ঢাকা-বান্দরবান ভ্রমণ বৃত্তান্ত

বান্দরবান কে যতটুকু দেখার সুযোগ আমি পেয়েছি তাতে দৃঢ়ভাবেই বিশ্বাস করেছি যে, একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই সঠিকভাবে জানেন যে বান্দরবানে ঠিক কতগুলো পর্যটন স্পট আছে। এটা খুবই সরল বিশ্বাস আর খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার।

বান্দরবান, বাংলাদেশের পাহাড়ি কন্যা অথবা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। যে বিশেষণেই বিশেষায়িত করি না কেনো সেটা কখনোই যথার্থ হবে না। আমার চোখে, প্রকৃতিগত ভাবে বান্দরবান ই চিরসবুজ বাংলার সবচেয়ে সুন্দর ভূমি। সবমিলিয়ে, তিন বার বান্দরবানে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে আমার। প্রথমবার শীতকালে, পরের বার ভরা বর্ষার মরসুমে এবং শেষবার বর্ষার আগে।

শীতের বান্দরবান যেনো কুয়াশার চাদরে জড়িয়ে থাকা লজ্জাবতী নারীর আবরণ অথবা তার চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর। ভরা বর্ষার বান্দরবান অনন্তযৌবনা যেটা কখনো বার্ধক্যে ক্ষয়ে যায় না, এতটাই অপূর্ব। তবে শেষ কথা একটাই, বান্দরবান অপূর্ব সুন্দর আর সেটা সম্ভবত পুরো বছরজুড়েই।

গন্তব্যহীনভাবে ছুটে চলা মেঘমাল্লার দলের বিশাল বিশাল পাহাড়ের গায়ে ধাক্কা খেয়ে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়া, ঘন বর্ষার অঝর ধারায় প্রাণ পেয়ে নব উদ্যমে ছুটে চলা ঝর্ণা ধারা, পাহাড়ের পাদদেশ ধরে পাহাড়ি খরস্রোতা নদী সাঙ্গুর বয়ে চলা এবং মেঘমাল্লার দলকে আলতো স্পর্শে ছুঁয়ে দেখার অনুভূতি নিয়ে ফিরতে চাইলে আপনাকে ঠিক বান্দরবানেই যেতে হবে।

পাহাড়ি জনপদে পাহাড়ের আনাচে-কানাচে সবুজের উপস্থিতি, সাথে ভিন্ন ভাষার ১১ টি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জীবনধারা এবং সংস্কৃতি – নিঃসন্দেহে বান্দরবানকে পূর্ণতা দিয়েছে। বিশাল পাহাড়ের সম্রাজ্যে অসাধারণ সব ঝর্ণাধারা, অপূর্ব পাহাড়ি খরস্রোতা নদী, মেঘমাল্লার দলের অলস ওড়াউড়ি এবং উপজাতিদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি – আমার সাদা চোখে এটাই বান্দরবানের সবচেয়ে সুন্দর বিজ্ঞাপন।

বান্দরবানের পর্যটন কেন্দ্র সমূহ :
যেগুলো দেখেছি :
● নীলাচল
● মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র
● স্বর্ণ মন্দির
● মিলনছড়ি
● শৈলপ্রপাত
● চিম্বুক
● নীলগিরি
● বড় পাথর
● নাফাখূম জলপ্রপাত

যেগুলো দেখা হয়নি (কিন্তু ইচ্ছে আছে) :
● প্রান্তিক লেক
● বগা লেক
● কিওক্রাডং
● তিনাপ সাঁতার
● আমিয়াখূম

■ যেখানেই ঘুরতে যাই কেনো সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নিজের জীবনের নিরাপত্তা। কাজেই, আমাদের সামান্য অবজ্ঞা আর অসচেতনতায় কোনো প্রাণ যেনো ঝরে না পড়ে। জীবন একটাই, বেঁচে থাকলে হাজারো জায়গা হাজারো বার ভ্রমণ করা যাবে। কিন্তু একবার চলে গেলে ফিরে আসার কোনো সুযোগ নাই। তাই অনুরোধ, অতি উত্সাহী হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনো ঘোরাঘুরি নয়।
■ পর্যটন শিল্পের বিকাশের স্বার্থে প্রকৃতি কে রক্ষা করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। তাই অনুরোধ, কোনো ধরনের পথিলিন, প্লাস্টিক অথবা যে কোনো বর্জ্য যথাস্থানে ফেলুন। যথাস্থান না থাকলে সাথে ছোট্ট ব্যাগ রাখুন। তবুও প্রকৃতি এবং পরিবেশ কে রক্ষা করা উচিত।

Source: Muhammad Saikat Hossain < Travelers of Bangladesh (ToB)

Share:

Leave a Comment

Shares