বান্দরবন ভ্রমন

ভ্রমনের তারিখ : ১৬/১১/২০১৭-২০/১১/২০১৭

আমরা রাতের বেলা ১০.৩০ বাজে কল্যানপুর থেকে যাত্রা শুরু করি! ভোর ৬.৩০ বান্দরবন সদরে পৌছে যাই। নাস্তা সেরে ৯ টা বাজে চান্দের গাড়িতে যাত্রা শুরু করি। যাওয়ার পথে পাহাড়ি রাস্তাগুলো যেন স্বপ্নেরমত! যখন চিম্বুক পাহাড়ে উঠতে শুরু করি তখন মনে শুধু বিস্ময় 😨 আর কত উপরে উঠবো! 😱
যাওয়ার সময় সাদা মেঘে মুড়ানো পাহাড় গুলো দেখে মন থেকে শুধু একটাই শব্দ আসে আর সেটা হল “আলহামদুলিল্লাহ ” 
সারা রাস্তা তাই চান্দের গাড়ির ছাদে বসে এসেছি! 😜
চান্দের গাড়ি থানচি পৌছায় বেলা ১২ টার পর!
আমরা প্রায় ১.৩০ টায় বোটে উঠি! লেটে উঠার কারন আমরা যখন থানচি যাই তখন পথে পথে চেকপোস্টে মিথ্যা বলতে হচ্ছিল কারন থানচি এর আগে যাওয়ার পারমিশন ছিল না! একজন এমপি সেই এলাকা পরিদর্শন করবে তাই! মনে তাই ভয় ছিল যেতে পারব কিনা 😰
তবে অবশেষে সব ম্যানেজ করে বোটে উঠলাম! 😍
স্বচ্ছ সবুজ-নীলাভ পানি দেখে মন মন্ত্রমুগ্ধ হচ্ছিল! সুউচ্চ পাহাড় আর স্বচ্ছ সবুজ-নীলাভ পানি এসব সৌন্দর্য চোখের ক্যামেরায় বন্দী করছিলাম! 💜
যাত্রা পথে আমরা বড় পাথর দেখতে পাই!
বিকাল ৪.৩০ টার দিকে প্রায় আমরা রেমাক্রি পৌছাই। রাতে নাফাখুম পাড়ায় থাকব তাই রেমাক্রিতে বোট নামিয়ে দিলে সবাইকে সেখান থেকে হাটা শুরু করি! ১.৫ ঘন্টা পর পথিমধ্যে অন্ধকার শুরু হয়! প্রায় ২৫ মিনিট ঘুটঘুটে অন্ধকারে উচু-নিচু, বন্ধুর পথ, ঝিরিপথ পার করি টর্চের আলো ছাড়াই কারন সাথে থাকা ফ্রেন্ড টর্চ এর কথা ভুলে গেছিল 😑
যাই হোক অবশেষে যখন ট্রেক শেষে টর্চ এর আলোয় শুভ্র, সাদা মেঘের মত স্বচ্ছ নাফাখুম এর জলরাশি দেখতে পাই সকল কষ্ট ভুলে যাই 😍
সেদিন রাতে নাফাখুমে তাবু খাটাই! রাতের বনমোরগ বারবিকিউ এখনও যেন মুখে লেগে আছে 😋
পরের দিন খুব ভোরে খেয়ে দেয়ে প্রায় ৮ টার দিকে নাফাখুম থেকে আমিয়াখুম এর পথে যাত্রা শুরু করি! প্রায় টানা ২ ঘন্টা ট্রেক করার পর জিনাপাড়া এসে ২০ মিনিট রেস্ট নেই! অতপর থুইসাপাড়া এর দিকে যাই সেখান থেকে প্রায় ১.৩০ ঘন্টা পাহাড়ে উপরে উঠা- নামা করে ক্লান্ত হয়ে যাই! দুপুরের তপ্ত রোদে সবার হাটার গতি শ্লথ! তারপর আমরা দেবতা পাহাড় এর খাড়া ঢাল থেকে নামতে শুরু করি! এই ঢাল দিয়ে নামার পরই আমিয়াখুম! যথেষ্ট রিস্কি নামার পথটা! এটা নামতে ৪৫ মিনিট লাগে! যদিও আমরা দ্রুতই নামছিলাম! তারপর সব বাধা পেরিয়ে পানির শব্দ শুনতে পাই! চোখের সামনেই ছিল চোখ ধাধানোঁ রূপসী আমিয়াখুম! সেখানে স্নান সেরে ১.৫ ঘন্টা সময় কাটিয়ে আবার রওনা দেয়া শুরু করি কারন আলো ফুরানোর আগে নাফাখুম ব্যাক যেতে হবে! ভেলাখুম আর সাতভাইখুম না দেখার কষ্ট মনে নিয়ে আবার ফেরত আসলাম! ফেরার সময় খুব দ্রুত ট্রেক করছিলাম যেন সন্ধ্যার আগে নাফাখুম ফেরত যেতে পারি! আলহামদুলিল্লাহ সন্ধ্যার আগেই পৌছে যাই নাফাখুম! সেইরাত নাফাখুমে থাকি তারপর দিন খুব ভোরে নাফাখুমে গোসল সেরে সেখান থেকে আবার ফেরত যাওয়ার জন্য রেমাক্রির উদ্দেশ্য রওনা হই! পথিমধ্যে মনটা খুব খারাপ হয় কখন যে সময় গুলে কেটে গেল টেরই পেলাম না!! 😞

২ ঘন্টা ট্রেকিং এর পর রেমাক্রি ফলসে অনেকক্ষণ হৈ-হুল্লোড় করে বোটে উঠে পড়লাম! থানচি নেমে সেখান থেকে চান্দের গাড়ি দিয়ে বান্দরবন সদর ফেরার পথে নীলগিরি তে নামলাম! নীলগিরি তে কিছু সময় কাটানোর পর বান্দরবন সদরে ব্যাক করলাম! 💔💔

রাত ৯ টার বাস ছিল ভোর ৬ টায় ঢাকা পৌছে যাই!!
আমরা ৯ জন এর টিম ছিলাম, জনপ্রতি ৬২০০ খরচ হয়েছে। আপনাদের কম-বেশি হতে পারে!

সবশেষে এতটুকই বলব যখনই সময় পাই চোখ বন্ধ করে সময় গুলো আবার অনুভব করি! 💜💜💜

 

Post Copied From:

Samia Ahmed > Travelers of Bangladesh (ToB)
Share:

Leave a Comment

Shares
error: Content is protected !! --vromonkari.com