মেঘের দেশের মেঘ ছোঁয়া স্নোনেংপাডাং
দূরের পাহাড় যখন হাতছানি দিয়ে ডাকে তখন তার ডাক উপেক্ষা করা সত্যি ই খুব কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে যারা ভবঘুরের মতো ঘুরতে ভালোবাসেন।
এ যেন এক অমোঘ টান, বার বার ছুটে যেতে মন চায়। কিসের নেশায়, কিসের আশায়? শুধুই প্রকৃতিকে এক পলক দেখার আশায়, তার নির্জনতা কে আলিঙ্গন করার লোভে, তার সৌন্দর্যের কাছে নিজেকে সমর্পণ করে দেবার আকুতিতে।
যদি সেটা হয় শুধু এপাড় আর উপার, ঠিক যেন পাশের বাড়ির মিষ্টি মেয়ের হাতছানি 😃
বলছিলাম, মেঘালয়ের মেঘদূত কুমারী গ্রাম স্নোনেংপেডাং এর কথা। যেখানে একবার গেলে দ্বিতীয়বার না যেয়ে থাকার উপায় নেই, আশ্বস্ত করতে পারি।
খুব কম খরচেই আর কম সময়েই ঘুরে আসতে পারেন সৌন্দর্যের খনি, অপরুপ মায়ায় ঘেরা ছিমছাম এই গ্রাম টিতে। আমরা ফ্যামিলি গিয়েছিলাম, কেউ চাইলে, দল বেধে কিংবা কাপল বা ফ্যামিলি হিসেবেও যেতে পারেন।
সব কিছুই ডিপেন্ড করবে আপনাদের চাওয়া, পাওয়া আর সামর্থ্যের উপর। কেউ চাইলে একি জায়গায় গাড়ি ভাড়া করে যেতে পারেন আবার কেউ চাইলে বাসে সো খরচ একটু কম বেশী হতেই পারে। আমি সবার কথা মাথায় রেখেই একটা রাফ হিসেব দিয়ে দিচ্ছি আপনাদের জন্য, আশা করি হেল্পফুল হবে।
সবার আগে পাসপোর্ট করে ভিসা করিয়ে ফেলুন ৬০০ টাকায়। ট্রাভেল ট্যাক্স জমা দিন সোনালী ব্যাংকে, জনপ্রতি ৫০০।
ঢাকা থেকে সিলেটের বাস, জনপ্রতি ৪৮০ টাকা। সেখানে শহরে নেমে পাঁচভাই অথবা পানসী হোটেলে ভরপেট নাস্তা সারুন নিজের মতো করে, সর্বোচ্চ ১০০ টাকা। (নোট- এগুলা নিজের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে সো কম বেশী হবে)
সেখান থেকে বাস যায় তামাবিল বর্ডার পর্যন্ত, বাসভাড়া টা সম্ভবত ১০০ এর একটু কম বেশি, যেহেতু আমরা গাড়ি রিজার্ভ করে গিয়েছিলাম, সিলেট থেকে বর্ডার ২৩০০ টাকা। তাই ভালো হবে একটু বাসভাড়া টা জেনে নিবেন।
সেখানে ২ থেকে আড়াই ঘন্টাতেই পৌঁছে যাবেন রাস্তায় জ্যাম না থাকলে। সেখানে নেমে দুই কাস্টোমসের আনুষ্ঠানিকতা সারূন। ভীড় না থাকলে ঘন্টা এক – দুয়েকের মধ্যেই শেষ হয়ে যায় বাট কপাল খারাপ হলে অনেক দেরীও হয়ে যায় তবে সেটা ভারতের কাস্টোমসে।
যাই হোক, এগুলা শেষ করে ভারতের অফিসের বাইরেই দেখবেন অনেক ট্যাক্সি দাঁড়ানো আছে। যদ শেয়ারে যান তবে ১০০ – ২০০ রুপিতেই পসিবল আর রিজার্ভ গেলে ৪০০-৫০০ তেই। ওরা অনেক চাইবে, বেটার হবে বারগেইনিং করে নিবেন।
সেখানে রাতে থাকার দুইরকম ব্যবস্থা আছে, যদি কারো শিলং যাওয়ার প্ল্যান না থাকে তবে। ফ্যামিল বা কাপল দের জন্য হোম স্টে গুলা পারফেক্ট। আর দলবেধে এডভেঞ্চার প্রিয় মানুষ গুলা চাইলে নদী র পাশেই ক্যাম্প করে থাকতে পারে।
এখান থেকে কন্টাক্ট করে যেতে পারেন আবার চাইলে সেখানে যেয়েও করতে পারেন।
ক্যাম্পে থাকলে ৪০০-৫০০ রুপি আর হোম স্টে গুলাতে ১০০০-১৫০০ রুপি, জায়গা ভেদে।
রাতের খাবার আপনি চাইলে ওরাই প্রোভাইড করবে আবার আপনি চাইলে বাইরে থেকেও খেয়ে আসতে পারেন।
চেষ্টা করবেন মাছ ভাজা, ডাল আর সালাদ দিয়ে ভোজন সারতে, দাম ও কম আর খেতেও বেশ সুস্বাদু। আমরা অনেক কিছু নিয়েছিলাম খাবারে, দাম এসেছিলো ৫০০-৬০০ রুপির মতো সো কম খেলে ২০০ রুপিতেই পসিবল।
ওখানে গ্রাম থেকে বেরিয়ে একটা নতুন রেষ্টুরেন্ট খুলেছে, নাম বিটেলনাট। দেখতে যেমন সুন্দর জায়গাটা, খেতে তেমন মজা আর অনেক আইটেম রয়েছে তাই চুজ করতেও সুবিধা। আর দাম ও একদম হাতের নাগালে।
এবার আসি এক্টিভিটিস এ। সেখানে যাবেন আর কিছু ডেয়ার করবেন না তা কেমনে হয়। বোটিং, কায়াকিং, ক্লিফ জাম্পিং, ট্রেকিং, জিপ লাইনিং, স্নোরকেলিং, স্কুভা ডাইভিং সব ই আছে ৪০০ থেকে ৫০০ রুপির মধ্যে। এরমধ্যে জিপ লাইনিং টা শুধু ২০০ রুপির, যেটা আমার ৫ বছরের বেবী ও করেছে আলহামদুলিল্লাহ, ভিডিও ইনক্লুড করে দিলাম।
অনেকেই এখান থেকে ক্রানসুরি ওয়াটার ফলসে যায় ঘুড়তে যেটা আসলেই খুব সুন্দর। যেতে ঘন্টাখানেক লাগে, গাড়ি ভাড়া ৪০০-৫০০ নিবে। আমাদের হাতে সময় ছিলোনা তাই যেতে পারিনি এবার।
আরেক টা বিষয়, রুপি এখান থেকে নিয়ে যাওয়াই বেটার, যদিও এটা একটু বে আইনি বাট এটাই বেষ্ট ওয়ে। ডলার ভাংগানো যায় ডাউকি বাজার থেকে। আর আমরা ট্রাভেল কার্ড নিয়েছিলাম যেটাও খুব কাজে দেয়। ডাউকি তেই পাবেন স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার বুথ।
এবং লাষ্ট কথা না বললেই নয়, প্লিজ প্লিজ যেখানেই যান, নিজের পরিবেশ, নিজের আশপাশ পরিস্কার রাখুন। এখানে সেখানে ময়লা, খালি বোতল, চিপসের প্যাকেট না ফেলে, নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন।
এই গ্রামের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে একটু পর পর ই বিন দেয়া আছে ময়লা ফেলার জন্য, যা আমাদের কে ভাবতে শিখায় আমরা কি আসলেই পালন করছি আমাদের দায়িত্ব গুলো?
আশা করি, অনেক তথ্যই পেয়ে গেছেন, এর বাইরে কিছু জানার থাকলে প্লিয ফিল ফ্রী টু আস্ক।