স্থল পথে কানাডা ভ্রমণের ৫টি শ্রেষ্ঠ রুট

স্থলপথে ভ্রমণকারীদের জন্য কানাডা একটি স্বর্গরাজ্য। এখানে আপনি ড্রাইভিং করতে পারবেন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে। যেকোনো স্থানে থেমে গিয়ে করতে পারবেন ক্যাম্পিং, হাইকিং এবং কায়াকিং। এখানে বাধা দেওয়ার মতো তেমন কোনো লোক অথবা বাঁধাধরা নিয়ম নেই। তাই আপনি যদি স্থলপথে কানাডা ভ্রমণের পরিকল্পনা করে থাকেন তাহলে এই পাঁচটি রুট হবে আপনার জন্য স্বপ্নের মতো।

কোবাট ট্রেইল, নোভাস্কটিয়া:
এই ট্রেইল কেপ ব্রিটেনের দ্বীপের উত্তর দিক থেকে প্রায় ২৯ কিলোমিটার পর্যন্ত। উত্তর আটলান্টিকের অভাবনীয় ল্যান্ডস্কেপের সাথে উপকূল বরাবর বাতাস খেতে খেতে এই রাস্তায় চলার মতো আনন্দ খুব কম ট্রাভেলারই পেয়ে থাকেন। কমবেশি সব সময়ই এই ট্রেইলটি ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত। কেপ ব্রেটন হাইল্যান্ড ন্যাশনাল পার্কের এই অসাধারণ ল্যান্ডস্কেপ সারা বছর ধরে দেখা যায়। এ ছাড়া হাঁটা পথ যুক্ত বেশ কিছু পার্কও পাওয়া যাবে সমুদ্রের তীরে এই অঞ্চলটিতে।

এইগুলো একসময় ফরাসিদের দখলের মধ্যেই ছিল। তাই স্থানীয়রা ফরাসি মিউজিক সহ গান বাজনা করতে খুব ভালবাসে। বেশ কিছু মাছ ধরার ক্যাম্পের আয়োজন করা হয় বিভিন্ন মৌসুমে। এখানে আপনি সামুদ্রিক খাবার পেতে পারেন যেকোনো সময়। ভ্রমণের ক্ষেত্রে তাই আঁটোসাঁটো করে জুতো বেঁধে নিন এবং এই দ্বীপপুঞ্জগুলোর মধ্যে দিয়ে ঘুরে আসুন। এই অভিজ্ঞতা পৃথিবীতে খুব কম জায়গাতেই আপনি উপভোগ করতে পারবেন।

ভ্যানকোভার – টোফিনো, ব্রিটিশ কলম্বিয়া:
ভার্জিনিয়া দ্বীপের জর্জিয়া স্টেট অতিক্রম করার সময় ফেরি ক্রসিং দিয়ে কয়েক ঘণ্টা বিশ্রাম করে নিতে পারবেন এই যাত্রার পথে। নানাইমো থেকে টোফিনো পর্যন্ত প্রায় ২০৭ কিলোমিটার ড্রাইভ করার সুযোগ করে দেবে এই রুটটি। অভূতপূর্ব এই রুটের মধ্যে আপনি পেয়ে যাবেন ডগলাসফির বিশাল বৃক্ষরাজির সাথে মহাসাগরগুলোর পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সুযোগ। এর মধ্যে কিছু কিছু বনের বয়স প্রায় ৮০০ বছরেরও বেশি।

প্যাসিফিক রিমের মহাসড়কগুলো পাহাড়ি পথে আঁকা বাঁকা হয়ে রোমাঞ্চকর ড্রাইভ করার সুযোগ করে দেয়। রয়েছে কেনেডি লেক যা স্থানীয়দের কাছে পিকনিকের জন্য একটি অতি জনপ্রিয় স্থান। এখান থেকে এগোলেই আপনি পেয়ে যাবেন সার্ফিং করার জন্য আপনার বিশেষ গন্তব্য টাফিনো। যার সমুদ্র তটের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬ কিলোমিটার। এছাড়া স্থানীয় ফাস্ট নেশন সম্প্রদায়ের সাথে দেখা হয়ে যেতে পারে। তাই এই রুটটিও আপনার বাকেট লিস্ট টুকে রাখুন।

সাসকাচোয়ান থেকে রেজিনা, সাসকাটুন:
এই রুটটি মূলত একটি সমতল ভ্যালি। দূর দিগন্তে বিস্তৃত পর্বত সারি গাড়ি চালানোর সময় অথবা যেকোনো রাইডের সময় আপনাকে করে তুলবে অভিলাষী। দূর দিগন্তে পাহাড়ের মধ্যে যখন সূর্য উঠবে, সূর্য ডুবে যাবে তখন এই দিগন্ত বিস্তৃত ভ্যালি আপনার ড্রাইভকে করবে আরো স্মৃতি মধুর। এখানকার স্থানীয়রা মূলত গবাদি পশু এবং ঘোড়া পালন করে থাকেন। তাই বিস্তীর্ণ প্রান্তরের মধ্যে বিভিন্ন রঙের ঘোড়াও দৌড়াতে দেখবেন আপনার গাড়ির আশপাশ দিয়ে।

এই রুটটি সবসময় সকলের নজরে এসেছে ঘোড়াদের অবাধ বিচরণ এবং দিগন্ত বিস্তৃত ঘেসো জমির জন্য। মাঝে মাঝে সন্ধ্যার সময় যদি কোথাও ক্যাম্পিং করতে বসে যান তাহলে ৫০-৬০ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ি প্রাচীন জঙ্গল থেকে বিভিন্ন পশু-পাখির তীব্র চিৎকারের শব্দ পর্যন্ত শুনতে পাবেন। তাই এই অঞ্চল যদি ঘুরতে চান তাহলে কয়েকটি দিন বাড়তি হাতে রাখুন। এছাড়া কয়েকদিন পর যখন সাসকাটুনের শহরে পৌঁছাবেন তখন লাল নীল রঙের শহর যেন আপনাকে হাতছানি দিয়ে স্বাগতম জানাবে।

আইসফিল্ড পার্কওয়ে, আলবার্টা:
যদি খুবই দ্রুত গতি সম্পন্নভাবে গাড়ি চালাতে চান, তাহলে এই রুটটি আপনার জন্য। মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে ২৫২ কিলোমিটার পথ আপনি মোটর গাড়ি চালাতে পারবেন। ড্রাইভ রুটের দুই পাশ দিয়ে জঙ্গল, জলপ্রপাত এবং বিশাল আকারের পাহাড়গুলোর মহিমা আপনাকে প্রতিমুহূর্তে উজ্জীবিত করে তুলবে। এই রাস্তায় গাড়ি চালানো মানে যেন একটি নতুন জীবনের সূচনা। রকি পর্বতমালার মধ্য দিয়ে এই রাস্তাটি স্থানীয় দুটি জাতীয় কোষাগার বানফ ন্যাশনাল পার্ক এবং জ্যাসপার ন্যাশনাল পার্কের মধ্য দিয়ে চলে গিয়েছে। এরপর মিশেছে বিশাল কলম্বিয়া আইস ফিল্ডের মাঝে।

এই পার্কগুলো মূলত ক্যাম্পিং জোন হিসেবে খুবই উল্লেখযোগ্য। রাতের আকাশে তারা ভরা গ্যালাক্সি দেখার পাশাপাশি রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে তুষারের উপর হেঁটে বেড়ানো এবং যদি ইচ্ছা হয় তাহলে গ্লেসিয়ারে আরোহন পর্যন্ত করতে পারবেন। পৃথিবীর পৃষ্ঠে গড়ে ওঠা বিশাল বিশাল নীল জলের লেকে প্রতিফলিত হবে শুভ্র তুষার যুক্ত বিশাল পাহাড় আর নীল আকাশের দৃশ্য। কোনো ফটোগ্রাফারই ৫ মিনিটের বেশি ছবি না তুলে থাকতে পারবে না এই এলাকায়। তাই গাড়িতে ফুয়েল ভরে নিন, আর বের হয়ে পড়ুন আলবার্টার আইসফিল্ড পার্কওয়ের উদ্দেশ্যে।

মন্ট্রিয়াল গেসে উপদ্বীপ, ক্যুবেক:
প্রদেশিক রাজধানী গ্যাম্পে থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে উপদ্বীপ অঞ্চলটি মূলত বিশাল আকারের তিমি মাছ দেখার জন্য বিখ্যাত। এই অঞ্চলটিতে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার পর্যন্ত আপনি ড্রাইভ করে আসতে পারবেন। ক্যাম্পিং আর ঘোরাঘুরির জন্য যদি পরিকল্পনা করে থাকেন তাহলে সময় লাগবে কমপক্ষে ৭ দিন। যদিও বর্তমানে এই অঞ্চলের সামাজিক পরিস্থিতি বেশ অস্থবির অবস্থায় রয়েছে, তবুও ভ্রমণার্থীদের জন্য বিশেষ কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নেই।

পাহাড়ের উপর থেকে দেখতে পাবেন বিশাল বিশাল সামুদ্রিক তিমিরা কীভাবে চরে বেড়ায় উপকূলীয় গভীর সমুদ্র অঞ্চলগুলোতে। এছাড়া ক্যাম্প করে থাকতে পারবেন এসব পাহাড়ি পাথুরে অঞ্চলে। আপনার প্রয়োজনীয় খাবার সংগ্রহ করতে পারবেন সমুদ্র বা উপকূলীয় জঙ্গলগুলো থেকেই। এছাড়া স্থানীয়দের কাছ থেকে নৌকা নিয়ে ঘোরাঘুরি করার সুযোগ রয়েছে এই জায়গায়। যদি একই সাথে লং ড্রাইভ, স্থানীয়দের জীবন যাপন দেখা সহ ক্যাম্পিংয়ের দীর্ঘ সময় হাতে থাকে তাহলে অন্য কোনো চিন্তা না করেই চলে আসুন মন্ট্রিয়াল গেসের উপদ্বীপ অঞ্চলটিতে।

Share:

Leave a Comment

Shares
error: Content is protected !! --vromonkari.com