মহামায়ায় কায়াকিং:

কায়াকিং বহি:বিশ্বে জনপ্রিয় এডভেঞ্চারের স্পোর্টসের নাম।আমাদের দেশে এর ধারনা সম্পূর্ণ নতুন।আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় কৃত্রিম লেক কাপ্তাইয়ে সর্বপ্রথম কায়াকিং শুরু হয়। খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে জলে ভেসে বেড়ানোর রোমাঞ্চকর এই স্পোর্টসটি।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের মহামায়া লেক যেন এক মায়াজাল।একবার যিনি যাবেন বার বার যেতে চাইবেন। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব লীলা ভূমি পুরো এলাকাটি।ছোট বড় অসংখ্য উকি দিয়ে থাকা পাহাড়,চার পাশের সবুজের চাদরে মোড়ানো অথৈ স্বচ্ছ নীলাভ জল আর শুনসান নিরবতায় একা একা হারিয়ে যেতে চাইবে দূর বহুদূর।বৃষ্টির দিনে লেকে বেড়াতে বেড়াতে হঠাৎ দেখা মেলে চঞ্চলা কিশোরীর মতো দূরন্ত ঝর্ণার।যতই বিকেল গড়িয়ে আসে ততই যেন বাড়ে লেকের রূপ। নিবিড় হয় প্রকৃতি, আপন হয় দূরের সবুজ পাহাড়।

কাপ্তাইয়ের পর এবার এমন পরিবেশে পর্যটক টানতে নতুনভাবে যোগ হয়েছে কায়াকিংয়ের নতুন পর্ব।পাহাড় ঘেরা মহামায়ায় কায়াকিং এর অভিজ্ঞতা অদ্ভুত সুন্দর।নিজেই হয়ে উঠুন নিজ সাম্পানের মাঝি আর অবলোকন করুন নিস্তব্দ সুন্দর সবুজ পাহাড় উকি দিয়ে থাকা মহামায়াকে।দূরেই যেখানে পাহাড় ছুঁয়েছে আকাশকে, মেঘেরা ভেসে বেড়ায় আপন মনে সেখানে টলটলে জলে আপনি নিজেই দেখতে পাবেন নিজের স্পষ্ট ছবি।আগে যেখানে মহামায়া ছিল শুধুমাত্র পারিবারিক বিনোদন স্থান এখন কায়াকিং এর সুবাদে ঢাকা এবং চট্টগ্রাম থেকে কাছে হওয়ার তুলনামূলক দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে মহামায়া,দৃষ্টি কাড়ছে তরুনদের কাছে।আর সে কারণেই মহামায়া কায়াকিং পয়েন্টে বাড়ছে পর্যটকদের ভীড়। প্রতিদিন কায়কিং করছেন শতাধিক দর্শনার্থী।

মহামায়া কায়াকিং পয়েন্টের অন্যতম কর্নধার ছোট ভাই শামীম জানাল বাংলাদেশে কাপ্তাইয়ের পরে এখানেই আছে কায়াক নৌকা। আর কোথাও এমন অ্যাডভেঞ্চার নেয়ার সুযোগ নেই যাত্রীদের।মহামায়ার কায়াক গুলো অন্যস্থান থেকে আরো উন্নত ও নিরাপদ। এগুলো সম্পূর্ন আমদানী করা হয়েছে বাইরে থেকে।

কায়াকিং এর মজার অভিজ্ঞতা নিতে ঘুরে বেড়াতে পারবেন লেকের মাঝে ৮ কিলোমিটার।ঘন্টা প্রতি গুনতে হবে মাত্র ৩০০ টাকা।ছাত্রদের জন্য এই খরচ আরও কম। মাত্র ২০০ টাকা।এক নায়ে চড়া যাবে ২ জন। রয়েছে নিধারিত সীমানা রেখা।এর বাইরে গেলে পর্যটকদের গুনতে হয় ১ হাজার টাকা জরিমানা। ঘন্টা ২ ঘুরে বেড়ালে যে অনন্য অভিজ্ঞতা হবে তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে আপনার জীবনে, এটা নিশ্চিত।

এমন অভিজ্ঞতা নিতে আর কি দেরি করা ঠিক হবে? হবে না কিন্তু!আনন্দকর হোক আপনার ভ্রমন।

পথঘাট:ঢাকা-চট্টগ্রামের যে কেনো বাসে করে সরাসরি নামতে হবে মিরসরাইয়ের ঠাকুরদিঘী বাজারে।ঢাকা থেকে গেলে মিরসরাইয়ের আগে আর চট্টগ্রাম থেকে গেলে মিরসরাইয়ের পরে। সেখান থেকে সিএনজি বা অটোরিক্সা যোগে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই পৌছে যাবেন মহামায়ায়।

Post Copied From:Arifur Rahaman UjJal>Travelers of Bangladesh (ToB)

Share:

Leave a Comment

Shares
error: Content is protected !! --vromonkari.com