সিলেটে হবিগঞ্জ ট্রি এক্টিভেটিং

যারা হবিগঞ্জ সাতছড়ি উদ্যানে ট্রি এক্টিভটিং করতে দেখেছেন কিন্তুকরা হয়নি তারা সহজে সিলেট ভ্রমণের একটা দিন খাদিম নগর জাতীয় উদ্যানে ঘুরে আসতে পারেন ও করতে পারেন ট্রি এক্টিভেটিং। খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের সিলেট জেলায় অবস্থিত একটি জাতীয় উদ্যান। ২০০৬ সালের ১৩ এপ্রিল এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ৬৭৮.৮০ হেক্টর (১৬৭৭ একর) জমি নিয়ে এই জাতীয় উদ্যানটি গঠিত।খাদিমনগর জাতীয় উদ্যানে প্রায় ২১৭ প্রজাতির গাছ এবং ৮৩ প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। সিলেট শহর থেকে জাফলং রোড ধরে ১০ কিমি এর মতো এগুলেই শাহপরান মাজার গেট পেরুনোর পর পরই খাদিম চৌমুহনা। খাদিম চৌমুহনা থেকে হাতের ডানদিকে চলে গেছে রাস্তা। রাস্তা ধরে সামনে গেলে খাদিমনগর চাবাগানের শুরু। বাগানের রাস্তা ধরে আরেকটু সামনে গেলে একটা কালভার্ট। কালভার্ট পেরিয়ে বামের রাস্তা না ধরে পথ ধরে এগিয়ে যেতে থাকলে আরো চা বাগান, চা বাগানের পর প্রাকৃতিক বনের হাতছানি। মুল সড়ক থেকে উত্তরের দিকে পাকা, কাঁচা ও ইট বিছানো পাঁচ কিমি পথ পেরুনোর পর খাদিমনগর রেইনফরেস্টের শুরু। পূর্বে ছড়াগাঙ্গ ও হাবিবনগর, পশ্চিমে বরজান ও কালাগুল, উত্তরে গুলনি, দক্ষিনে খাদিমনগর এই ছয়টি চা বাগানের মাঝখানে ১৬৭৩ একর পাহাড় ও প্রাকৃতিক বনের সমন্বয়ে গড়ে উঠা এই রেইনফরেস্টটি জাতীয় উদ্যান বলে সরকারী স্বীকৃতি পেয়েছে এবং ইউএসএইড এর সহায়তায় এর ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হচ্ছে।খাদিমনগর ন্যাশনাল পার্ক (Khadimnagar National Park) এ হাঁটার জন্য ৪৫ মিনিট ও দুই ঘন্টার দুটো ট্রেইল আছে। বনবিভাগের বিট অফিসের সামনে ট্রেইল দুটোর মানচিত্র দেয়া আছে, এ ছাড়া স্থানীয় কাউকে গাইড হিসাবে ও সাথে নেয়া যেতে পারে।

এই পথের অধিকাংশ কাঁচা ও ইট বিছানো হলে ও গাড়ী নিয়ে যাওয়া যায় তবে বৃষ্টি থাকলে সে ক্ষেত্রে সিএনজি নিয়ে যাওয়া ভালো। খাদিম চৌমুহনাতে ভাড়ার সিএনজি পাওয়া যায়। আমরা ৬০০ টাকা দিয়ে একটা সিএনজি রিজার্ভ করেছিলাম, বিকাল ৪ টা থেকে ৬.৩০ পর্যন্ত ছিলাম।
সাম্প্রতি এখানে ট্রি এক্টিভেটিং চালু করা হয়েছে যার জন্য ১০০ টাকার টিকিট আর উদ্যানে প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা। যাওয়ার পথের চা বাগানের সৌন্দর্য, বনের ভিতর আলো ছায়ার খেলা, ঝিরিপথে আর পশু-পাখি ও পোকামাকড়ের শব্দ আসলেই একটা ভিন্ন জগতে নিয়ে যাবে।
সতর্কতাঃ যেহেতু জায়গাটা একটু ভিতরে আর লোকজন কম তাই কয়েক জনের গ্রুপে গেলে ভাল হবে। উদ্যানটি খুব বেশি পরিচিত না হওয়ায় লোকজন কম যায় তাই এখনো প্লাস্টিক থেকে মুক্ত আছে তাই সবাই যাওয়ার আগে কোন প্রকার প্লাস্টিক না নিয়ে যাওয়া ভাল, পানির বোতল নিলে সাথে নিয়ে আসবেন। বনের সৌন্দর্য বজায় রাখতে আপনিও ভূমিকা রাখতে পারেন।।

Source:  কাজী ফয়সাল কবির <Travelers of Bangladesh (ToB)

Share:

Leave a Comment

Shares