ভিয়েতনামা ভ্রমণ গল্প

আজ হ-চি-মিহ সিটি নিয়ে বাকি অংশ। জুনের ৮ তারিখ আমাদের প্যাকেজ ট্যুর ছিলো মেকন ডেল্টা এবং চু-চি টানেলে।একটা মেয়ে গাইড ছিলো।আমাদের পার পারসন ১২০০০০০ ডং করে পরেছে প্যাকেজ। এর ভেতর যথারিতি লাঞ্চ ইনক্লুডেট।প্রথমে আমরা যাই চু-চি টানেলে।এই টানেলগুলি খুবি ইন্টারেস্টিং যা স্পেশালি ভিয়েতনামিজদের জন্য বানানো।অন্যদের এইসব টানেলে এডজাস্ট হওয়া পসিবল না।ওখানে অনেক ফাদের ডিসপ্লে করা আছে।যা যুদ্ধের সময় সোলজার রা ইউজ করতো।ওদের যুদ্ধের কাহিনীতে ইন্টারেস্ট থাকলে সবারই এই জায়গাটা ভালো লাগার কথা।হিস্ট্রি জেনে যাওয়া বেস্ট।নয়তো গাইড এর সাথে যাইয়াই ভালো।গাইডগুলি সব হিস্ট্রি বলতে বলতে যাবে।প্রতিটা টানেলের,ফাদের পেছনের কাহিনী আস্তে আস্তে বুঝতে পারা যাবে।যুদ্ধের সময় ওরা কতোটা ডেডিকেটেড ছিলো এবং বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে।এসব না দেখলে বুঝা অনেক কঠিন।

এরপর আবারও গাড়িতে উঠে পরি।মেকন ডেল্টার দিকে রউনা হই।গাড়ি থেকে নেমে মটরচালিত একটা বড়সড় নৌকায় উঠি।সে আমাদের টান দিয়ে নদীর মাঝামাঝি একটা ক্রাউডেড প্লেসে নিয়ে যায়।ওইখানে ট্রেডিশনাল গানের এবং ফল খাবার ব্যাবস্থা ছিলো।আমরা নারিকেলের ফ্যাক্টরিতে যাই।পরে যাই ন্যাচারাল হানি সপে।ওইখানে বড়সড় একটা সাপ গায়ে নিয়ে ভং করে ছবি তোলার সুজোগ আছে।পরে আমাদের আমার সেইম নৌকায় করে আরেক জায়গায় নিয়ে যায়।ওখান থেকে আমরা ছোট নৌকায় উঠি।এটাই আসলে মেকন ডেল্টার প্রধান আকর্ষণ। দুদিকে নারিকেল গাছ।মাঝ দিয়ে নৌকায় করে সারি সারি মানুষ যাচ্ছে। খুব অল্প সময় যদিও।কিন্তু আমার ভালো লেগেছে।

ওহ এর মাঝেই আমরা দুপুরের লাঞ্চ করে নিয়েছিলাম।লাঞ্চ পুরাই ট্রেডিশনাল ছিলো।খাবারে কোন কিছুতে মানা থাকলে আগেই ওদের জানিয়ে দিতে হবে।৮ তারিখের ট্যুর আসলে এটুকুই।লেখা দেখে অল্প মনে হলেও এটুকুতেই সারাদিন পার হয়ে গেছে।আসলে যাতায়াতেই বেশ সময় চলে যায়।

৯ তারিখ রাতে আমাদের ফ্লাইট। কিন্তু সকাল থেকে আমাদের প্ল্যান ছিলো সায়গন স্কাইডেকে যাবার।স্কাইডেকের টিকেট ২০০০০০ ডং আমার আকাশ এতো পছন্দ।আমরা আসলে ১১ টা থেকে বিকাল অবধি ওখানেই কাটিয়ে দেয়াছি।লাঞ্চও আমরা ওখানেও করি।যদিও একটু এক্সপেন্সিভ। কিন্তু আমার কাছে বেস্ট মনে হয়েছে।স্কাইডেকে সায়গন সিটির একটা জোস ভিউ পাবেন।৪৯ তালায় স্কাইডেক।তাকিয়েই ছিলাম আমি পুরো সময়।আশেপাশে গ্লাস।পুরো থ্রি সিক্সটি ভিউ।পুরো সময় তাকিয়ে থেকেও আমার মনে হয়েছে আরো সময় থাকলেও আমার বিরক্ত লাগতো নাহ।মেঘগুলি শহরের উপর দিয়ে যাবে।রোদের ফাকে ফাকে শহরের উপর মেঘের ছায়া স্পষ্ট দেখা যাবে।মাসাল্লাহ সায়গন শহরের এতো সুন্দর ভিউ আর অন্য কথাও পাওয়া যাবে কিনা।আমার জানা নেই।
রাতে ফ্লাইট ছিলো তাই বিকালেই চলে যাই এয়ারপোর্টে। তারপর সরাসরি মালেশিয়া।
Source: Effat Sultana <Travelers of Bangladesh (ToB)

Share:

Leave a Comment

Shares