বিরিশিরি নেত্রকোনা জেলার দূর্গাপুর ভ্রমণ খরচাবলি

বিরিশিরি নেত্রকোনা জেলার দূর্গাপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী একটি গ্রাম। বিরিশিরির আকর্ষণীয় স্থান হচ্ছে চীনামাটির পাহাড় এবং স্বচ্ছ হ্রদের নীল জল। সারাদিন ভ্রমণ করে এসে সবুজ ঘাসের উপর বসলে আপনার ক্লান্তি নিমিষেই দূর হবে। স্বচ্ছ এই হ্রদের পানির উৎস গারো পাহাড় থেকে নেমে আসা সোমেশ্বরী নদী!

যেভাবে যাবেনঃ
ঢাকার মহাখালী থেকে জিন্নাত এবং সরকার নামের দুটি বাস আছে। ঢাকা থেকে বিরিশিরি আসার ভাড়া পড়বে ২৫০-৩৫০ টাকা। সময় লাগবে ৫ঃ০০-৫ঃ৩০ ঘন্টা। মহাখালী থেকে রাত ১১ঃ৩০ পর্যন্ত বাস পাবেন। সকালে ভোরে এসে পৌছাবেন বিরিশিরি।

যেখানে থাকবেনঃ
থাকার জন্য দূর্গাপুরে বেশ কয়েকটি রেস্ট হাউজ রয়েছে। সোমেশ্বরী ইন্টারন্যাশনাল, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো তে থাকাটা যৌক্তিক। এই দুইটার সেবা এবং সিকিউরিটি বেশ ভালো।

খাওয়া দাওয়াঃ
দূর্গাপুর বা বিরিশিরিতে খাওয়া দাওয়ার জন্য ভালো মানের হোটেল নেই। স্থানীয় যেসব মাঝারি মানের হোটেল আছে সেগুলোতেই খেতে হবে। তবে হোটেল নিরালার খাবার তুলনামূলক ভাবে ভালো।

যেভাবে ঘুরবেনঃ
সকালবেলা বাসস্ট্যান্ডে নেমে সরাসরি চলে যান রেস্ট হাউজ বা ডাকবাংলো তে। কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। রিক্সা করে চলে যান বিরিশিরি কালচারাল একাডেমি। কিছুক্ষণ সেখানে ঘুরে অল্প দূরেই সোমেশ্বরী নদীর পাড়ে বসতে পারেন। এখান থেকে নদী অনেকটা দেখা যায়। তারপর রিক্সা করে চলে যান তেরী বাজার। নৌকা দিয়ে নদী পার হয়ে শিবগঞ্জ। শিবগঞ্জ থেকে রিক্সা নিয়ে বিজয়পুর বিজিবি ক্যাম্প। ক্যাম্পের সামনে দিয়ে সোমেশ্বরী নদীর পাড়ের দিকে চলে যান। পাড়ে ছোটো ছোটো নৌকা পাওয়া যায়। নৌকা দিয়ে ঘুরে আসুন জিরো পয়েন্ট, রানীর গুহা। স্বচ্ছ নীল পানির উপর ভেসে ভেসে গারো পাহাড় দেখতে থাকুন। এ এক অপার্থিব দৃশ্য। মন ভরে যায়। সোমেশ্বরী নদী সম্পদের আধার। স্বচ্ছ নীল পানির নিচ দিয়ে ছোটো বড় অসংখ্য মাছ, গারো পাহাড় থেকে ভেসে আসা কয়লা, পাথুরে বালি সবই দেখা যায়।

নদী ঘুরা শেষ হলে কমলা পাহাড়ে যেতে পারেন। বিজিবি ক্যাম্পের পাশেই!

তারপর সেখান থেকে চলে যাবেন শাদা মাটি। বিরিশিরির ছবি বলতে আমরা যা দেখি ঐটাই মুলত শাদামাটি বা চীনামাটি পাহাড়ের দৃশ্য। অসম্ভব সুন্দর জায়গা। নীল পানির হ্রদ যার গভীরতা ১২০-১৫০ ফুট। পাহাড়ের উচুতে উঠার জন্য বেশ কয়েকটি পথ আছে। একদম পশ্চিমের পাহাড় থেকে পাহাড়ে উঠা শুরু করুন। তারপর একেকটা ঘুরতে থাকুন।
এখান থেকে গারো বাজারটাও ঘুরে আসতে পারেন। দূরত্ব দেড় কিলোমিটার।

খরচঃ
১. দূর্গাপুর-কালচারাল একাডেমি -২০/-
২.একাডেমি–তেরীবাজার–৩০/-
৩.তেরীবাজার–শিবগঞ্জ–১০/-
৪. শিবগঞ্জ–বিজিবি ক্যাম্প–৬০/-
৫.বিজিবি ক্যাম্প-জিরোপয়েন্ট-রানীরগুহা-২০০-২৫০/-(নৌকা)
৬.বিজিবি ক্যাম্প–শাদামাটি–৭০/-
৭.শাদামাটি–গারোবাজার-৫০/-(বাইক)
৮.গারোবাজার-শিবগঞ্জ–৮০-১০০/-
৯. শিবগঞ্জ–তেরীবাজার–১০/-

এছাড়াও ঘুরতে পারেনঃ
কলমাকান্দার সাত শহীদের মাজার, চন্দ্রডিঙা পাহাড়, সেন্ট জোসেফের গীর্জা, রানীখং গীর্জা।

সতর্কতাঃ হ্রদের পানিতে নামা বিপজ্জনক। কারণ এর গভীরতা ১২০-১৫০ ফুট।
ভ্রমণের স্থানে সিগারেটের ফিল্টার, চিপসের প্যাকেট, ডাবের খোসা, পানির বোতল ফেলে পরিবেশ নষ্ট করবেন না। সর্বোপরি পাহাড়ের উদ্ভিদ এবং প্রানীর ক্ষতি হয় এরকম কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকুন।

Source:

Share:

Leave a Comment

Shares