মাওয়া ফেরি ঘাট

যারা পদ্মার তাজা ইলিশ খেতে মাওয়া ফেরি ঘাটে ঢু মারার প্ল্যান করছেন তাদের বলছি।

মাওয়া ফেরি ঘাটেই ত বসার সুন্দর জায়গা আছে, আর বড় বড় ঢেউ ত আছেই, সাথে নানান কিসিমের মানুষের আনাগোনা।

রেসটুরেন্ট গুলোতে বিশাল বিশাল সব পাঙ্গাশ মাছের পেটি পাবেন ।।নদীর বাতাস খেতে খেতে পাঙ্গাশ আর ইলিশ খাওয়ার এক অপার্থিব আনন্দ আছে।

মাওয়া ঘাটে যাওয়ার পারফেক্ট সময় হচ্ছে রাত নয়টায় রউনা দেয়া ঢাকা থেকে ১২টার ভিতরে পৌছে যাবেন এবং ঘাটে বসে বসে বাতাস – ফেরীর হর্ন আর মানুষের কোলাহল মিলে রাতের অন্ধকারে যেই অনুভুতি পাবেন তা দিনের বেলার পাবেন না।। আর ক্ষুধা লাগলে ত আছেই অনেক রেসটুরেন্ট – চট করে ইলিশ আর পাঙ্গাশ খেয়ে আবার ঘাটে বসে বসে আড্ডা।।

যদি জেলেদের কাছ থেকে তাজা মাছ কিনে খেতে চান তবে আপনাকে অন্তত এক দিনের জন্য সকালের কাঁচা ঘুম ত্যাগ করে মাওয়া পৌঁছাতে হবে সকাল ৯ তার মধ্যে।আর শুধু ইলিশ খেয়ে চলে আসা নেহায়েত বোকামি হবে যদি নদীর পাড়ে বসে পদ্মার বিশাল জলের একটু উন্মাদনা না দেখেন।
তার জন্য বেস্ট প্ল্যান হবে, মাওয়া ঘাট থেকে জন প্রতি ২৫/= টাকা করে ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সায় লোহজং যেতে পারেন। সম্পূর্ণ অটো রিক্সায় রিজার্ভ নিলে ১৫০/= টাকা নিবে।

সেখান থেকে নৌকায় যাবেন পদ্মা রিসোর্ট। রিসোর্ট ও দেখা হবে নৌকা ভ্রমণ ও হয়ে যাবে। ইচ্ছা করলে সারা দিন অথবা রাত দিন থাকার ব্যবস্থা আছে রিসোর্ট এ। না থাকতে চাইলেও অসুবিধা নেই শুধু এক্সট্রা ৫০ টাকা দিলেই ঘুরে দেখা যাবে সম্পূর্ণ রিসোর্ট।

যেভাবে যাবেন : মিরপুর ১০, ফার্মগেট , শাহবাগ থেকে যেতে পারেন স্বাধীন পরিবহন এ। অথবা গুলিস্থান থেকে ইলিশ/প্রচেষ্টা বা অন্য অনেক বাস পাবেন মাওয়া যাওয়ার জন্য (বি,আর,টি,সি এর এসি বাস ও আছে ) ।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী, পদ্মা নদী। ৩৬৬ কিঃমিঃ দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট এই পদ্মার পাড়ে দাঁড়ালে যেন মনে হয় সাগর, কোনো কিনারা দেখা যায় না; কিন্তু নদীর মাঝে নানা জায়গায় জেগে উঠেছে বহু চর। নদীভ্রমণের জন্য পদ্মা একটি উত্তম পছন্দ। তাই ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে কম সময়ে ভ্রমণের জন্য ঘুরে আসুন পদ্মার পাড় থেকে।

কীভাবে যাবেনঃ

ঢাকার যেকোন স্থান থেকে যাত্রাবাড়ী পোঁছে ফুটওভার ব্রীজের দক্ষিণ দিকের পোস্তাগোলাগামী রাস্তা দিয়ে একটু সামনে গেলেই পাওয়া যাবে মাওয়া বাসষ্ট্যান্ড। এখান থেকে প্রতি ৫ থেকে ১০ মিনিট অন্তর অন্তর বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির বাস ছেড়ে যায় মাওয়ার উদ্দেশ্যে। আনন্দ, ইঁলিশ, গুন-গুন ইত্যাদি পরিবহনে মাওয়া যেতে বাস ভাড়া লাগবে কম-বেশী ৫০ টাকা । ৫০ টাকার বিনিময়ে প্রায় ৩৫ কি.মি. পারি দিয়ে মাওয়া ফেরী ঘাটে পৌছতে সময় লাগবে ঘন্টাখানেক। নিশ্চিন্তে চড়ে বসুন যে কোন একটা বাসে। ইচ্ছে করলে সকাল কিংবা দুপুরে রওনা হয়ে বিকেলটা মাওয়ার পদ্মা পাড়ে কাটিয়ে সন্ধ্যার পরপরই ফিরে আসা যায় ঢাকাতে। যাত্রাবাড়ি ছাড়া গুলিস্থান থেকেও মাওয়ার সরাসরি বাস পাওয়া যায়। এখান থেকে ভাড়া একই পরিমান লাগলেও সময় একটু বেশী লাগে।

দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যার আগে পর্যন্ত নদীতে থাকবে সূর্যের রূপালী ঝিলিক। মৃদু বাতাসে নদীর জলে ছোট ছোট রূপালী ঢেউ ঝলকে দেয় চোখ। পদ্মায় ভেসে ঘোরার মতো মাঝি ও নৌকা দুর্লভ। এপার হতে ওপারে যাওয়ার জন্য আছে লঞ্চ আর স্পীড-বোট। ফেরীতেও পারাপার হতে পারেন। স্পীড বোটে এপার হতে ওপারে যেতে ২০-২৫ মিনিটের মতো লাগে; ভাড়া ১৫০ টাকা। যারা একটু ভীতু এবং সাঁতার জানেন না, তাদের স্পীড-বোটে না চরাই ভালো; দ্রুতগতির এই স্পীড-বোট পদ্মার বুকে অনেক সময় লাফিয়ে লাফিয়ে চলে যা রোমাঞ্চকর এবং মজাদার বটে, কিন্তু ভয় পেলে তাতে না চড়াই ভালো। লঞ্চ পারাপারে সময় একটু বেশী লাগে, আশেপাশের প্রকৃতিও দেখা যায় বেশী। ভাড়া ৩০ টাকা (লোকাল) এবং ৪০ টাকা (ডাইরেক্ট)।

পদ্মা ভ্রমণের আরো একটা আকর্ষণ হচ্ছে পদ্মার ইলিশ। যদিও হোটেলে পরিবেশ ততটা পরিষ্কার নয়, তবুও এর স্বাদ অন্য সব জায়গা থেকে অন্যতম।

কোথায় খাবেন:

মাওয়া ফেরিঘাটে বাস থেকে নামতেই রাস্তার পাশে দেখা যাবে অসংখ্য রেস্টুরেন্ট যেগুলো ভাতের হোটেল নামেই বেশি পরিচিত। এই সব রেস্টুরেন্ট দেখতে যেমনই মনে হোকনা কেন, এখানকার গরম ভাত আর গরম গরম ভাঁজা পদ্মার টাটকা ইঁলিশের স্বাদই আলাদা। পরিবেশটি যেমন আলাদা তেমনি এই ভোজনের আনন্দ আর স্বাদও আবশ্যই আলাদা।

কাওড়াকান্দি ফেরিঘাটে নামলেই চোখে পড়বে এরকম পাথরের স্তুপ। পাথর গুলো সব এবড়োথেবড়ো। পা ফেলতে হবে খুব সাবধানে। ভুল বশত যদি কোনো পাথরে পা ফেলতে গিয়ে সেটা নড়ে যায় তাহলে পাথরের নিচে চাপা পড়ার ভয়ও উড়িয়ে দেয়া যায় না। পদ্মার কোলের এই বিশাল পাথরের স্তুপের উপরে বসে সামনে দিগন্ত বিস্তৃত পদ্মা দেখে মন জুড়িয়ে যাবে নিশ্চিত।

পাথর গুলো দিয়ে ‘সাতচক্র’ (বাণিজ্যিক কারনে আসল নাম বলা যাচ্ছে না।) নামের সিমেন্ট তৈরি করা হয়।

যেভাবে যাবেন: গুলিস্তান থেকে ইলিশ/প্রচেষ্টা বাসে করে মাওয়া। এরপর ফেরি/লঞ্চ/স্পিডবোটে করে কাওড়াকান্দি।

 

নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুর জায়গাটাও এখন একটা টুরিস্ট স্পট হিসেবে গণ্য হতে পারে।

পদ্মা নদীর সৌন্দর্য, দুপাশের সুন্দর গ্রাম আর সেতুর কাজ দেখতে বেরিয়ে আসতে পারেন মাওয়া থেকে।

কিভাবে যাবেনঃ ঢাকার মিরপুর, উত্তরা এবং গুলিস্তান থেকে সরাসরি বাসে মাওয়া ঘাট। তারপর লঞ্চ বা স্পীডবোট।

Share:

1 Comment

  • সাইফুল

    মাওয়া ঘাঁটের স্পীড বোড যারা চালায় তাদের মোবাইল নাম্বার এর একটা লিস্ট এই ওয়েব থাকলে ভালো হয় । আর যদি আপনাদের কাছে থাকে তাহলে আমাকে লিস্টটা দিলে আমি উপক্রিত হতাম, ধন্যবাদ ।

    Reply

Leave a Comment