হরিণমারা /ছোট কমলদহ ট্রেইল ভ্রমণ

বাড়ির কাছের ঝরনার হিসাবে মিরাস্বরাই সীতাকুণ্ড রেঞ্জের প্রথম ঝরনা হিসাবে দেখা হরিনমারা ঝরনা।
স্থানীয়রা হরিনমারা কুন্ড বা কুন্ড ঝরনা নামেও ডাকতে শুনেছি, এর সাথেই পাবেন হাটুভাঙা এবং সর্পপ্রপাত নামে মোট তিনটা ঝরনা।

স্থানীয় শিকারীরা এই জায়গায় উৎপেতে থাকতো হরিনের জন্যে, ভোরে এবং সন্ধ্যায় হরিন আসতো পানি খাওয়ার জন্যে এবং সহজ শিকারে পরিনত হতো।

পরিচিতদের কাছে শোনা এই পাহাড়ে হরিন, গয়াল ( বন্য গরু), শুকরের আনাগোনা ছিলো প্রচুর। ছোটবেলায় নিযে পাহাড়ের গোড়ায় খরগোশ দৌড়িয়েছি বহুবার। এখনকার মতো এতোটা ঘন বসতি ছিলো না পাহাড়ের কোল ঘেষে, পাহাড় ছিলো বন্যপ্রাণীর। জনসংখ্যা কম থাকায় পাহাড়ে আগ্রাসন তখনো শুরু হয় নি। কাঠ কাটার মানুষের সংখ্যা নগন্য ছিলো, কৃষি ছিলো গ্রাম্য মানুষের একমাত্র পেশা। ১৯৯৭-১৯৯৯ এর দিকেও রাতে শিয়ালের ডাকে ঘর থেকে বের হতে ভয় পেতাম।

এখন পরিস্থিতি ভিন্ন, পাহাড়ের গা ঘেষে গড়ে উঠেছে বসতি, বিভিন্ন জায়গা থেকে গৃহহীনদের আবাস গড়ে উঠেছে। এর অনেক আগেই স্থানীয়দের আগ্রাসনে পাহাড়ের সব হরিন শিকার শেষ, শুকেরে দেখা মিলে না। ঝরনার প্রবাহ থেকে আসা ঝিরিতে বাধ দিয়ে তৈরি হয়েছে কৃত্রিম লেক, বাউয়্যাছরা প্রকল্পের আওতায় শুষ্ক মৌষুমে কৃষকদের শেচের পানি যোগান দেয় এই লেক , কিন্তু টুরিস্টদের জন্যে নীলাম্বরী লেক নাম নিয়ে সবুজের মাঝে নীল জলরাশি সৌন্দর্য্য বিলায়।

এতো কৃত্তিমতার মাঝে অবশিষ্ট রয়ে গেছে ঝরনা তিনটি, আগে স্থানীয় কাঠুরে ছাড়া কেও চিনতো না, এখন অভিযাত্রী দলের ঝরনার নেশায় পাহাড়ে তৈরি হয়েছে হাটার পথ, বনবিভাগ বন্যপ্রাণী রক্ষায় অভয়ারণ্য এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চল সাইনবোর্ড দিলেও রক্ষণাবেক্ষণ জন্যে কাওকে দেখা যায় না।

যাতায়াতঃ
ঢাকা চট্রগ্রাম হাইওয়ের ছোট কমলদহ বাজারে নেমে হরিনমারা ঝরনার ( অথবা বাউয়্যাছরা প্রকল্প /রাবার ড্যাম) নাম বললে দেখিয়ে দিবে। হাইওয়ের পাশে দুইটা সাইনবোর্ড আছে ঝরনার রাস্তা নির্দেশনা দিয়ে।
মেইন রোড থেকে হেটে গেলে ঘন্টা খানেক সময় লাগে ঝরনায় পৌছাতে। বাজার থেকে সিএনজি নিয়েও ট্রেইলের কাছ পর্যন্ত যাওয়া যায়।

সতর্কতাঃ পাহাড়ে জোঁক আছে, বৃষ্টি হলে পথ পিচ্ছিল হয়ে যায় প্রচুর।

টুরিস্ট আনাগোনা কম বিধায় ট্রেইল এখনো পরিছন্ন, ট্রেইলে নিযের ছাপ ট্রেইলে ফেলে আসবেন না, পরিবেশকে বিপর্যস্ত করবেন না। স্থানীয়দের সাথে শালীনতা বজায় রেখে চলুন, সর্বোচ্চ পরিমান সাহায্য পাবেন।
Source: Samirul Sajan‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

Share:

Leave a Comment

Shares