দিল্লি মানালি স্পিতিভ্যালি ভ্রমন

১৮ ঘন্টায় ট্রেন দিল্লি পৌছানোর কথা থাকলেও ৪ ঘন্টা লেট করে ২২ ঘন্টায় পৌছায় রাত ৮টার দিকে।১০০টাকা দিয়ে ওলা ক্যাব ভাড়া করে দিল্লি হোটেল এড়িয়া পাহাড়তলি পৌছে ১০০০ রুপি দিয়ে এসি রুমের হোটেল নিয়ে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।

পরের দিন ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করে ৪০০ রুপি দিয়ে অটো ভাড়া করলাম দিল্লি শহর ঘুরার জন্য,লোটাস টেম্পল,দিল্লি গেট,প্রেসিডেন্ট ভবন কুতুব মিনার দেখে ৩টার দিকে হোটেল এ ফিরে ৫টার দিকে কাশ্মির গেট থেকে ৩৭৫ টাকা টিকেট দিয়ে মানালি যাবার বাস ধরলাম । বাস সকাল ৬টার দিকে কুল্লু পৌছালে গাড়ির চাকা চেন্জ করার জন্য ১ ঘন্টার বিরতি দেওয়াতে কু্ল্লুর আশেপাশে একটু ঘুরে দেখার সুযোগ পেয়ে গেলাম।

৯টার দিকে মানালি পৌছে ৭০০ টাকা দিয়ে হোটেল ভাড়া করে ৮০০ টাকা দিয়ে (যাওয়া এবং আসা) অটো ভাড়া করে চলে গেলাম সোলাং ভ্যালি,সোলাং ভ্যালি থেকে ফিরে স্পিতি ভ্যালি যাবার টিকেট করে নিলাম ৩৮০ টাকা করে HRTC বাসের প্রতিদিন ১টা বাসই স্পিতি ভ্যালির উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে কু্ল্লু থেকে অথবা প্রাইভেট কার রিজার্ভ ভাড়া নিয়েও যাওয়া যায় ভাড়া পড়বে ১০ থেকে ১২ হাজার রুপি অথবা শিমলা-রিয়ংপিও-স্পিতি ভ্যালি এই রুটেও আসা যায়।

বাস ভোর ৫:৩০ এ আসার কথা থাকলেও ৬:৩০ এসে পৌছালো, গাড়িতে বেশীরবাগই বিদেশী পর্যটক ছিল কিছুক্ষন পড় গাড়ি চলতে শুরু করলো পাহাড়ের আকাবাকা পথ ধরে যে পথের প্রেমে অনেক আগেই পড়েছিলাম। ১০টার দিকে রোথাংপাস গিয়ে ৩০ মিনিট সময় দেয় আমাদের ঘুরার জন্য যদিও আমরা বাস ড্রাইভারকে অনেক রিকোয়েস্ট করে সময়টা নিয়েছিলাম,সারাজীবন মনে থাকার মতো ছিল সেই ৩০ মিনিট খুব কাছ থেকে প্রথম বারের মতো বরফ দেখতে পাওয়ার সৌভাগ্যে রোথাং পাসেই হয়েছিল। গাড়ি চলছে তো চলছেই কখনো ১৩ হাজার ফুট কখনো ১৪ হাজার ফুট উচ্চতা দিয়ে এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড় এর সরু রাস্তা ধরে।৩টার দিকে বাতাল যাবার রাস্তায় (যায়গাটার নাম ঠিক মনে নেই) ৩০মিনিটের ব্রেক দিল আমাদের লান্চ করার জন্য বাতাল লেক দেখার ইচ্ছে থাকলে এখানে নেমে বাতাল ১দিন থেকে পরের দিন কাজা বা স্পিতি ভ্যালি চলে যেতে পারেন। কাজা পৌছাতে পৌছাতে আমাদের ৮:৩০ বেজে গেল মজার ব্যাপার হলো ৮:৩০এ ওখানে মাত্র সন্ধা সূর্যের আলো তখনো স্পষ্ট ছিলো আর প্রতিটি গ্রাম রাস্তা ঘাট স্পিতি নদী এতটাই সুন্দর যা দেখে মনে হচ্ছিলো অন্য একটা গ্রহে চলে এসেছি। কাজা নেমেই খুব সুন্দর ডরমেটরী রুম পেয়ে গেলাম জনপ্রতি ২০০রুপি করে ।

স্পিতি ভ্যালির জনপ্রিয় অনেক জায়গা আছে যেমন ঃ key Monastery, Langza Village, Komic Village যেটা World Highest Village, Hikkim Post Office, Kibber Valley, Pin Valley, Chicham Bridze, যেটা এশিয়ার সর্বোচ্চ ব্রীজ, world Highest Petrol Pump এই সবগুলো যায়গা ঘুরার জ্ন্য তেনজিং নামের এক প্রাইভেট কারওয়ালাকে ভাড়া করে নিলাম ২৫০০ রুপি দিয়ে।

সবগুলো যায়গা দুপুর ৩টার দিকেই দেখা হয়ে গেল তাই আরো ১৫০০রুপি দিয়ে চলে গেলাম ডঙ্কার লেক দেখতে। ডঙ্কার ভিলেজ নেমে প্রায় দেড় ঘন্টা ট্রেকিং করে যেতে হবে ডঙ্কার লেক যার উচ্চতা প্রায় ১৪ হাজার ফুট এর মতো একটু কষ্টকরই হয়েছিল ডঙ্কার লেক পৌছাতে যাইহোক লেকের সৌন্দর্য দেখে সেই কষ্ট কিছুই মনে হলোনা উইন্টার সীজনে ডঙ্কার লেক পুরোটাই জমে বরফ হয়ে যায়। ডঙ্কার থেকে নিচে নেমে চা খেয়ে রওয়ানা দিলাম কাজার উদ্দেশ্যে কাজা পৌছাতে পৌছাতে রাত হয়ে গেল। পরের দিন সকাল ৫:৩০ এ বাস কাওন্টার এ এসে রিয়ংপিও এর টিকেট কেটে বাসে উঠার পর জানতে পারলাম এই রুটে বিদেশীদের যেতে হলে Inner Line Permit লাগে যেটা আমাদের করানো ছিলনা তবে মানালি হয়ে আসলে কোন পারমিট এর প্রয়োজন হয়না। কাজা টু রিয়ংপিও হয়ে আসার সময় চিন সীমান্ত হয়ে আসতে হয় তাই হয়ত এই রুটে পারমিট এর প্রয়োজন হয় তবে আমরা পারমিট ছাড়া ভালভাবেই সন্ধা ৬টার দিকে রিয়ংপিও পৌছে গেলাম পথে ২ জায়গায় বাস থামিয়ে বিদেশীরা পারমিট দেখেছে আমরা ২ জন বাসেই বসে ছিলাম। এই রাস্তা এতটাই ভয়ংকর সুন্দর যা বলে বুজানো যাবেনা ওইন্টার সীজনে কাজা আসার জন্য শুধু এই রুটই খোলা থাকে এবং আসার সময় কোন পারমিশন এর প্রয়োজন পড়েনা । স্পিতি ভ্যালি দেখার মতো আসলে অনেক জায়গা রয়েছে এখানে ট্যুর প্লান করলে অবশ্যই ৪-৫ দিনের করা উচিত।

রিয়ংপিও থেকে আবার ৭:৩০ এর বাসে করে ভোর ৪ টার দিকে শিমলা পৌছালাম ইচ্ছে ছিল শিমলা একদিন থাকার তবে সময় এর অভাবে তা আর হয়নি তাই সকাল ৬টার টয়ট্রেনে উঠে ট্রেন থেকে শিমলার পাহাড়ি সৌন্দর্য দেখতে দেখতে দুপুর দিকেই কালকা পৌছে গেলাম। রাত ১১:৫০ এ আমাদের হাওড়া আসার ট্রেন ছিল তাই বাকি সময় ওয়েটিং রুমে রেস্ট করেই কাটিয়ে দিলাম। অবশেষে ১১:৫০ এই আমাদের ট্রেন ছাড়ল ৩৬ ঘন্টা জার্নি করে খুব ভাল ভাবেই হাওড়া পৌছে গেলাম এবং সারাজীবন মনে থাকার মতো একটা ভ্রমন শেষ হলো ।

কলকাতা-দিল্লি-মানালি-স্পিতি ভ্যালি-শিমলা-কালকা এই রুটে আমাদের ভ্রমন খরচ হয়েছিল জনপ্রতি ১১ হাজার রুপি আমরা ২জন ছিলাম। সবচেয়ে বেশী ভাল লেগেছে মানালি থেকে স্পিতি এবং স্পিতি থেকে রিয়ংপিও রুট বাসে ভ্রমন।

Source: Su Shanta‎<Travelers of Bangladesh (ToB)

Share:

Leave a Comment

Shares