শহীদ সিরাজ লেক বিতান্ত

সকাল ৬.৩০ মিনিটেই ছোটভাই ফাহিমের ডাকাডাকি। ঘুরতে এসে কেউ এত বেলা করে ঘুমায়! আমাদেরও বা কি দোষ। ১১ই জুলাই বিকেল ৪ টায় আমরা ১১ জন মাইক্রোবাস নিয়ে সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম রাত ১২ নাগাদ পৌঁছে যাব সুনামগঞ্জ শহরে। কিন্তু বিধিবাম! বৃষ্টির জন্য মাইক্রো আস্তে চালাতে হয়েছে, যার জন্য রাত ২.৩০ মিনিটে হোটেলে পৌঁছেছিলাম। সেজন্য ঘুম থেকে উঠতে সবার একটু দেরিই হয়ে গিয়েছিল। যাইহোক, সুনামগঞ্জ আসার উদ্দেশ্যই ছিল টাঙুয়ার হাওর এবং শহীদ সিরাজ লেক / নীলাদ্রি লেক দেখা।

এরপর সকালের নাস্তা করে মাইক্রোবাস করেই রওনা দিলাম তাহিরপুরের দিকে, যেখানে আমাদের ট্রলার আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। কিন্তু যেদিন দেরি হয়, সেদিন সবজায়গাতেই দেরি হয়! লালপুর নামক জায়গায় এসে দেখি বন্যার পানি উঠেছে রাস্তায়, ভেঙেও গেছে রাস্তা। তাই মাইক্রোবাস আর যাবে না। কি আর করা? লালপুরের ভাঙ্গা রাস্তাটা হেঁটে পার হয়েই সিএনজি নিয়েই গেলাম বিশ্বম্ভরপুর। রাস্তায় বন্যার পানি, তাই আর সিএনজি যাবে না! এরপর আরেকটা ট্রলার নিয়ে তাহিরপুরে পৌঁছাতে পৌঁছাতে দুপুর ১ টা বেজে গেল। এরপর ট্রলার টাঙুয়ার হাওরে আমাদের ঘুরিয়ে বিকেল ৫ টা নাগাদ নিয়ে গেল টেকেরঘাট নামক জায়গায়। আর এখান থেকেই ১০ মিনিট হেঁটে গিয়ে দেখা পেলাম শহীদ সিরাজ লেকের / নীলাদ্রি লেকের।

স্বচ্ছ পানি সাথে পাহাড় এবং সবুজের সমাবেশ! অসাধারণ একটা জায়গা এই নীলাদ্রি লেক। এই পর্যটন স্থানটি চুনাপাথরের পরিত্যাক্ত খনির লাইম স্টোন লেক। এই লেকের প্রকৃত নাম শহীদ সিরাজ লেক। কিন্তু ভ্রমণ কমিউনিটিতে এই লেক নীলাদ্রি নামেই অধিক পরিচিত। চমৎকার নীল পানি আর পাহাড়ের সমন্বয় নীলাদ্রি লেককে করেছে অপার্থিব সৌন্দর্য্যের অধিকারী।

যেভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জগামী যেকোন বাসে করে সুনামগঞ্জ শহরে যাবেন। তারপর মোটরসাইকেল অথবা সিএনজি নিয়ে চলে যাবেন তাহিরপুর উপজেলায়। এরপর থানায় গিয়ে নাম এন্ট্রি করে ট্রলার নিয়ে সরাসরি চলে যাবেন টেকেরঘাট। আর এই টেকেরঘাটেই পাবেন শহীদ সিরাজ / নীলাদ্রি লেকের দেখা।

++ যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা না ফেলি। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন দেশ গড়ি।
Source:Raj Ahmed <Travelers of Bangladesh (ToB)

 

Share:

Leave a Comment

Shares