লটকন রাজ্যে একদিনের ভ্রমণ ট্যুর

লটকন এর কথা বললেই নরসিংদী জেলার নাম সবার আগে আসবে। কারন নরসিংদী জেলার রায়পুরা, শিবপুর, বেলাব এসব উপজেলায় সবচেয়ে বেশি লটকন হয়ে থাকে। লটকন আমাদের সবারই প্রিয় ফল। যারা সারাদিনই কাজে ব্যাস্ত থাকেন তাদের জন্য ১ দিনের খুব আরামপ্রিয় একটা ভ্রমন নরসিংদী জেলা। তবে লটকন বাগানের পাশাপাশি অনেক কিছু আপনার মন ভরে দিতে পারে বিশেষ করে মাটির তৈরি বাড়ি, চারিদিকের শান্ত পরিবেশ, হাজার বছরের ওয়ারী বটেশ্বর, বেলাব কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ।

লটকন গাছের নিচ থেকে অাগা পর্যন্ত শুধু লটকন অার লটকন। তবে সব থেকে মজার ব্যাপার হলো লটকন গাছের কান্ডে ধরে। এইজন্য এগুলো দেখতেও খুব ভালো লাগে। নরসিংদির মরজালে প্রায় প্রতিটা বাড়িতেই কিছু না কিছু লটকন গাছ রয়েছে। চারা রোপনের পর লটকন গাছ ফল দিতে শুরু করলে দীর্ঘ দিন যাবত ধরে সেই গাছ ফল দেয়। শুধু লটকন গাছের জন্য কিছু পরিচর্যা দরকার হয়। লটকন আমাদের দেশের বর্ষা কালীন ফল। তাই জুন এর মাঝামাঝি থেকে জুলাই এর মধ্যে গেলে লটকন বাগান দেখতে পাবেন। এসব বাগানে প্রবেশে কোনো বাঁধা পাবেন না বরং স্বাগত জানাবে বাগান মালিক বা এলাকার লোকজন। লটকন নিজে থেকে ছিঁড়লেও কেউ কিছু বলবে না, তবু অনুমতি নেওয়া ভালো। কারণ, এমন আন্তরিকতায় অনুমতি না নেওয়া বেয়াদবির সামিল।

লটকনের সাথে যদি দেখা হয়ে যায় হাজার হাজার বছরের ঐতিয্যবাহী “ওয়ারী – বটেশ্বর” তাহলে ক্ষতি কিসে তাতে! বটেশ্বর বাজারে কাউকে জিজ্ঞাসা করে কয়েকমিনিট হাটলেই পাঠান স্যারের সংগ্রহশালায় চলে যেতে পারবেন লটকনের মহাসমুদ্রে ভাসতে ভাসতে! দেখে আসতে পারবেন হাজার বছরের পুরনো বাংলার ঐতিহ্য। দুপুরের খাবারের জন্য মরজাল বাজারে মোটামুটি মানের কয়েকটি হোটেল রয়েছে৷ খাবারের স্বাদ চলনসই। আমরা ঢাকা থেকে বাসে করে মরজাল যাই। মরজাল নেমে সেখানের অটো স্টান্ড থেকে সারাদিনের জন্য একটা অটো ভাড়া করে নেই। এক অটোতে করেই আমরা সারাদিন পছন্দের জায়গায় ঘুরি। আমাদের অটো মামা অনেক আন্তরিক ছিলেন। ওনি নিজের থেকে আমাদের ঝালমুড়ি, চিংড়ি মাছের বড়া ও চকলেট খাইয়েছে। আর অনেক আগ্রহের সাথে প্রতিটি জায়গায় ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন। একটু ভালো ব্যবহার করলেই তারা খুব খুশি হয়ে আপনার জন্য অনেক আন্তরিকতা করবে।

ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে সিলেট, কিশোরগঞ্জ অথবা ভৈরবগামী যেকোনো বাসে উঠে নরসিংদীর মরজাল নেমে যাবেন। ভাড়া পরবে ৬৫-৭০ টাকা করে। মরজাল নেমে একটা অটো সারাদিনের জন্য ৬০০-৭০০ টাকায় রিজার্ভ করে প্রত্যেকটা জায়গা ঘুরে আসতে পারবেন।
মরজাল আমার দেখা খুবই সুন্দর পরিচ্ছন্ন গ্রাম। তাই যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে পরিবেশের সৌন্দর্য নষ্ট করবেন না।
ধন্যবাদ। হ্যাপি ট্রাভেলিং।

Source: Mahamudul Hassan Nabil <Travelers of Bangladesh (ToB)

Share:

Leave a Comment

Shares