অপরুপ সৌন্দর্যের অধিকারী শহর বান্দরবান ভ্রমণ

ঘুরে আসলাম অপরুপ সৌন্দর্যের অধিকারী শহর বান্দরবান। দুই দিন একরাত এ আমরা গিয়েছি স্বর্ণমন্দির,নীলাচল,মেঘলা। মুক্ত প্রকৃতিকে খুব কাছ থেকে দেখার জন্য বান্দরবান এর বিকল্প হতে পারেনা। তাই সব ছেড়েছুড়ে আমরা ছুটে গিয়েছিলাম বান্দরবান এ। প্রথম দিন ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেষন থেকে আমাদের যাত্রা শুরু।মহানগর গোধুলি ঢাকায় ৯ টায় ছেড়ে চট্টগ্রাম পৌছে ভোর পাচটায়। চট্রগ্রাম পৌছে নাস্তা সেরে বহদ্দারহাট থেকে বান্দরবান এ আমরা ৮/৯ নাগাদ পৌছাই। বান্দরবান এ গিয়ে হোটেলে চেকিং দিয়ে ১/২ ঘণ্টা বিশ্রাম নিয়ে আমরা বের হই। প্রথম দিন স্বর্ণমন্দির আর নীলাচল যাওয়ার প্লান করলাম। সিনজি রিজার্ভ করলাম ৬০০ টাকায়। আমরা যখন স্বর্ণমন্দির পৌছাই বেলা ১২/১ টা বাজে। মাথার উপর কনকনে রৌদ্দুর। রোদের তাপে তাকানোই মুশকিল হয়ে পরেছিল। আপনারা যারা রিসেন্ট যাবেন রোদচশমা নিতে ভুলবেন না। তারপর ৫০ টাকা এন্ট্রি ফি দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলাম। ভিতরে দেখার মত বৌদ্ধ ধর্মের বিভিন্ন দেব দেবতার অবয়ব-সুউচ্চ মিনার-আশেপাশের পরিবেশ আপনাকে মুগ্ধ করবে। মন্দিরের ভিতরে পূজারী ব্যতীত কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হয় না। এটা ধর্মীয় উপাসনালয় তাই খালি পায়ে প্রবেশ করতে হয়। আর মন্দিরের সংরক্ষণ এর লোকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,এই মন্দির প্রায় দু কোটি টাকা ব্যায়ে মাটি থেকে ১৩০০ ফুট উচুতে পাহাড়ের কোল ঘেষে স্থাপন করা হয়।

এখানে দেশী বিদেশী বৌদ্ধ ধর্মের সকল লোকজন পূজা পার্বণের জন্য আসে। এখানে বছরে একবার মেলা বসে। এরপর স্বর্ণমন্দির এ ৪০-৫০ মিনিট থেকে আমরা নীলাচল এর উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। মাথার উপরে তখনও অনেক রোদ। তবুও পরিবেশ টা অনেক ভাল লাগার মত। বান্দরবান শহর থেকে ৪ কিঃমি সি.এন.জি করে যেতে সময় লাগলো ১৫/২০ মিনিট। আসার সময় নীলাচল যাওয়ার আকাবাকা রাস্তা আর পাহাড়ী উপজাতি মানুষের জীবনযাপন আপনাকে বিস্মিত করবে। নীলাচল এ আবার ৫০ টাকা এন্ট্রি ফি দিয়ে আমরা নীলাচলে প্রবেশ করলাম। একসাথে পাহাড়, পর্বত, আর আকাশের থ্রাইস কম্বিনেশন সত্যিই মনোমুগ্ধকর। জাদুকরী পরিবেশে আপনি পাবেন সবুজের সমারোহ,দূরের পাহারের ওপারে ঠেকে যাওয়া নীল আকাশ, আর বৃষ্টির দেখা মিললে পাবেন মেঘের দেখা। আমরা যখন যাই তখন কনকনে রোদ ছিল। আমি মনে মনে বৃষ্টি কামনা করছিলাম আল্লাহর দরবারে। আগে আরেকবার গিয়েছি তখনও বৃষ্টি পেয়েছি। এবারও বৃষ্টি হলে মনের আশাটা পূর্ণ হবে এই ভেবে এপাশ ওপাশ করছিলাম। ঠিক ১ ঘন্টা পর সকল জল্পনা কল্পনা কাটিয়ে বৃষ্টি আসলো-ঠিকই আসলো। সাথে সাথে চারপাশের পরিবেশ পরিবর্তন হতে শুরু করলো। সেকি মেঘের আনাগোনা সাথে শীতল বাতাস। মনের সকল ক্লান্তি, হতাশা, একঘেয়েমি , নিমিষেই দূর। অদ্ভূত এক মুগ্ধতা এসে ভর করলো নিজের উপর যা নিজে কাছ থেকে উপভোগ না করলে বিশ্বাসযোগ্য নয়। এরপর টানা একঘন্টা নীলাচল রেস্টহাউজ এর উপরে বসে বসে সময় কাটালাম। এদিকে কখন ৪ টে বেজে গেছে টেরই পাই নাই। তারপর পাহাড়ি কলা-পেয়ারা-চা-নাস্তা করে বিদেয় দিলাম নীলাচলকে। বান্দরবান শহরে এসে হোটেলে চেকিং দিয়ে প্রথম দিনের ট্যুর কমপ্লিট করলাম। এরপর দিত্বীয় দিন সকালে নাস্তা খেয়ে মেঘলা ঘুরতে গেলাম। বান্দরবান শহর থেকে লোকাল বাসে ১০ টায় মেঘলা যাওয়া যায়। মেঘলা যাওয়ার জন্য ওই ঠিক ৫০ টাকা এন্ট্রি ফি দিয়ে ঢুকা লাগে। মেঘলায় ঝুলন্ত ব্রিজ,ক্যাবল কার,চিড়িয়াখানা, বোট দিয়ে লেকে ঘুরা সহ পাহাড়ের গায়ে ছোটখাটো ট্রেইল করতে পারবেন। মোটামুটি স্বপরিবারে ঘুরার মত সুন্দর একটি জায়গা। মেঘলায় কম দামে মধু / বিভিন্ন রকম পাহারি গাছগাছরার ঔষধ পাবেন। এছাড়া পুরো বান্দরবান এ কলা আর পেয়ারার দোকানের কোন অভাব নেই ।
পরে বান্দরবান ফিরে আগের মতই হোটেলে চেকিং দিয়ে বান্দরবান কে বিদায় দিয়ে আবার সেই ওয়াইফাই আর জ্যামের নগরী ঢাকার মুখোমুখি হতেই হোল।

সর্বোমোট খরচ -(খাবার ব্যতীত)
ঢাকা টু চিটাগং ট্রেন টিকেট – ৩৪৫/-
চিটাগং টু বান্দরবান বাস ভাড়া -১১০/-(পল্লবী বাস)
হোটেল ভাড়া-৬০০/-( হোটেল গ্রিন হিল)
বান্দর বান টু স্বর্ণমন্দির+নীলাচল সিএনজি ভারা -৬০০/-
মেঘলা-নীলাচল-স্বর্ণমন্দির এন্ট্রি ফি ১৫০/-
বান্দরবান টু মেঘলা ১০ টাকা।
বান্দরবন টু চিটাগং ১১০(পূর্বানী বাস)
চিটাগং টু ঢাকা ট্রেন ভাড়া -৩৪৫(একদিন আগে অগ্রিম টিকেট কেটে রাখবেন)
সর্বমোট=২২৭০/-

যেখানেই যান আশেপাশের পরিবেশ সুন্দর রাখবেন। যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলবেন না। আপনার যাত্রাপথ সুন্দর করতে যাত্রাপথে অন্যের দেয়া কিছু খাবেন না। ধন্যবাদ।

Source: TripHobe – ট্রিপহবে

Share:

Leave a Comment

Shares