একদিনে মুক্তাগাছা ও মধুপুর ভ্রমণ

পাশাপাশি অবস্থিত ময়মনসিংহ এবং টাঙ্গাইলের এই দুটি উপজেলার ৩ টি স্পট সহজেই একদিনেই ঘুরে আসা যায়।
ক্লাস টেস্টের মাঝেই শুক্রবার দেখে আজ ৫ বন্ধু মিলে সকাল ৭ঃ৩০ এ বের হলাম। আমাদের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ২০ টাকার জনপ্রতি অটো ভাড়াতে চলে এলাম টাউনহল মোড়৷

#খরচ_জনপ্রতি_হিসেবে_উল্লেখিত
সেখান থেকে ৬০ টাকা সিএনজি ভাড়ায় চলে এলাম কালীবাড়ি বাজার(মুক্তাগাছা পার হয়ে)। এই বাজার থেকে ১৫ টাকায় ভ্যানে করে গেলাম ছালড়া বাজার।

#স্পট_১
#ছালড়া_শালবন
খুবই নিরিবিলি একটা এলাকা। ছালড়া বাজার থেকে ১০ মিনিট হাটলেই পড়বে এই বন। ঘন শালবনের বুক চিড়ে চলে গেছে গ্রামের সরু পাকা রাস্তা। রাস্তা থেকে নেমে বনের ভেতরে একটু হাটলেই দেখা পড়বে সুবিশাল দিঘী। সে এক মায়াময় পরিবেশ 😊৷ জীবনের ব্যস্ততা ঝেড়ে ফেলে নিস্তবদ্ধতা উপভোগ করবার মত দারুণ একটা জায়গা। দিঘীর চারপাশ দিয়েই হাটা যায়। মাঝে বসার জন্য মাচাং করে দেয়া আছে। গ্রামের মানুষ লাকড়ি কুড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে বন থেকে, দারুণ পরিবেশ।😍

বনের মাঝেই রাস্তা থেকে ভ্যান পেয়ে গেলাম৷ সেই ভ্যানে চড়ে ৩৫ টাকায় চলে এলাম রসুলপুর।

#স্পট_২
#মধুপুর_গড়
মধুপুর জাতীয় উদ্যানের অংশবিশেষ। এখানে আসলেই আপনাকে স্বাগত জানাবে অতিউৎসাহী কিছু বানরের দল 😃৷ একটা ওয়াচ-টাওয়ার আছে বটে কিন্তু অজানা কারণে সেটি তালামারা😑। এখানেই বনবিভাগের অনুমতি নিয়ে গ্রুপ সহ পিকনিক করতে পারবেন অনায়াসে, দেখবেন যেন বানর আপনার প্লেটের খাবার নিয়ে দৌড় না দেয় 😉। বানরের সাথে বেশি খেলতে গিয়ে কামড় খেয়ে বসবেন না 😪। পিকনিক স্পট পেরিয়ে একটু সামনে গেলেই পড়বে ধানক্ষেত। শালবনের মাঝে মাঝে ধানের চাষ হয় সেখানে। ক্ষেত পেরিয়ে বনে ঢুকলাম আবার। বনে ঢুকে ১০ মিনিট হাটতেই চলে এলাম আনরস এর ক্ষেতে, দেখানে কলাও চাষ হয় সমন্বিত পদ্ধতিতে৷ কোন কোলাহল নেই৷ এরকম জায়গায় এলে মন ভালো হতে বাধ্য, পাশাপাশি জায়গায় ভিন্নরকম সৌন্দর্যের কারণে।

রসুলপুর থেকে এবার ভ্যান নিয়ে ৩০ টাকায় চলে এলাম চাপড়াবাজার। রুট ছিল রসুলপুর-২৫ মাইল- ঘুঘুরবাজার-চাপড়াবাজার।

#স্পট_৩
#চানপুর_রাবারবাগান
চাপড়াবাজার থেকে ২০ মিনিট মত হাটলে পেয়ে যাবেন এই রাবারবাগান৷ আমাদের পীরগাছা রাবারবাগানে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লোকেশন ঠিক ভাবে না জানায় ভ্যান ওয়ালাকে নিয়ে এডভেঞ্চার ফিলিংস নিয়ে সম্পূর্ণ আনকোরা এই বাগানটি আমরা আবিষ্কার করি। এজন্য আমাদের ভ্যানে ঘুরতে হয়েছে অনেক বেশি এবং মধুপুরের বেশ কয়েকটি সুন্দর গ্রাম দেখার ভাগ্যও হয়ে গিয়েছে। বাগানটি এক কথায় অতীব সুন্দর♥। এত সুন্দর করে জ্যামিতিক ভাবে সমান্তরালে গাছ লাগিয়েছে দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়৷ গাছ থেকে অনবরত গড়িয়ে পড়ছে রাবার তৈরির সাদা রেজিন।
রাবারবাগানে সূর্যের আলো তির্যকভাবে পড়ে আলো আধারির এক চমৎকার আবেশ তৈরি করেছে🤩। এই জায়গায় এলে মন আপনা আপনি শান্ত হয়ে যাবে। গ্রামের এত ভিতরে এমন একটা দারুণ জায়গা আমাদের সবাইকে বিমোহিত এবং অবাক করে দিয়েছিল৷ দেখলাম ঘোড়ারগাড়িতে করে দূর থেকে কাঠ নিয়ে আসছে একজন। বাগানের আশেপাশে শুধু কলার আর আনারসের ক্ষেত। সাথে পেপের চাষ হয় ব্যাপক। সুন্দর ও নিরিবিলি😍এই রাবারবাগান দেখে আমরা আমাদের ক্যাম্পাসের পথ ধরি৷

এবার চাপড়াবাজার থেকে অটো করে ২৫ মাইল বাজার এ রওনা দিই। ২৫ মাইল পাওয়ার আগেই জলছত্র বাজারে নেমে খেয়ে নিলাম বাংলাদেশ বিখ্যাত মধুপুরের মিষ্টি আনারস৷ অটো ভাড়া পড়লো ৩০ টাকা৷
এখান থেকে ৫০ টাকা সিএনজি ভাড়ায় চলে এলাম মুক্তাগাছা বাস স্ট্যান্ড ।সেখানে কালামিয়া রেস্টুরেন্টে ১৪০ টাকার খাসির বিরিয়ানি দিয়ে উদরপূর্তি করে ৫ টাকায় ভ্যান নিয়ে চলে এলাম মুক্তাগাছার বিখ্যাত গোপাল এর মন্ডা খেতে৷২৫ টাকার মন্ডা খেয়ে পুনরায় ৫ টাকার ভাড়ায় চলে এলাম মুক্তাগাছা বাসস্ট্যান্ড৷ তার আগে বড় মসজিদে মাগরিবের সালাত আদায় করলাম। আলহামদুলিল্লাহ খুবই সুন্দর একটা মসজিদ ♥😍। মসজিদ টি অনেক বড় এবং এর নির্মাণশৈলী এবং কারুকার্য দেখার মতন 🤩। কেউ মুক্তাগাছা এলে অবশ্যই মসজিদ টি দেখে যাবেন। মুক্তাগাছা বাসস্ট্যান্ড থেকে ৪০ টাকা ভাড়ায় সিএনজি চলে এলাম ময়মনসিংহ টাউনহল মোড়। ওখান থেকে ২০ টাকা অটো ভাড়ায় চলে আসি প্রাণের ক্যাম্পাসে৷
ধন্যবাদ লেখাটি ধৈর্য্য নিয়ে পড়ার জন্য।

#খরচ
২০+৬০+১৫+৩৫+৩০+৩০+৫০+১৪০+৫+২৫+৫+৪০+২০ = ৪৭৫ টাকা ( জনপ্রতি)
#ঢাকা থেকে কেউ আসতে চাইলে ময়মনসিংহ গামী যেকোন বাসে করে ময়মনসিংহ তারপর সেখান থেকে টাউনহল দিয়ে মুক্তাগাছা, মধুপুর৷ এছাড়া মুক্তাগাছার বাসেও সরাসরি আসতে পারেন। জামালপুর এর বাসেও আসতে পারেন, সেক্ষেত্রে মুক্তাগাছায় নেমে যাবেন। ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ১২০-২২০ টাকা৷

#অবশ্যই সব কটি জায়গা বিকালের মধ্যেই দেখতে হবে৷সন্ধ্যায় যানবাহন পেতে সমস্যা হতে পারে। নিরাপত্তার কথা অবশ্যই মাথায় রাখেবেন এক্ষেত্রে৷

#স্থানীয় বাঙালী অথবা আদিবাসীদের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করুন। তারা গ্রামের মানষ, অনেক সহজ সরল এবং ভালো৷ যাত্রাপথে তাদের সহযোগিতা আপনার লাগবেই,সেটা মাথায় রাখবেন৷

#যেখানেই যাবেন কেউ দয়া করে অপচনশীল দ্রব্য ফেলবেননা। পরিবেশ সুন্দর রাখুন। কারণ দেশটা আমাদের সবার৷

Source: Mamun Sazid‎<Travelers of Bangladesh (ToB)

Share:

Leave a Comment

Shares