে যাওয়া যায়। ওখান থেকে জমসম যাওয়ার উপায় ২ টি। ফ্লাইটে প্রথম পোখারা তারপর পোখারা থেকে জমসম। পোখারা থেকে জমসম পর্যন্ত পিচ্চি পিচ্চি কিছু প্লেন ছেড়ে যায় আর ওখানে পাহাড় গুলার ফাক গলে একটু পরপর নামতে থাকে। তাই ওই ফ্লাইট টাও অনেক ইন্টারেষ্টিং হওয়ার কথা। আমাদের অত বাজেট ছিলনা তাই ২য় অপশন বাস ই সই। ও জমসম জায়গাটা অন্নপূর্না conservation area এর মাঝখানে পরায় ওখানে এবং ওখান থেকে মুক্তিনাথ যাওয়ার পথে একটি পারমিটের প্রয়োজন হয়। বিমানবন্দর নেমে ট্যাক্সি নিয়ে চলে যাবেন নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডে, না চিনলে বলবেন রত্না পার্কের পাশে। সার্কভুক্ত দেশসমূহের জন্য ২০০ রুপি নিবে পারমিটের জন্য। এছাড়াও Free Independent Trekker (TIMS) এর আরেকটা পারমিট নিতে আমাদের বলা হয়েছিল যেটার জন্য ৬০০ রুপি দিতে হয়েছিল কিন্তু ওটা কোথাও চেক করেনি। তাই না নিলে সমস্যা হবেনা আশা করি। খেয়াল রাখবেন এই পারমিট দেয়া দুপুর ৩টায় বন্ধ হয়ে যায়। আমরা এর পরে গিয়ে অনেক সমস্যায় পড়েছিলাম, পরে স্থানীয় এক কলিগের সহায়তায় সমাধান হয়। কিন্তু আমাদের পাশেই এক ইউরোপীয় দম্পতি ওইদিনের মত পারমিট না পেয়ে হতাশ হয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে ছিল। সে যাই হোক খাওয়া দাওয়া করে রাতের বাসে বেনীর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম। ভাড়া ছিল ৭০০ রুপি। কিন্তু বাস রাস্তায় প্রায় ৫ ঘন্টা নষ্ট ছিল, খুব ই বাজে সার্ভিস। আর মজার ব্যাপার হল নেপালীরা মনে হয় অনেক গা সওয়া জাতি। এই ৫ ঘন্টায় আমরা ছাড়া আর কেউ টু শব্দটাও করেনি। তাদের ভাবভঙ্গি দেখে মনে হয় এভাবে বাস নষ্ট হয়ে ৫ ঘন্টা বসে থাকা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। মনে পড়ে গেল একবার এক বাসে চিটাগাং যাচ্ছিলাম, বাস নষ্ট হওয়ার পর যাত্রীদের চিল্লাচিল্লিতে নতুন আরেক বাস এনে রওনা দিতে হয়েছিল। আর এখানে ৫ ঘন্টা কি যে হচ্ছিল তাও বুঝতেছিলাম না। আমরা তাও বাংলাতে প্রতিবাদ করার দূর্বল চেষ্ঠা করছিলাম, স্বাভাবিকভাবেই কেউ পাত্তা দেয় নাই…:p

বেনী পৌছলাম আমরা পরের দিন দুপুর ১২ টায়। সময় নষ্ট না করে তখন ই জমসম এর বাসে টিকেট কেটে উঠে পরলাম। এই বাসগুলা অনেকটা আমাদের বান্দরবনের মুড়ির টিন বাস গুলার মত। ভিড় ও এক ই রকম। চেষ্টা করবেন ‘ডিলাক্স’ নামের বাসের টিকেট কাটতে।টিকেট ৮০০ রুপি। রাস্তার অবস্থা খুব ই খারাপ। দুর্ভাগ্যক্রমে পিছনের সিটে বসলে যেতে যেতে দু তিনটা লাম্বার ডিস্ক প্রলাপ্স হয়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু নাই। মাঝে ব্রেক দেয়। আমরা সবজায়গাতে নেমে মমই খাইছি। মম এম্নিতেও আমার খুব পছন্দের আর নেপালের বাফালো মম টা একদম ই অন্য লেভেলের। আর অন্য খাবারদাবারের চেয়ে এটা সস্তাও। টানা কয়দিন আসলে মম খেয়েই বেচে ছিলাম।বাস জার্নিটা ভাল কষ্ট দিলেও শেষ বিকেলের আলোয় চকচক করে উঠা অন্নপূর্না রেঞ্জের ভিউটাই মাঝে মাঝে একটু শান্তির পরশ দিয়ে যাচ্ছিল। আর হিমালয়ের কোন একটা রেঞ্জের কাছাকাছি যে আপনি যাচ্ছেন তা বুঝে যাবেন শীতের তীব্রতা বাড়তে শুরু করলেই। জমসম পৌছতে পৌছতে রাত ১১ টা বেজে গেছে। বাস থেকে নেমেই কনকনে শীতে শরীর নাড়া দিয়ে উঠল। বুকিং দেয়া ছিলনা তাই বের হলাম হোটেল খুজতে। এটা একটা বাজে ডিসিশন ছিল। প্রায় বেশীর ভাগ হোটেলই পূর্ন ছিল। পরে জেনেসিলাম সামনের রাস্তায় আরো হোটেল আছে। কিন্তু ওই শীতে কে খুজবে তা। ৪০০০ রুপিতে ২ টা রুম নিয়ে উঠলাম Hotel Trekkers In এ। ওই অজপারাগা এ ফাইভ স্টার হোটেলের ব্যবহার আমরা কেউ আশা করিনি। কিন্তু রুম মোটামুটি হলেও তাদের ব্যবহার একেবারেই বন্ধুসুল্ভ ছিলনা। গোছলের গরম পানি দেওয়ার কথা থাকলেও তা পাইনি। তীব্র শীতে কাপতে কাপতে গোসল করতে হয়েছে। তারচেয়েও মজার ব্যাপার হচ্ছে রাতে খাওয়ার সময় ৬০০ রুপির যেই নেপালি থালি দিল তা দেখে যেকোন বাংগালি ভিক্ষুক ও তাদের একটা গালি দিবে। একটা প্লেটে ভাত, অল্প একটু সবজি, এক চিলতে শাক একটু চাটনী আর ডাল। এই জিনিস বাসায় আমাকে পয়সা দিয়েও কেউ খাওয়াতে পারতনা। নেহায়েত সারাদিন কিছু খাইনি বলে চোখ বন্ধ করে খেয়ে গেলাম।

এত পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে আর কোন কথা না বলেই যে যার মত কাইত হয়ে ঘুম। ঘুম ভাংল পরদিন ভোরে। উঠে এম্নিতেই কেন জানি জানালাটা খুললাম। প্রথমে তেমন কিছু মনে হয়নাই। মাথাটা একটু বের করে পাশে তাকাতেই স্তম্ভিত হয়ে গেলাম। সূর্যের প্রথম আলোয় অন্নপূর্না রেঞ্জের কোন একটা চূড়া আমার সামনে ঝলমল করছে। সাদা চূড়া দেখতে দেখতে সূর্যের আলোয় ঝলসে হলুদ হয়ে গেল। দৃশ্যটা একটু অপার্থিব ই। কোন মতে জ্যাকেট জরায়া নিচে নামলাম। প্রচন্ড ঠান্ডা কিন্তু এই সাতসকালেই বিদেশী ট্যুরিষ্ট রা ট্রেকিং গিয়ার নিয়ে রেডি। একদিকে ঘোড়ার দল হেটে যাচ্ছে। জিপ মোটর সাইকেল সব ই চলতেছে রাস্তার উপর। আমরাও ফ্রেশ টেশ হয়ে রওনা হলাম জিপ ভাড়া নিয়ে। গন্তব্য মুক্তিনাথ। এটা আসলে একটা টেম্পল। এরকম জিনিস আমাকে একদম ই টানেনা। কিন্তু মুক্তিনাথের বিশেষত্ত্ব এর টেম্পলে নয়। যাওয়ার রাস্তায়। দুপাশের দৃশ্যকে ক্যামেরার লেন্স এ বন্দী হয়ত করা যায় কিন্তু সাথে সাথে একবার স্ক্রীনে চোখ বুলালেই বুঝা যায় বাস্তবের ধারে কাছেও কিছু আনতে পারিনি। জিপ গুলার জানালা একটু নিচে। ঝুকে বসে ঘাড় ব্যাথা হয়ে যায় তাও জানালা থেকে কেউ চোখ সরায় না কারন দৃশ্যগুলো এরকম ই। এখানে আমাদের আরেকটা ভুল ছিল। জিপের বদলে মোটর সাইকেল নেয়ার ট্রাই করবেন। তাহলে আরামসে দেখতে দেখতে যেতে পারবেন। মুক্তিনাথ যেতে বেশীক্ষন লাগেনা। পথে কাকবেনী তে একটু থেমে নিয়েছিলাম। মুক্তিনাথ টেম্পলে উঠতে একটুখানি ট্রেক করতে হয় আর কিছু সিড়ি ভাংতে হয়। এত দূর এলাম তাই উঠে গেলাম। কিন্তু টেম্পল টা মোটামুটি সাদামাটা ই। উপর থেকে ভিউটাই সুন্দর খালি। অনেকে দেখলাম ঘোড়ার পিঠে চড়ে উঠছে।

বিকেলটাও ওখানেই কাটিয়ে দিন। গরম চা হাতে ঠান্ডা বাতাসে হিমালয় এর দিকে তাকায়া থাকা সে এক অসামান্য অনুভূতি। রাতে ফিরে এলাম জমসমে। হোটেল চেঞ্জ করার ইচ্ছা থাকলেও আলসামির কারনে করিনি। পরদিন সকালে উঠে ঝটপট বের হয়ে গেলাম ধুম্বা লেক যাব বলে। ১ ঘন্টার মত ট্রেক করতে হয়। জমসম থেকে মুক্তিনাথ এর পথের মতই হবে ভেবেছিলাম। কিন্তু এই রাস্তাটুকু একেবারেই অন্যরকম। কারন ওদিকটা সবুজ বিবর্জিত হলেও এখানে মাঝে মাঝেই গাছ, লতা, গুল্মের সাড়ি চোখে পড়ে। পথে অসম্ভব সুন্দর একটা লোহার ঝুলন্ত ব্রীজ পড়ে। ধুম্বা লেকটা একেবারে পিচ্চি একটা লেক। অল্প পানি , কিন্তু সত্যিকার অর্থেই টলটলা পানি। পানির নিচে ছোট ছোট মাছ একেবারে স্পষ্ট দেখা যায়। লেকের পাশে কিছুক্ষন চুপচাপ বসে থাকাটাই অসাধারন।

আপেল পেলে আপেল কিনে নেবেন, পরিশ্রান্ত ছিলাম বলে কিনা, নাকি আসলেই কে জানি, অত মজার আপেল আগে কখনো খাইনি। ওই আপেল থেকেই পাশেই একটা গ্রাম মারফাতে একধরনের জনপ্রিয় ব্র্যান্ডি তৈরী হয়। নামই মারফা ব্রান্ডি। মারফা গ্রাম টাও সুন্দর। মোটর সাইকেল ভাড়া করে ঘুরে আস্তে পারেন।
জমসম এয়ারপোর্ট টা রাস্তার পাশেই। মাঝে মাঝে ছোট প্লেনগুলা উড়ে যায়। সেই দৃশ্য ও উপভোগ করার মত।

যদিও প্ল্যান এ ছিলনা কিন্তু জমসম এ আরেক রাত থাকব কিনা এই নিয়ে আমরাই কনফিউজড হয়ে গিয়েছিলাম, ইচ্ছা থাকলেও উপায় ছিলনা, কারন আমাদের নেপাল ভ্রমনের আরেকটা উদ্দেশ্য হচ্ছে কিছু এক্টিভিটি- প্যরাগ্লাইডিং আর রাফটিং। এজন্যে পোখারাতে যেতেই হবে। তাই ওইদিন ই জমসম ছাড়তে হল।
রাতে পোখারা পৌছে পরের দিন বিকেলের দিকে প্যারাগ্লাইডিং করি। সারাংকোট থেকে ভাসতে ভাসতে ফেওয়া লেকের মাঝে নামা অসামান্য এক অনুভূতি। এর পরের দিন রাফটিং। আমাদের হোটেল মালিক দিদি জানালেন এখন নাকি ত্রিশূলি নদী শান্ত তাই ওখানে এত মজা পাওয়া যায়না, আপার শেতী নদীতে করতে। সিদ্ধান্ত টা যে ভুল ছিলনা করতে গিয়েই বুঝেছি। র‍্যাফটিং এর এক ঘন্টা পুরো দম আটকে বসে থাকা যায়। কতবার যে ভাবছিলাম বোট টা শিউর গেছে তারপরেই কেম্নে কেম্নে আবার সোজা হয়ে গেল। সময় থাকলে হয়ত পরের দিন আবার করতাম আমরা রাফটিং। It was that much thrillling.

ওইদিন বিকাল টা অলস ভাবে কাটানোর প্লান তাই ফেওয়া লেকে নৌকা দিয়ে ঘুরলাম। পুরো নেপালে সবচে মন খারাপ হয়েছে অই বিকালে। নরমাল একটা লেক কিছুটা নোংরাই মনে হয় চারপাশে তাকালে। এই দেখতে কত জায়গা থেকে কত ট্যুরিষ্ট। আশে পাশে গড়ে উঠেছে পুরাই ট্যুরিষ্ট জোন। বার, রেষ্টুরেন্ট, পাব সবকিছু বিদেশী ট্যুরিষ্ট এ ভর্তি। অথচ আমাদের কাপ্তাই লেকের নখের সমান ও মনে হয় হবেনা ফেওয়া লেক কোন দিকে দিয়েই। পার্থক্য শুধু একটাই। কিভাবে তারা ওটাকে ট্যুরিষ্টবান্ধব করে রেখেছে। যাই হোক পোখারাতে আমরা ৩ রাত ছিলাম। এক্টিভিটি গুলার জন্যই মেইনলি। লেকের ধারেকাছে কম ই গেছি। কিন্তু লেকসাইড রোড এবং এলাকাটা ভালোই লাগে। উৎসব উৎসব একটা ভাব আছে চারদিকে।

শপিং এর ইচ্ছা থাকলে পোখারা থেকে না কিনে থামেলে চলে আসা বেটার। এক ই জিনিস মোটামোটি কম দামে পাওয়া যায়। শাল এবং পাথর বসানো অর্নামেন্টস গুলা বেশী জনপ্রিয়।

একরাত ছিলাম থামেলে, পরেরদিন দুপুরে বাংলাদেশ বিমানের ফিরতি ফ্লাইট।
৭দিনের মত ছিলাম নেপালে। জমসমের জায়গাগুলা সবচেয়ে মিস করেছি সবসময়। পোখারা ভাল লেগেছে এক্টিভিটিগুলার জন্য।
ও অনেকে কাঠমুনডু অনেক আগ্রহ নিয়ে ঘুরে, মন্দির দেখার ইচ্ছা না থাকলে কোন দরকার নাই, আমরা ভক্তপূর ও যাইনি। নাগরকোট লিষ্ট এ ছিল কিন্তু সবাই বলেছে জমসম দেখে আসার পর ওটা সাদামাটা লাগবে তাই আর যাইনি।

খাবারের মধ্যে মম টাই বেশী ভাল্লাগছে। আর পোখারাতে কিছু রোডসাইড বারবিকিঊ এর দোকান আছে। কম খরচে ভাল খাবার পাওয়া যায়। ভাল কোথাও গেলে ভেজ পিজা ট্রাই করবেন। ভালই মজা।
নেপালী থালি আমাকে বরাবরর ই হতাশ করেছে। তারা যেই থালি দিয়ে ৩০০-৬০০ রুপি রাখে বাংলাদেশে ১০০ টাকার মাঝে এক ই রকম খাবার পাওয়া যাবে :/

যতদিনের ভ্রমন ওই তুলনায় ছবি মনে হয় কম ই তোলা হইছে। ক্যামেরায় শুধু জমসমের গুলাই তুলেছিলাম। কোনটা দিব না দিবা চিন্তা করে পুরো এলবাম টাই শেয়ার দিলাম। কিছু নিজেদের ছবি ও আছে এতে এজন্য দু;খিত 🙂
[Total cost was around 40,000 taka. Including Plane fare 17500 taka + Paragliding 6500 taka + Water rafting 3100 taka]
Copied from: Rahat Raiha

Share:

Leave a Comment

Shares
error: Content is protected !! --vromonkari.com