বাংলার পর্যটন রাজধানী

পৃথিবীর মানচিত্রে খুব ছোট্ট একটি দেশ আমাদের বাংলাদেশ। তথাপি রূপ-লাবণ্য আর বৈচিত্র্যময়তায় মুগ্ধ হয়ে হিউয়েন সাং বলেছিলেন,”ঘুমন্ত সৌন্দর্যের আঁধার।” কখনো পাহাড়ি খরস্রোতা নদীর বুকে ভেসে চলা আর দু’পাশের পাহাড়গুলোর মেঘমালার মাঝে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকা মনকে শিহরিত করে। আবার কখনো বা আঁধারে ঢাকা নি:স্তব্ধ সৈকতে দূর থেকে ভেসে আসা সমুদ্রের গর্জনে মনে হয় আরো এক জীবন যদি এভাবেই কেটে যেতো। জন্ম সার্থক একজন বাঙালি হয়ে।
পৃথিবীর দীর্ঘতম নিরবচ্ছিন্ন বালুকাবেলার সৈকত কক্সবাজার। ভ্রমণ পিপাসু মানুষের কাছে বাংলার পর্যটন রাজধানী হিসাবে পরিচিত। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স এর নামানুসারে কক্সবাজার নামকরণ করা হয়। কক্সবাজারের পূর্বনাম ছিল পালংকি। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধ্যাদেশ,1773 জারি হওয়ার পর ওয়ারেন্ট হোস্টিং আসেন বাংলার গভর্নর হয়ে এবং হিরাম কক্স আসেন মহাপরিচালক হয়ে। আরাকান শরণার্থী এবং স্থানীয় রাখাইন সম্প্রদায়ের মধ্যে হাজার বছরেরও পুরানো সংঘাত নিরসনের চেষ্টা করেন। কিন্তু কাজ শেষ করার আগেই তিনি মারা যান। কিন্তু তার এই অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে পরবর্তীতে একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করা হয় যা “কক্স সাহেবের বাজার” নামেই পরিচিতি পায়। একবিংশ শতাব্দীতে এসেও সেই নামটি ধারণ করাটাই প্রমাণ করে বাঙালি বিশাল হৃদয়ের অধিকারি এক জাতি।
নি:সন্দেহে সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের মূল আকর্ষণ। পাশাপাশি হিমছড়ি পাহাড় থেকে শেষ বিকেলের আলোয় অস্তমিত সূর্য কে দেখা, ইনানি সৈকত, রামুর রাবার বাগান এবং একশো ফিট সিংহ শয্যা বৌদ্ধ মূর্তি, মহেশখালি দ্বীপ নি:সন্দেহে আপনার ভ্রমণ পিপাসু মনের যাবতীয় ক্লান্তিকে দূরীভূত করবে। ছবিটি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে তোলা (ঢাকা- কক্সবাজার- সমুদ্র সৈকত)

Post copied From:Saikat Hussain‎>Travelers of Bangladesh (ToB)

Share:

Leave a Comment

Shares
error: Content is protected !! --vromonkari.com