নিকলী হাওড়, কিশোরগঞ্জ যেভাবে যাবেন

আমি ময়মনসিংহ থেকে গিয়েছিলাম।
ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জ গাইটাল বাসস্ট্যান্ড, বাস ভাড়া ৮০/-১২০/- ক্ষেত্রবিশেষে।

বাসস্ট্যান্ড থেকে বটতলা,
রিকশা/অটোতে করে, ভাড়া ২০/-

বটতলা থেকে একটু এগোলেই ওয়াচ টাওয়ার, ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ, গুরুদয়াল কলেজ দেখা যাবে। আমরা দাঁড়াইনি। দেখতে দেখতে রাজবাড়ী চলে গেছি। গাঙ্গাটিয়া মানববাবুর জমিদার বাড়ি।
রিকশা/অটোতে যাবেন, ৩০০/-
তবে এই জমিদার বাড়িটুকু চাইলে স্কীপ করতে পারেন। আমার কাছে ভালো লাগে নি। আবার সময় নষ্টও মনে হয়েছে। এই সময়ে শহর ঘুরলেও ভালো লাগতো।

কিশোরগঞ্জ শহরটা খুউবি সুন্দর। গোছানো শহর, রাস্তাঘাটও এত ভালো, এত ভালো, মুগ্ধ হয়ে যাবার মত। ভি আই পি এলাকা বলেই হয়তো।

যাই হোক, জমিদার বাড়ি থেকে আবার রিকশায় করে সোজা চলে আসবেন একরামপুর। একরামপুর ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান।
৩০/- থেকে ৫০/- নিবে।

এখান থেকে সিএনজি স্ট্যান্ড যাবেন ২০/- টাকায়। সেখান থেকে চামড়া বন্দর। চামড়া বন্দর থেকে নৌকা/ট্রলার নিয়েছিলাম ৮০/- থেকে ১০০/- টাকায়।
বালিখোলা যাই। এখানেই বালিখোলা হাইওয়েটা পাবেন, যেটা হাওড়ের মাঝ দিয়ে চলে গেসে।

বালিখোলা থেকে ৮০/- টাকা ভাড়ায় আরেকটা ট্রলারে করে বুসাকান্দা যাই, বুসাকান্দা থেকে মরিচখালী। মরিচখালী নেমে মরিচখালী বাজার যাই রিকশায় ২০/- টাকায়। সেখান থেকে সিএনজিতে নিকলী উপজেলা পরিষদ। ২০০/- টাকা ভাড়া নেয়।
সেখান থেকে বেড়িবাঁধ বললেই নিয়ে যাবে।
একদম শেষ পর্যন্ত যাবেন।

আমরা দুইজন গিয়েছিলাম বলে একটু কম্প্রোমাইজ করে চলতে হয়েছে। এই যেমন, নিজেরা আলাদা ট্রলার ভাড়া করিনি। একটা যাত্রীবাহী ট্রলারে উঠে পড়েছিলাম। ওরা এই গ্রাম ওই গ্রাম, এই বাজার সেই বাজার ঘুরতে ঘুরতে গেসে, আমরাও সেসব দেখতে দেখতেই গেসি। তবে আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে ভালোই লেগেছে ব্যাপারটা। নদীর পাড়ের জীবনযাত্রা দেখবার সুযোগ হয়েছে। ছেলেবেলায় গল্প শুনতাম আগে নাকি বাড়িতে বাড়িতে একটা করে নৌকা থাকতো। নৌকায় করেই তারা সবসময় আসা-যাওয়া করতো। সেটা নিজ চোখে দেখলাম।
ভালোই লাগছিল পুরোটা সময়।

সারাদিন ট্রলারে ট্রলারে ঘুরেছি বলে বেড়িবাঁধে গিয়ে আর পানিতে নামিনি। চোখের দেখাই দেখে এসেছি।
ইচ্ছে আছে পরেরবার গেলে সেখানেও নামবো, আর ওইপাড়ে রাষ্ট্রপতির বাড়ি থেকেও ঘুরে আসবো।

আমার মত যাদের ঘুরবার সঙ্গী সাথী নাই, কোনোরকমে একজন দুইজন ম্যানেজ করেই বেরিয়ে পড়েন, এটা তাদের জন্য।
গ্রুপ করে গেলে এত ভেঙ্গে না গেলেও চলবে।
সেক্ষেত্রে কিশোরগঞ্জ শহরে নেমেই সিএনজি নিয়ে সোজা চলে যেতে পারেন নিকলী। (আমরা এভাবেই ফিরে আসছি।) সহজও হল, সময়ও বাঁচলো। আবার অনেক মানুষ থাকলে একটা ট্রলার নিয়ে নিলেন। ইচ্ছেমত ঘুরতে পারলেন।
এই আর কি! ☺

তবে ঘুরতে গিয়ে নিজেদের এবং সুন্দর পৃথিবীর কথা চিন্তা করে আমরা যেন যত্রতত্র ময়লা না ফেলি। বিশেষ করে প্লাস্টিক এবং বোতল। সুন্দরকে দেখতে গিয়ে সুন্দরকে যেন নষ্ট না করে ফেলি।
এ ব্যাপারে সবাই একটু খেয়াল রাখি।

সবার ভ্রমণ সুন্দর হোক।
ধন্যবাদ।

Source:  Sumaiya Tabassum‎<Travelers of Bangladesh (ToB)

Share:

Leave a Comment

Shares