পাতায়া-কোরাল আইল্যান্ড ভ্রমণ

সকাল আটটার দিকে ঘুম ভাঙলো, থাইল্যান্ডের আজকে আমার তৃতীয় দিন, এই মুহূর্তে আছি পাতায়াতে। গত রাতের ওয়াকিং স্ট্রিট এবং পাতায় শহরের আলোর ঝলকানি মাথায় এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। এরইমধ্যে রুমের কলিংবেল বেজে উঠলো, আমি কিঞ্চিৎ অবাক হলাম যে এত সকালবেলা কে আমাকে নক করবে? দরজা খুলতেই হোটেলের রিসিপশনিস্ট সুন্দরী থাই রমণী কম্প্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্ট এর দাওয়াত দিয়ে গেল। আড়মোড়া ভেঙে হোটেলের রেস্টুরেন্টে গিয়ে আমি তো অবাক! ১৬ থেকে ২০ প্রকারের ব্রেকফাস্ট আইটেম দিয়ে বুফে সাজানো। কিন্তু আমার রিজিকে ছিল মাত্র ৩ থেকে ৪ টা আইটেম। বাকিগুলো আমি খেতে পারিনি। কম্প্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্ট বলতে একদম ফ্রি নয়, হোটেল ভাড়ার সাথে 500 টাকা এক্সট্রা ডিপোজিট করেছিলাম এই বুফে ব্রেকফাস্ট এর জন্য। আর হ্যাঁ বলে রাখা ভালো, আমি যে হিসেব গুলো দেই সেগুলো সরাসরি টাকার হিসাব। কেননা থাই মুদ্রায় হিসেব দিতে গেলে প্রতিবারই কনভার্ট করতে হয়, তাই আমি সরাসরি টাকার হিসাবটাই উল্লেখ করছি।

ব্রেকফাস্ট পর্ব শেষ করে আমি সকালবেলার বিচ দর্শনে চলে যাই, সে কী অপূর্ব – নিরব – নিথর – নিস্তব্ধতার ভেতর দিয়ে ঢেউ এর আওয়াজ!! বেশ কিছুক্ষন সময় আমি বিচে কাটাই। ততক্ষণে বিচে লোকজন চলে আসতে শুরু করেছে এবং রোদ উঠে গেছে। আমি হোটেলে ফিরে হালকা ফ্রেশ হয়ে আমি স্কুটি নিয়ে বের হয়ে যাই পাতায়া সিটিকে বিদায়ী দর্শন দেওয়ার উদ্দেশ্যে!! কেননা দুপুরের আগেই আমি রওনা দিব টুরিস্ট অ্যাট্রাকশন কোরাল আইল্যান্ড এর দিকে। কোরাল আইল্যান্ডে আমি একরাত থাকবো ভেবেছি সুতরাং পাতায়াতে আর থাকা হবে না। তাই শেষবারের মতো একটু দেখে নিচ্ছি। পাতায়া তে দেখার মত অনেক কিছু রয়েছে এগুলো আপনারা গুগলে সার্চ করে দেখে নিবেন। আমি বাইক হাঁকাতে হাঁকাতে আবার হোটেলে ফিরে এলাম এবং ব্যাগ গুছিয়ে হোটেল থেকে চেক আউট করে নিলাম।

হোটেল থেকে বের হয়ে কোরাল আইল্যান্ডে যাবার ফেরিঘাটের দিকে যাচ্ছি । ফেরিঘাটে যেতে ওয়াকিং স্ট্রিট পার হতে হয়। ফুটপাথ দিয়ে হাঁটার সময় সুন্দরী মেয়েরা মাসাজ মাসাজ বলে ডাকতে থাকে। হাতের ইশারায়, চোখের ইশারায় বিভিন্নভাবে আকর্ষিত করার চেষ্টা করে। ব্যাপারটা যদিও প্রথমদিকে রোমাঞ্চকর লাগে!! কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই এটা বিরক্তিতে পরিবর্তন হয়ে যায়!! আমি তাদের মাঝে খুবই অস্বস্তি বোধ করছিলাম তাই ১২০ টাকা দিয়ে বাইক ভাড়া করে চলে গেলাম ফেরিঘাটে!

আমি যে হোটেলটিতে ছিলাম সেখান থেকে বাইকে করে ফেরি ঘাটে যেতে মাত্র 6 মিনিট সময় লেগেছে। আমার মত একাকী ট্রাভেলারের জন্য বাইক ভাড়া এবং স্কুটি ভাড়া নেওয়া ছল আশীর্বাদ স্বরূপ। বাইক থেকে নেমেই চোখে পড়ল সেই বিখ্যাত পাতায়া লেখাটা! যেটা বিভিন্ন ছবি বা মুভিতে আপনারা দেখেছেন। হলিউড স্টাইল পাহাড়ের উপর বিশাল বড় করে লেখা PATTAYA City!! সেখান থেকে আমি যে হোটেল এরিয়াতে ছিলাম সেই এলাকাটা কে খুব সুন্দর দেখাচ্ছিল।

এখন বেলা এগারোটা, আকাশে প্রচন্ড রোদ, এই রোদে পাতায়া সিটিকে দেখতে অভূতপূর্ব সুন্দর লাগছিল। ফেরিঘাটের দিকে দু এক পা বাড়াতেই প্রচুর ট্রাভেল এজেন্ট ঘিরে ধরল, স্পিড বোর্ড এর মালিক, চালক, এজেন্টরা তাদের স্পিডবোটে যাবার জন্য অনুরোধ করতে লাগল । বিভিন্ন ধরনের ছবি দেখাতে লাগলো , কোরাল আইল্যান্ডে হোটেল বুকিং এর জন্য রিকোয়েস্ট করতে লাগলো। কিন্তু আমি কোনকিছুকেই তোয়াক্কা না করে ফেরীর দিকে হেঁটে গেলাম। কেননা কোরাল আইল্যান্ড যাবার জন্য ফেরী হচ্ছে আদর্শ।

যারা দিনে দিনে ফিরে আসার প্ল্যান করেন তাদের জন্য স্পীডবোটে যাওয়াই উত্তম। কেননা মাত্র 10 মিনিটের মত সময় লাগে। যেটা ফেরীতে গেলে ঘন্টা দেড়েক সময় লেগে যায়। আমার সময় নিয়ে খুব একটা চিন্তা ছিলো না তাই আমি ফেরী প্রিফার করলাম।

৯০ টাকা দিয়ে টিকেট কেটে ফেরিতে উঠে একদম পেছনের দিকে বসলাম। পেছনের দিক থেকে সমুদ্রের বেটার ভিউ পাওয়া যায়। আমার পাশে কয়েকজন নেপালি ভদ্রলোক এবং ভদ্রমহিলা বসেছে। তাদের সাথে আলাপ-আলোচনা হলো । আমার সাথে সেলফি তুললো, আমার সিঙ্গেল ছবি তুলে দিল তারা নিজে থেকেই। আমাকে ভালো লাগার আরেকটা কারণ তারা জনালো যে , তাদের কোন এক ফ্রেন্ড ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে পড়াশোনা করে নেপালে বর্তমানে খুব ভালো পজিশনে আছে। তাই তারা ঢাকাকে অন্যরকম চোখে দেখে। তাই আমাকেও তারা অন্যরকম চোখে দেখতে লাগল !! হা হা হা! তারা বারবার জিজ্ঞেস করছিলো যে কিভাবে আমি একা সেখানে চলে গেলাম!! কেননা আমার জানামতে সেই ফেরিতে একাকী কোন ট্রাভেলার ছিলনা, ন্যূনতম দুই বা ততোধিক ভাগ ছিল সবাই।

এক বৃদ্ধ মহিলা আইসক্রিম বিক্রি করতে আসলো। লাল – নীল – হলুদ বিভিন্ন রকমের আইসক্রিম! ৬০ টাকা দিয়ে আমি নীল রঙের একটা আইসক্রিম নিলাম, ততক্ষণে আমাদের ফেরী কোরাল আইল্যান্ড এর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে। নীল আকাশ, নীল সমুদ্র, নীল দিগন্ত, নীল আইসক্রিম !! ব্যাপারটা বেশ অদ্ভুত রকম ভালো লাগছিল। সত্যি বলতে প্রতিটা মুহূর্ত এক্সাইটমেন্ট এ ভরপুর ছিল আমার! কেননা প্রতি মিনিটে নিজেকে আবিষ্কার করছিলাম নতুনভাবে।

নীল সাগরের বুকে হেলেদুলে আমাদের ফেরিটি কোরাল আইল্যান্ড পৌঁছে গেল। ষাটোর্ধ এক ভদ্রলোক নামতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পানিতে পড়ে গেল, সাথে সাথে পুলিশের দুইজন তাকে আবার তুলে নিল। তারপর বাকি সবাইকে হাতে ধরে খুব সাবধানে ফেরি থেকে নামিয়ে নিল পুলিশ সদস্যরা। তারা আসলে পুলিশ কিনা আমার জানা নেই তবে পুলিশের ড্রেস পরা ছিল।

আমি চক্ষু বিস্ফোরিত করে চতুর্দিক দেখছিলাম, কিন্তু ততক্ষণে বেশ ভাল রকম ক্ষুধা পেয়ে গেছে। নতুন জায়গা তাই রেস্টুরেন্ট বা খাবার কোথায় পাওয়া যাবে সেটা খোঁজ করার আগেই ঘাটে পেয়ে গেলাম বৃদ্ধ একজন ফল বিক্রেতা। তরমুজ, আনারস এবং আধা পাকা আম খেয়ে নিলাম ৩০০ টাকা দিয়ে। মোটামুটি ক্ষুধা মিটে গেল এবং আমি ফেসবুকে লাইভ করলাম এবং আইল্যান্ডের মূল পয়েন্টের দিকে হাঁটতে লাগলাম। নীল সমুদ্র আর সবুজ পাহাড় এত সুন্দর লাগছিল যে ভাষায় প্রকাশ করা মুশকিল । বিধাতা যেনো নিজ হাতে সাজিয়ে দিয়েছে। প্রকৃতির অবারিত সৌন্দর্য অবলোকন করে নিমিষেই চাঙ্গা হয়ে গেলাম। কোরাল আইল্যান্ড এর সৌন্দর্য গুগলে সার্চ করে দেখে নেবার অনুরোধ রইলো। আর যদি সুযোগ থাকে তাহলে অবশ্যই স্বচক্ষে দেখার আবেদন।

অদ্ভুদ সুন্দর পরিবেশ। নির্জন এলোমেলো বাতাস স্বচ্ছ নীল পানি পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকে। স্বাতন্ত্র্যের কারণে কোরাল ল্যান্ড দ্বীপে প্রতি বছরেই লাখো পর্যটক বেড়াতে আসে। জীববৈচিত্র্যে ভরা এই দ্বীপটিতে প্রকৃতি যেন সৌন্দর্যের পসরা খুলে বসে আছে। কোরাল ল্যান্ড দ্বীপে নেমেই এর নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখে পর্যটকরা আত্মহারা হয়ে ওঠেন। অনেকে নেমেই দৌড় শুরু করেন। জলের বড় বড় ঢেউগুলো এখানে আছাড় খাচ্ছে। এ এক অপরূপ দৃশ্য। নীল আকাশ, নীল জলের সঙ্গে গাঢ় সবুজ গাছ প্রকৃতির সৌন্দর্য সব কিছু উজাড় করে দিয়েছে দ্বীপটিকে। এলোমেলো বাতাস সমুদ্রের গর্জনের সঙ্গে মিলেমিশে এক মোহনীয় পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। প্রচুর পর্যটক এখানে এসেছে। সুমদ্রের পানিতে শিশু যুবক-যুবতী নারী-পুরুষ সকলে সমুদ্রের পানির ঢেউয়ে খেলছে। সমুদ্রের নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে কেউ যেতে পারে না। অনেক যুবক স্পিড বোটে ঘুরছে।

আইল্যান্ডের অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসের সামনে থেকে আমি এক বাইক ওয়ালাকে জিজ্ঞাসা করলাম আমার হোটেল এর ব্যাপারে। সে ভুল বুঝে আমাকে নিয়ে রওনা দিলো এবং পাহাড়ের অলিগলি পেরিয়ে আমাকে একটা বিচে নিয়ে নামিয়ে দিলো। সেখানে নেমে আমি বুঝতে পারলাম সে আমাকে ভুল জায়গায় নিয়ে এসেছে । কিন্তু তাতে আমার খুব একটা মন খারাপ হয়নি। কেননা বেশ ভালই লেগেছিল। কিছুক্ষণ সেই বীচে ডাব খেতে খেতে জিরিয়ে নিলাম। সেখান থেকে বয়স্ক এক বাইক ওয়ালাকে দিয়ে আমি আমার হোটেলে চলে এলাম। কোরাল আইল্যান্ডে আমি যে হোটেলটিতে ছিলাম সেটি ছিল একদমই সমুদ্রের সাথে লাগোয়া। হোটেল রুম থেকে পাতায়া সিটি আবছা আবছা দেখা যায়। ঠিক যেন রূপকথার গল্পের মতো।

আমি হোটেলে যে রুম বুক করে ছিলাম সেটির ভাড়া ছিল প্রতিরাত 3000 টাকা, সাথে ফুল ট্যাংকি সহ একটা হোন্ডা এক্টিভা মডেলের ১২৫ সিসির স্কুটি। হোটেল রুম যথেষ্ট পরিমাণ ভালো ছিল। প্রয়োজনীয় প্রায় সবকিছুই ছিল হোটেলটিতে। হোটেলটিতে আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে সেটা হচ্ছে হানিমুন সুইট। প্রতি রাতের ভাড়া ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। কিন্তু সারা জীবন মনে রাখার মতো একটা পরিবেশ পাবেন সেখানে। সম্পূর্ণ রুমটি সম্পূর্ণ সমুদ্রের উপরে । ৩ দিকের জানালা দিয়ে শুধু সমুদ্র দেখা যায়!! । ভাবুনতো আপনি আপনার পরিবার সহ সেখানে একটি রাত কাটালে কেমন হতো ??

হোটেলের পাশেই ৭/১১ সেভেন ইলেভেন শপ রয়েছে। যেটা একটা প্লাস পয়েন্ট। কেননা ৭/১১ সেভেন ইলেভেন পর্যটকদের জন্য খুব উপকারী। এখানে প্রায় সব ধরনের জিনিসপত্র সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যায়।

আমি দুপুরের জন্য খাবার খুঁজতে লাগলাম কিন্তু সেখানকার লোকজন ইংরেজি বোঝে না বললেই চলে। তাই কাউকে কোন কিছু জিজ্ঞাসা করে খুব ভালো ফলাফল পাচ্ছিলাম না। তাই গুগলের সাহায্য নিলাম, গুগোল ট্রান্সলেটর ওপেন করে আমি ইংরেজিতে বলি তারা থাই ভাষায় শোনে! তারা থাই ভাষায় বলে আমি ইংরেজীতে শুনি বা দেখি!! বিষয়টা কিন্তু বেশ ইন্টারেস্টিং। তবে হাতের ইশারায় অনেক কাজ চালিয়ে নেওয়া যায়!

ভেবে দেখুন তো, আপনাকে যদি এমন কোন জায়গাতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, যেখানে আপনার ভাষা কেউ বুঝবেনা এবং আপনি কারো ভাষা বুঝবেন না । আপনার হাতে কোন মোবাইল ফোনও থাকবে না! সে ক্ষেত্রে পরিস্থিতি টা কি রকম হতে পারে??

আমি কিন্তু এই পরিস্থিতিতে দেখার জন্য ইচ্ছা করেই রুমের ভেতরে মোবাইল রেখে ঘুরতে বের হয়েছি বেশ কয়েকবার!! আমি যেটা অনুভব করেছি সেটা খুবই মজাদার !! মানে আমি কারো সাথে কোন কথাই বলিনি!! শুধু ইশারায় কথা বলেছি । যেন আমি একটা বোবা!! এই এক্সপেরিমেন্ট আপনিও করে দেখতে পারেন। বেশ মজা পাবেন!

কোরাল আইল্যান্ডে খুব উন্নতমানের রেস্টুরেন্ট আছে, কিন্তু সেগুলো রাতেরবেলা জমে ওঠে। দুপুরে খুব বেশি রেস্টুরেন্ট খোলা থাকে না । তো আমি এক রেস্টুরেন্টে গিয়ে গুগল থেকে আমাদের দেশের মত ফ্রাইড রাইস উইথ চিকেন এর ছবি ডাউনলোড করে দেখিয়েছি!! জিজ্ঞেস করেছি যে তারা এটা আমাকে বানিয়ে দিতে পারবে কিনা?

তারা ছবি দেখে কনফিডেন্টলি বলল যে তারা পারবে। এবং বেশ কিছু সময় নিয়ে তারা আমাকে যে খাবারটা পরিবেশন করলো সেটা স্বাদ ভোলার মতো না। খুবই ভালো হয়েছিল ফ্রাইড রাইস উইথ চিকেন। এর পর এই টিপস টা আমি বিভিন্ন জায়গায় কাজে লাগিয়েছি। কেননা খাবারের ছবি দেখালে তারা খাবার খুব সহজেই তৈরি করে দিতে পারে।

ঘুরাঘুরির বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন জায়গাতে আমাকে জিজ্ঞাসা করছিল আপনি কোন দেশ থেকে এসেছেন? যখন আমি বাংলাদেশে বা বাংলা বলতাম তখন অনেকেই চিনতে পারত না। তাই আমি গুগল ম্যাপে বাংলাদেশ আইডেন্টিফাই করে একটা স্ক্রিনশট রেখে দিয়েছিলাম এবং যারা আমাকে জিজ্ঞাসা করতো কোন দেশ থেকে এসেছি, তাদেরকে সেই ছবি দেখিয়ে দিলে সহজেই তারা বুঝতে পারতো। তবে শারীরিক গঠন ও গায়ের রং দেখে প্রথমে সবাই অনুমান করে যে আমি ইন্ডিয়ান!!!

খাবার দাবার শেষ করে রুমে এসে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলাম , তারপর স্কুটি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম পুরো আইল্যান্ড ঘোরার উদ্দেশ্যে। আমি দেড় ঘন্টায় প্রায় পুরো আইল্যান্ড দেখা শেষ করে ফেললাম। এবং পুরো আইল্যান্ড সম্পর্কে একটা বেসিক ধারণা নিয়ে নিলাম। তারপর হোটেলে এসে কাপড় চোপড় পাল্টে আবার বের হলাম বিচে গোসল করার উদ্দেশ্যে। খালি পা, হাফ প্যান্ট, শর্ট গেঞ্জি পরে স্কুটি চালাতে অসাধারণ খুশি লাগছিল। পাহাড়ি পথে স্কুটি চালানোর মজা যারা জানেন, তারা বুঝতে পারবেন যে আমার ফিল-টা কি হয়েছিল।

দেখতে দেখতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে এলো, আমি স্কুটি চালিয়ে আমার হোটেলে ফেরত আসলাম এবং সন্ধ্যাকালীন স্ট্রীট ফুড খাবারের জন্য হাঁটতে বের হলাম। হরেক রকম খাবারের পসরা সাজিয়ে বসে ছিল দোকানী মেয়েরা। আমি যতটা পারলাম ট্রাই করলাম। কোনটা এক কামড়, কোনটা দুই কামড়, কোনটা পুরোটা, কোনটা ঘ্রাণ নিয়েই ফেলে দিয়েছি।

ছোট্ট একটা আইল্যান্ড, কিন্তু বেশ কয়েকটা ধর্মীয় উপাসনালয় চোখে পড়ল। কোরাল আইল্যান্ড এর ভিউ পয়েন্টে বিশাল আকার বুদ্ধের মূর্তি রয়েছে। বুদ্ধের মূর্তি থেকে থেকে পুরো আইল্যান্ড কে পাখির চোখে দেখা যায়।

অন্ধকার হয়ে যাবার পর আমি গিয়ে বসলাম হোটেলের রেস্টুরেন্ট অর্থাৎ সী ভিউ পয়েন্টে। সেখান থেকে পুরো আইল্যান্ড এর একপাশ দেখা যাচ্ছিল, আলোর ঝলকানি , উদ্দাম বাতাস, বড়সড় এক কাপ কফি এবং আকাশ ভরা তারা কি যে সুন্দর লাগছিল পরিবেশটা। আহ!! আবার যদি যেতে পারতাম!

রাতের বয়স যখন বাড়তে লাগলো তখন আমি রুমে চলে এলাম এবং ঘুমানোর প্রস্তুতি নিলাম। অবাক করা বিষয় হচ্ছে, কোরাল আইল্যান্ডে আমি ইন্টারনেটের টপ স্পিড পেয়েছি ৪০ মেগাবাইট পার সেকেন্ড। এই দুর্দান্ত ইন্টারনেটের সাথে ফেসবুকে গুতাগুতি করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে গেলাম আর বলতে পারছি না!!

Source:Mahfuz Akand‎<Travelers of Bangladesh (ToB)

Share:

Leave a Comment

Shares