দেশের সেরা ১০টি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের সাথে মানুষের প্রেম বহুযুগের। তাই প্রায় সবার মনেই ইচ্ছে থাকে অন্তত নিজ দেশটাকে ঘুরে দেখার। সময়, সুযোগ, সঙ্গী, অর্থ কিংবা যাতায়াত ব্যবস্থার কারনে অনেকেরই হয়তো যাওয়া হয়ে ওঠেনা। আবার অনেকেই শত বাঁধা উপেক্ষা করে বেড়িয়ে পরেন অজানা গন্তব্যের উদ্দেশ্য। ঘুরতে যেমন আমার ভাল লাগে তেমনি যারা ঘুরতে পছন্দ করে তাদেরকেও ভাল লাগে।

তুলনামূলক ছোট আয়তনের দেশ হলেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের আধার আমাদের অপরূপ বাংলাদেশ। সমুদ্র, নদী, পাহাড়, ঝর্ণা, ফসলের মাঠ, চা বাগান, সবুজ বন আর নানা ঐতিহাসিক স্থাপনায় সমৃদ্ধ এই দেশের সৌন্দর্য্যের কোন তুলনা নেই। প্রায়শই নতুন নতুন পর্যটন আকর্ষণ খুঁজে বের করছেন তরুণরা। ব্যক্তিগতভাবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের বিচারে আমার দেখা দেশের সেরা দশটি পর্যটন এলাকা তুলে ধরলাম। আপনার বিবেচনায় ভিন্ন হতেই পারে।

প্রতিটি জায়গার ও যাতায়াতের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নক্রমানুসারে দেয়া হয়েছে।

১০. বিরিশিরি
জায়গাটা নেত্রকোনার দূর্গাপুরে অবস্থিত। শীতকালে গেলে পানির রঙটা ছবিতে যেমন দেখাচ্ছে তেমনই দেখতে পাবেন। আর ছোট ছোট টিলাগুলো সাদা বা চীনা মাটির।
ঢাকা থেকে বাসে দূর্গাপুর নেমে অটো বা মোটরসাইকেল ভাড়া নিয়ে যেতে পারবেন। তবে রাস্তার অবস্থা ব্যাপক রকমের খারাপ।

০৯. শহীদ সিরাজ লেক/নিলাদ্রী লেক
সুনামগঞ্জের তাহেরপুর থানার টেকেরঘাটে অপরূপ সুন্দর এই লেকটির অবস্থান। দূরের পাহাড়গুলো ইন্ডিয়ানদের। জাদুকাটা নদীর খেয়া পার হয়ে বারিক্কা/বারেক টিলা ক্রস করে ৭/৮ কিমি সামনে এগুলেই নিলাদ্রী লেক চোঁখে পড়বে। এই ৭/৮ কিমি রাস্তার সৌন্দর্য অসাধারন। এখান থেকে কাছেই রয়েছে নয়নাভিরাম শিমূল বাগান।
বাসে সুনামগঞ্জ এসে মোটরসাইকেল ভাড়া করে যাওয়াই সবচেয়ে উত্তম। নাহলে পথ ভুল করার সম্ভাবনা থাকবে।

০৮. রাতারগুল
সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় রাতারগুল অবস্থিত। রাতারগুল যাওয়ার ভাল সময় বর্ষাকাল। ছোট নৌকা ভাড়া করে পুরোটা জলাবন ঘুরে দেখা যায়। বনের মাঝে অবস্থিত ওয়াচ টাওয়ারে উঠলে পুরো বনের অসাধারন ভিউ পাওয়া যায়।
বাস, ট্রেন বা বিমানে সিলেটে নেমে ছোট গাড়ি বা সিএনজি নিয়ে একদম নৌকাঘাট পর্যন্ত যাওয়া যাবে।

০৭. বিছনাকান্দি
ছোট বড় পাথর, খাল আর পাহাড়বেষ্টিত এই অপরূপ বিছনাকান্দিও সিলেটের গোয়াইনঘাটে। দূর পাহার থেকে বেয়ে আসা ঝর্নার শীতল পানির স্রোত আপনাকে মোহনিয় করবেই। চাইলে রাতারগুল আর বিছনাকান্দি একই দিনে ঘুরে আসা যায়। তবে বিছনাকান্দির রাস্তার শেষদিকটা বেসম্ভব খারাপ।

০৬. নীলগিরি
প্রায় ২২০০ ফিট উচুতে অবস্থিত নীলগিরি রিসোর্টই দেশের সবচেয়ে উচু রিসোর্ট। খুব সকালে পৌছাতে পারলে মেঘের ছোয়া পাওয়া যাবে। বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ৪৭ কিমি দূরে এর অবস্থান। তবে রিসোর্ট হলেও এখানে রাত কাটানোর চিন্তা না করাই ভাল।
ঢাকা থেকে বাসে বান্দরবান পৌছে চান্দের গাড়ি অথবা সিএনজি নিয়ে যাওয়া যাবে।

০৫. কূয়াকাটা
একই জায়গা থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার জন্য বিখ্যাত দক্ষিণবঙ্গের সাগরকন্যা কূয়াকাটা। আমার পছন্দের মূল কারন অবশ্য বড় ঢেউ আর প্রাকৃতিক পরিবেশ। ঢেউগুলো বীচের খুব কাছে আসায় এখানে সমুদ্রস্নানের মজাটা কক্সবাজার থেকে কয়েকগুণ বেশি।
ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে অথবা লঞ্চে বরিশাল/পটুয়াখালী হয়ে যাওয়া যাবে কূয়াকাটায়।

০৪. সুন্দরবন
এই ছবিটি আমার তোলা না। নেট থেকে নেয়া। অনেক বছর আগে যখন গিয়েছি তখন মোবাইল ক্যামেরা ছিলোনা। এনালগ ক্যামেরায় দু-চারটে ছবি তুলেছিলাম হয়তো। নতুনভাবে আরেকবার যাওয়ার প্লান আছে।
বর্তমানে নিরাপত্তা ও যাতায়াতের কথা চিন্তা করে কোন ট্রাভেল এজেন্সির সাথে গেলেই ভাল হবে। এছাড়া বড় গ্রুপ অাকারে গেলে খরচ অনেকটা কম পড়বে আর নিরাপত্তা বেশি নিশ্চিত হবে।

০৩. কক্সবাজার
বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত হিসেবে কক্সবাজার সারাবিশ্বেই কমবেশি পরিচিত। আমরাই এর মূল্যায়ন করলাম না। অপরিচ্ছন্ন বীচ আর অপরিকল্পিত, অনিয়ন্ত্রিত ব্যাবস্থাপনার কারনে অনেকেই এখন যেতে চায়না। যদিও এরপরেও ভ্রমনপিপাসুদের নিকট এখনও শীর্ষে কক্সবাজার।
কক্সবাজারের সাথে প্রায় সারাদেশের সাথেই রয়েছে সরাসরি বাস যোগাযোগব্যবস্থা।

০২. সাজেক
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত পাহাড়ঘেরা সাজেক আমার কাছে অসাধারন মনে হয়েছে। বিশেষত এখানে কাটানো রাতটা আপনার স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকবেই। খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক যাওয়ার আঁকাবাঁকা, উঁচুনিচু, খাড়া পুরোটা পথই রোমাঞ্চকর।
ঢাকা থেকে বাসে খাগড়াছড়ি এসে চান্দের গাড়িতে যাওয়া যাবে মেঘ ও পাহাড়ের মিলনক্ষেত্র সাজেকে।

০১. সেন্ট মার্টিন
দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন। চারিদিকে সমুদ্রের নীল জলরাশি বেষ্টিত দ্বীপটির রূপ আপনাকে মুগ্ধ করবেই। আমার দৃষ্টিতে ০১ নম্বর তাই সেন্ট মার্টিনই।
কক্সবাজার থেকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর সাথে নিরাপদে ঘুরে আসতে পারবেন হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতি বিজড়িত দ্বীপটি থেকে। চাইলে রাতও কাটানো যাবে।

কোথাও ঘুরতে গিয়ে পরিবেশ নষ্ট বা নোংরা করা থেকে বিরত থাকলে নিশ্চয়ই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ থাকবে। তাই সবারই এই বিষয়টা গুরুত্বের সাথে মানা উচিত।
Source:

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের সাথে মানুষের প্রেম বহুযুগের। তাই প্রায় সবার মনেই ইচ্ছে থাকে অন্তত নিজ দেশটাকে ঘুরে দেখার। সময়, সুযোগ, সঙ্গী, অর্থ কিংবা যাতায়াত ব্যবস্থার কারনে অনেকেরই হয়তো যাওয়া হয়ে ওঠেনা। আবার অনেকেই শত বাঁধা উপেক্ষা করে বেড়িয়ে পরেন অজানা গন্তব্যের উদ্দেশ্য। ঘুরতে যেমন আমার ভাল লাগে তেমনি যারা ঘুরতে পছন্দ করে তাদেরকেও ভাল লাগে।

তুলনামূলক ছোট আয়তনের দেশ হলেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের আধার আমাদের অপরূপ বাংলাদেশ। সমুদ্র, নদী, পাহাড়, ঝর্ণা, ফসলের মাঠ, চা বাগান, সবুজ বন আর নানা ঐতিহাসিক স্থাপনায় সমৃদ্ধ এই দেশের সৌন্দর্য্যের কোন তুলনা নেই। প্রায়শই নতুন নতুন পর্যটন আকর্ষণ খুঁজে বের করছেন তরুণরা। ব্যক্তিগতভাবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের বিচারে আমার দেখা দেশের সেরা দশটি পর্যটন এলাকা তুলে ধরলাম। আপনার বিবেচনায় ভিন্ন হতেই পারে।

প্রতিটি জায়গার ও যাতায়াতের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নক্রমানুসারে দেয়া হয়েছে।

১০. বিরিশিরি
জায়গাটা নেত্রকোনার দূর্গাপুরে অবস্থিত। শীতকালে গেলে পানির রঙটা ছবিতে যেমন দেখাচ্ছে তেমনই দেখতে পাবেন। আর ছোট ছোট টিলাগুলো সাদা বা চীনা মাটির।
ঢাকা থেকে বাসে দূর্গাপুর নেমে অটো বা মোটরসাইকেল ভাড়া নিয়ে যেতে পারবেন। তবে রাস্তার অবস্থা ব্যাপক রকমের খারাপ।

০৯. শহীদ সিরাজ লেক/নিলাদ্রী লেক
সুনামগঞ্জের তাহেরপুর থানার টেকেরঘাটে অপরূপ সুন্দর এই লেকটির অবস্থান। দূরের পাহাড়গুলো ইন্ডিয়ানদের। জাদুকাটা নদীর খেয়া পার হয়ে বারিক্কা/বারেক টিলা ক্রস করে ৭/৮ কিমি সামনে এগুলেই নিলাদ্রী লেক চোঁখে পড়বে। এই ৭/৮ কিমি রাস্তার সৌন্দর্য অসাধারন। এখান থেকে কাছেই রয়েছে নয়নাভিরাম শিমূল বাগান।
বাসে সুনামগঞ্জ এসে মোটরসাইকেল ভাড়া করে যাওয়াই সবচেয়ে উত্তম। নাহলে পথ ভুল করার সম্ভাবনা থাকবে।

০৮. রাতারগুল
সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় রাতারগুল অবস্থিত। রাতারগুল যাওয়ার ভাল সময় বর্ষাকাল। ছোট নৌকা ভাড়া করে পুরোটা জলাবন ঘুরে দেখা যায়। বনের মাঝে অবস্থিত ওয়াচ টাওয়ারে উঠলে পুরো বনের অসাধারন ভিউ পাওয়া যায়।
বাস, ট্রেন বা বিমানে সিলেটে নেমে ছোট গাড়ি বা সিএনজি নিয়ে একদম নৌকাঘাট পর্যন্ত যাওয়া যাবে।

০৭. বিছনাকান্দি
ছোট বড় পাথর, খাল আর পাহাড়বেষ্টিত এই অপরূপ বিছনাকান্দিও সিলেটের গোয়াইনঘাটে। দূর পাহার থেকে বেয়ে আসা ঝর্নার শীতল পানির স্রোত আপনাকে মোহনিয় করবেই। চাইলে রাতারগুল আর বিছনাকান্দি একই দিনে ঘুরে আসা যায়। তবে বিছনাকান্দির রাস্তার শেষদিকটা বেসম্ভব খারাপ।

০৬. নীলগিরি
প্রায় ২২০০ ফিট উচুতে অবস্থিত নীলগিরি রিসোর্টই দেশের সবচেয়ে উচু রিসোর্ট। খুব সকালে পৌছাতে পারলে মেঘের ছোয়া পাওয়া যাবে। বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ৪৭ কিমি দূরে এর অবস্থান। তবে রিসোর্ট হলেও এখানে রাত কাটানোর চিন্তা না করাই ভাল।
ঢাকা থেকে বাসে বান্দরবান পৌছে চান্দের গাড়ি অথবা সিএনজি নিয়ে যাওয়া যাবে।

০৫. কূয়াকাটা
একই জায়গা থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার জন্য বিখ্যাত দক্ষিণবঙ্গের সাগরকন্যা কূয়াকাটা। আমার পছন্দের মূল কারন অবশ্য বড় ঢেউ আর প্রাকৃতিক পরিবেশ। ঢেউগুলো বীচের খুব কাছে আসায় এখানে সমুদ্রস্নানের মজাটা কক্সবাজার থেকে কয়েকগুণ বেশি।
ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে অথবা লঞ্চে বরিশাল/পটুয়াখালী হয়ে যাওয়া যাবে কূয়াকাটায়।

০৪. সুন্দরবন
এই ছবিটি আমার তোলা না। নেট থেকে নেয়া। অনেক বছর আগে যখন গিয়েছি তখন মোবাইল ক্যামেরা ছিলোনা। এনালগ ক্যামেরায় দু-চারটে ছবি তুলেছিলাম হয়তো। নতুনভাবে আরেকবার যাওয়ার প্লান আছে।
বর্তমানে নিরাপত্তা ও যাতায়াতের কথা চিন্তা করে কোন ট্রাভেল এজেন্সির সাথে গেলেই ভাল হবে। এছাড়া বড় গ্রুপ অাকারে গেলে খরচ অনেকটা কম পড়বে আর নিরাপত্তা বেশি নিশ্চিত হবে।

০৩. কক্সবাজার
বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত হিসেবে কক্সবাজার সারাবিশ্বেই কমবেশি পরিচিত। আমরাই এর মূল্যায়ন করলাম না। অপরিচ্ছন্ন বীচ আর অপরিকল্পিত, অনিয়ন্ত্রিত ব্যাবস্থাপনার কারনে অনেকেই এখন যেতে চায়না। যদিও এরপরেও ভ্রমনপিপাসুদের নিকট এখনও শীর্ষে কক্সবাজার।
কক্সবাজারের সাথে প্রায় সারাদেশের সাথেই রয়েছে সরাসরি বাস যোগাযোগব্যবস্থা।

০২. সাজেক
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত পাহাড়ঘেরা সাজেক আমার কাছে অসাধারন মনে হয়েছে। বিশেষত এখানে কাটানো রাতটা আপনার স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকবেই। খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক যাওয়ার আঁকাবাঁকা, উঁচুনিচু, খাড়া পুরোটা পথই রোমাঞ্চকর।
ঢাকা থেকে বাসে খাগড়াছড়ি এসে চান্দের গাড়িতে যাওয়া যাবে মেঘ ও পাহাড়ের মিলনক্ষেত্র সাজেকে।

০১. সেন্ট মার্টিন
দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন। চারিদিকে সমুদ্রের নীল জলরাশি বেষ্টিত দ্বীপটির রূপ আপনাকে মুগ্ধ করবেই। আমার দৃষ্টিতে ০১ নম্বর তাই সেন্ট মার্টিনই।
কক্সবাজার থেকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর সাথে নিরাপদে ঘুরে আসতে পারবেন হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতি বিজড়িত দ্বীপটি থেকে। চাইলে রাতও কাটানো যাবে।

কোথাও ঘুরতে গিয়ে পরিবেশ নষ্ট বা নোংরা করা থেকে বিরত থাকলে নিশ্চয়ই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ থাকবে। তাই সবারই এই বিষয়টা গুরুত্বের সাথে মানা উচিত।
Source: Escapist Antu‎<Travelers of Bangladesh (ToB)

Share:

Leave a Comment

Shares