ভুটান ভ্রমন সম্পর্কে কিছু তথ্য

ভুটান নিয়ে অনেক কিছু পড়েছি TOB এর অনেক পোস্ট এ, আর একটু বেশি এ পড়েছি কারন অনেক দিন থেকে মন ভুটান যাব ভুটান যাব করছিল।একবার বাইরোড যাবার চেষ্টা ও করেছিলাম কিন্তু ভিসা পাই নাই,তাই এবার সময় সুযোগ হতেই এয়ার এর টিকিট কেটে নিলাম।
সোনারতরি টাওয়ার এর ছয়তলায় Druk Air এর অফিস , এটার ও সন্ধান পেয়েছিলাম TOB এর একটা পোষ্ট থেকে। যাবার পনের দিন আগেই টিকিট করে নিয়েছিলাম ২৪,৫০০টাকা দিয়ে । আমার টিকিটছিল 24-5-2019 এর বিকাল ৩ টার, সকালের টিকিট ছিল না,Druk air office থেকে মাসের শেষের দিকের টিকিট গুলো বিকালে কিন্তু আমি এখনি যাব তাই 24-5-2019 এ Friday হবার পর ও টিকিট কাটলাম (Saturday; Sunday.. এ দুদিন Thimpu permission office বন্ধ থাকে) । ফেরার টিকিট ছিল 29-5-2019 এ। আমার ইচ্ছা ছিল Phobjikha যাবার, আার 26 তারিখের(Monday) আগে Punakha Phobjikha যাবার পারমিশন পাব না, তাই সময়টা একটু অল্প হয়েগেল।

প্রথমদিন…..
24 তারিখে ১২ টায় পৌঁছে গেলাম এয়ারপোর্টে , ইমিগ্রেশন শেষ করে অপেক্ষা করতে লাগলাম বিমানে ওঠার । ২.৪৫মিঃ এ বিমানে উঠলাম, ৩ টায় বিমান ছাড়ল, আর আমার অনেকদিনের ইচ্ছে পুরো হচ্ছিল।৪.১০ মিঃ ঐ ভুটানে পৌঁছে গেলাম , ইমিগ্রেশন শেষ করে বাইরে বেরতে ৪.৩০ মিঃ। বাইরে বেরিয়ে ভাবলাম যেহেতু ২৭ তারিখের আগে পারমিশন পাওয়া যাবেনা তাই Paro থেকে Paro ভলো করে ঘুরে দেখি, এয়ারপোর্টে এর বাইরে ট্যাক্সির ভারা বেশী , তাই একটু হেটে গেটের বাইরে শেয়ার ট্যাক্সি পেয়ে গেলাম paro city যাবার জন্য জনপ্রতি ৪০ রুপি করে। Taxi stand এ নেমে হোটেল খুঁজেপেতে অনেকটা বেগ পেতে হলো কারন ওদের ওখানে সিজন চলছে, টুরিস্ট অনেক বেশি । অমার ২৪, ২৫ দুদিনের জন্য রুম দরকার ছিল কিন্তু পলামনা, ২৪ তারিখের একটা রুম পেয়ে উেঠপরলাম ভারা ১৫০০ রুপি। তখন ৫.৪৫ বেজে গেছে । হোটেল কিছুক্ষন রেস্ট নিয়ে সন্ধ্যায় বেরিয়ে পরলাম। চারিদিকে একটু হাটাহাটি করলাম আর সাথে ২৫ তারিখের জন্য অন্য হোটেলে একটি রুম ও পেয়েগেলাম, এরপর টেনশনফ্রি হয়ে হাটাহাটি আর খাওয়াদাওয়া শেষ করে হোটেলে ফেরার সময় ট্যাক্সির খোঁজখবর নিয়ে , ২৫ তারিখে paro ঘুরে দেখার জন্য ট্যাক্সি ঠিক করে হোটেলে ফিরে গলাম।

দ্বিতীয় দিন(25-5-2019)……..
সকালে ৯টার আগেই নাস্তা সেরে তৈরি হয়ে গেলাম। ড্রাইভার ও কথামতো ঠিক সময়ে চলেআসল।ব্যাগ নিয়ে হোটেল চেকআউট করে প্রথম গেলাম চেলেলাপাস। পারো টু চেলেলা পাস আঁকাবাকা পাহাড়ি রাস্তা, পাহাড়ের গায়ে ঘেঁষে এই রাস্তার সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে আপনারা পৌঁছে যাবেন চেলেলাপস, কেউ নিরাশ হবেননা।ঐই 3988 Mtrs উচ্চতায় পৌঁছে, মে মাসে ও প্রচন্ডরকম কাঁপুনি ধরে গেছিলো , ভ্যাগিস জেকেটটা হালকাঠান্ড লাগায় হোটেল থেকে সাথে নিয়ে বেরিয়ে ছিলাম। আর এই চেলেলাপাস এর চারিদিকের সৌন্দর্য নিয়ে TOB এর অনেক লেখায় আপনারা পড়েছেন , তাই সেদিকে আর গেলাম না।চেলেলা থেকে পারো সিটিতে ফিরে দুপুরের খাবারের জন্য ড্রাইভারকে কিছুটা বিরতি দিয়ে, আগেরদিন ঠিককরা নতুন হোটেল (১৫০০রুপি)এ উঠে বেগরেখে তারপর গেলাম টাইগার নেস্ট এর বেইস এ। যেহেতু আমি উপরে উঠবো না তাই নিচের চারপাশটা ঘুরেটুরে দেখলাম । আার আপনারা যদি উপরে উঠতেচান ৫০ রুপি দিয়ে একটি লাঠি ভারা করে নিয়ে ১০,২৪০ফিট উপরের Taksang Lakhang মন্দিরটি ঘুরে আসতে পারেন।৫০০ রুপি দিয়ে টিকিট কাটতে হবে মন্দিরে এন্ট্রি এর জন্য। এরপরে গেলাম জঙ দেখতে, সেখানে ৩০০রুপি এন্ট্রি ফি। সবশেষে পারো সিটিতে ফিরে পরদিন Thimpu এর জন্য টেক্সিওয়ালাকে ঠিক করলাম আর আজকের ভাড়া ২৫০০ রুপি দিয়েদিলাম। পারো শহরটা ছোট কিন্তু শান্ত আর সুন্দর সাজানো-গোছানো, হেঁটে হেঁটেই দেখলাম, কিছুক্ষণ নদীর ধরে হেঁটে হোটেলে ফিরে হোটেলের রেষ্টুরেন্টেই সাদাভাত, ডিম আর মুরগী দিয়ে রাতের খাবার সেরে নিলাম ।।

তৃতীয় দিন (26-5-2019)…….
সকাল ১০ টার দিকে হোটেল থেকে নাস্তা সেরে হোটেল ছেড়ে দিয়ে পারো থেকে থিম্পু এর জন্য বেরিয়ে পরলাম, আগের দিনের সেই ড্রাইভার । তার ৯.৩০ মিঃ এ আসার কথা ছিল , কিন্তু তার একবন্ধুর বউ ও থিম্পু যাবে , তাই তাকে সামনের সিটে নিতে চায়, আর এর জন্য ভারা ২৫০ রুপি কম দিতে বা আমি চাইলে সে Buddha point ঘুরিয়ে দেখাবে তাতে ১০০০রুপি তাকে দিতে হবে।রাজি হয়েগেলাম। থিম্পু পৌঁছে ক্লকটাওয়ার এর কাছেই হোটেল নিলাম(২০০০ রুপি) , রুমটা পছন্দ হলো কারন জানালা দিয়ে ক্লক টাওয়ার দেখা যায়। এরপর ড্রাইভার নিয়ে গেল Buddha point. সেখানে অনেকটা সময় কাটিয়ে ড্রাইভারকে বল্লম Thimpu Local market এ নামিয়ে দিতে । ড্রাইভার Local market এ নামিয়ে দিলে তাকে সেদিনের ভাড়ার ১০০০ রুপি শোধ করে দিলাম আর পরদিন Phobjikha এর জন্য ৯ টার মধ্যে আসতে বললাম।এরপর Local market টা ঘুরে হালকা নাস্তা করে নিলাম। Thimpu শহরটা হেঁটে হেটে ঘুরতে ঘুরতে ক্লকটাওয়ার এর সামনের সিরিতে কিছুক্ষন বসে থাকলাম তারপর সন্ধ্যায় হোটেলে ফিরে হোটেলের রেষ্টুরেন্টে খাবার খেয়ে রুমে।

চতুর্থ দিন ( 27-5-2019)…..
সকাল ৯ টার আগেই নাস্তা সেরে তৈরি হয়ে নিলাম , ৯টায় ড্রাইভার আসলে হোটেল চেকআউট করে গেলাম পারমিশন অফিস Punakha & Phobjikha এর পারমিশন এর জন্য। পারমিশন পেতে পেতে ১১টাবেজে গেল। পারমিশন নিয়ে সোজা চললাম Phobjikha , যাবার পথে কোথাও দেরি করিলাম না কারন Phobjikha টা ভাল করে ঘুরে দেখব। Thimpu থেকে Phobjikha যাবার পথের সৌন্দর্য মন ভরিয়ে দেবে।আমার কখনো মনে হয়েছে আমি পাহাড়ের চুড়ায় পৌঁছে গেছি আবার একটা বাঁক ঘুরলে মনেহয় অন্য পাহাড়ের পেটের কাছে পৌঁছে গেছি ।দুপুর ৩টায় Phobjikha পৌঁছে গেলাম , হোটেল আগে থেকেই ঠিক করা ছিল সেই হোটেলেই উঠলাম (১৮০০রুপি)। সাদাভাত, ডিম আর ডাল দিয়ে দুপুরের খাবার খেলাম, রান্না খুবই ভালো লগলো এরপর একটা হট চকলেট খেলাম সেটিও খুব ভালো লাগলো। রুমের দু’দিকের জানালা দিয়ে পাহাড় আর ভ্যালি দেখাযাওয়ায় রুমটা আমার খুব পছন্দমতো হয়েছিল । কিছুক্ষণ রেষ্ট নিয়ে বেরহলাম Valley ঘুরে দেখতে। Valley এর আঁকাবাকা পথ, পাহাড়ের মাঝ দিয়ে মেঘের উড়ে যাওয়া , নানান রকমের পাহাড়ি ফুলর থাকা, পাহাড়ের গায়ে থাকা বড়বড় গাছের সারি সেই সাথে শরীর হিম করা ঠান্ডা বাতাস এক নিমিষে মন ভরিয়ে দিল। এই সৌন্দর্য ছবিতে ধরে রাখা সম্ভব নয়, তবু্ও মাঝে মাঝেই সে চেষ্টা করলাম। খুবই অল্পসময়ে আমি এই Valley এর প্রেমে পড়ে গেলাম । রাস্তা ধরে উদ্দেশ্য হীন ভাবে চারিদিকে দেখে হাঁটছিলাম, ঠিক তখনই শুরু হলো ঝিরিঝিরি বৃষ্টি । এই বৃষ্টি ঠান্ডার সাথে সাথে চারিদিকের সৌন্দর্যকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে তুললো আর আমিও মনেমনে বলে বসলাম আমি এখানে আবারও আসবো বরফের সময় , এখন যে এটটা সুন্দর তখনকার সে সৌন্দর্যতো অকল্পনীয় আর সেটি আমাকে দেখতেই হবে। ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে হাঁটতে ভাল লাগছিলো , সন্ধ্যা হতে হোটেলের দিকে ফরতে শুরু করলাম, খুব ঠান্ডা লাগছিল তাই হোটেলে ফিরে কফি আর ফ্রান্স ফ্রাই খেলাম। ৭টার ভিতর রাতেরখাবার রুমে দিয়ে গেল, লেট নাইট খাব বলায় খাবারটা বিশেষ কায়দায় দিয়ে গেল যাতে গরম থাকে। রুম হিটার আন করে খাওয়া দাওয়া করে আারামে ঘুম।

পঞ্চম দিন (25-5-2019)………
সকালের নাস্তা সেরে ৯.৩০মিঃ এ Phobjikha থেকে paro যাবার জন্য বেরিয়ে পরলাম। পথে Punakha শহর এ গেলাম । পুনাখা জঙ, (এন্ট্রি ফি ৩০০টাকা),নদী দেখে ফেরার পথে দোচালা পাস দেখে বিকাল ৫ টায় Paro পৌছালাম। আগের সেই City Hotel এ উঠলাম যেটা আগে থেকেই ২৮ তারিখের জন্য বুকিং দিয়ে রেখেছিলাম ।ড্রাইভারকে ২৭আর২৮ এইদুদিন (Thimpu -Phobjikha -Punakha -Paro) এর জন্যভারা ৬,০০০রুপি পরিশোধ করলাম । রাতের খাবার জলদি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম কারন পরদিন ফেরার ফ্লাইট।

ষষ্ঠ দিন (29-5-2019)…..
সকাল ৮.৪৫ মিঃএর মধ্যে নাস্তা সেরে হোটেলে(১৫০০রুপি) চেকআউট করে এয়ারপোর্টে এর উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পরলাম ।হোটেল থেকে এয়ারপোর্টে ভারা ৩০০ রুপি দিলাম। ১০.৩০মিঃএ ফ্লাইট , ইমিগ্রেশন শেষ করে বসে থাকলাম , সময়ের ১০ মিঃ আগেই বিমানে উঠে পরলাম আর ১ ঘন্টা ১০ মিঃ এর মধ্যে বাংলাদেশ পৌঁছে গেলাম সেই সাথে শেষ হল আমার স্বপ্নের ভুটান টুর।।
***খাবারের খরচ লিখলাম না কারন ওটা যার যার মত হয়।
***ভুটান ভ্রমন এ সবসময় সাথে জেকেট রাখবেন
***ভুটানের লোকজন খুব বন্ধুবৎসল, তাই তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করবেন ।
***বেড়াতেগিয়ে ময়লা আবর্জনা নির্দিষ্ট যায়গায় ফেলবেন। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখবেন

Source:  Rakhi Saha‎ <Travelers Of Bangladesh (TOB)

Share:

Leave a Comment

Shares