খাগড়াছড়ি_কথন

খাগড়াছড়িতে আমার দীর্ঘ সময় থাকার অভিজ্ঞতায় কিছু কথা বলতে চাই। আশাকরি সবার কাজে লাগবে।

#সাজেকঃ

সাজেকে আসলে ১ দিন ১ রাত এর বেশি থাকার কিছু নাই। ১ম দিন সকালের এস্কর্টে গিয়ে বড়জোর পরের দিন বিকেলের এস্কর্টে ব্যাক করতে পারেন। আর্মি রিসোর্টগুলোতে যেমন: সাজেক রিসোর্ট, রুন্ময়, জারবুজ ইত্যাদিতে বুকিং চাইলে এটলিস্ট ১ মাস আগে থেকে নক করবেন। খাবারের জন্যে আর্মির রক ক্যান্টিন ভাল। আগে থেকে অর্ডার করতে হয়। ভোরে অবশ্যই উঠবেন। ভোরের মেঘ মিস করলেন তো, পুরো ট্যুর মিস করলেন। নতুন হেলিপ্যাডের চেয়ে আমার কাছে পুরাতনটাই বেশি ভাল লাগে। ভীড়ভাট্টা অনেক কম। দেখার জায়গাঃ সাজেক আর কংলাক পাড়া। যারা খাগড়াছড়ি থেকে বাংলা কলা বা পেঁপে নিয়ে আসতে চান, কংলাক পাড়া টার্গেট করতে পারেন। অনেক সস্তায় পাবেন। কমলা না কেনাই ভাল, বিদঘুটে স্বাদ। আর সাজেক থেকে যত খাগড়াছড়ির দিকে আসতে থাকবেন, তত দাম বাড়তে থাকবে। চান্দের গাড়ি দামাদামি করে নিবেন। আমি সব মিলিয়ে ৬০০০ এ গিয়েছি যদিও কিন্তু, ৭০০০ এর ভেতর পেলে ভাল ডীল বলতে পারেন। হয়, ড্রাইভার হেল্পারকে আপনার সাথে খাওয়াবেন বা ঝামেলা না চাইলে এ বাবদ ৫০০ টাকা দিয়ে দিলেই হবে। পুরোটা কাভার করা জীপ নিবেন না। মনে রাখবেন, সাজেকের আসল মজা যাওয়া আসাতেই। সাজেক যাবার পথে হাজাছড়া ঝর্ণা পড়বে। কিন্তু,এখন যারা যাবেন, ওখানে না যাওয়াই ভাল। একটুও পানি নেই।

#খাগড়াছড়িঃ

১ দিনেই কাভার হয়ে যাবে। আলুটিলা গুহা, পাশেই একটা বৌদ্ধ বিহার, আলুটিলা আর্মি ক্যাম্পের পাশের হেলিপ্যাড যা তারেং নামে পরিচিত। আর রিসাং ঝর্ণা। যদি বয়স্ক কেউ থাকে বা খুব একটা কষ্ট করতে না চান তো এই সিজনে রিসাং বাদ দিতেও পারেন। খুব মজা পাবেন না দেখে। কেষ্টর চেয়ে কষ্ট বেশি। বিকেলে চলে যেতে পারেন খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেলের পাশেই চেঙ্গি নদীর উপর ব্রীজে। ভাল লাগবে।

#মায়ুং_কপাল/#হাতিমূড়া/#স্বর্গের_সিড়ি

খাগড়াছড়ি থেকে পানছড়ির রাস্তায় গেলে জামতলীর আশেপাশে একটা জায়গায় নদী পার হতে হয় দড়িটানা নৌকায়। এরপর গ্রাম্য রাস্তা, ধানক্ষেতের আইল, কাঁদাজলের পাহাড়ী ছড়া আর চড়াই উতরাই এর পাহাড় বেয়ে অবশেষে অনেকধাপ সিঁড়ি। নৌকা থেকে নেমেই সবচেয়ে দূরের যে পাহাড় দেখবেন সেটাই মায়ুং কপাল। সবমিলিয়ে যেতে আসতে মাঝারি গতিতে বিরতিহীনভাবে ৩ঃ৩০-৪ঃ৩০ ঘন্টা ট্রেকিং। আমার কাছে কেষ্টর তুলনায় কষ্ট অনেক অনেক বেশি মনে হয়েছে। আপনি আলুটিলা তারেং এ দাঁড়ালেও মায়ুং কপালের মতই একই ভিউ পাবেন তার ১/১০০ ভাগ কষ্ট করে। সুতরাং, সিদ্ধান্ত বুঝে শুনে নিন। জামতলীর ঐ খেয়া পারাপার খুঁজে পেতেই আমার ১ ঘন্টা সময় আর ৩০ কিমি রাস্তা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে। কোন চিহ্ন নেই, একদন স্থানীয় ছাড়া কেউ চিনে না। ওপারে নামার কিছুদূর পর সভ্যতার শেষ নিদর্শন হিসেবে আছে দু একটি দোকান। এরপর ৩-৩ঃ৩০ ঘন্টা আর কিছুই পাবেন না। একদম শেষের দিকে পাহাড়ী ঝর্ণার পানি গাজী ট্যাংকে সংরক্ষিত থাকে। ঐটাই প্রাণ বাঁচাবে।

ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি যাওয়া আসা করতে এসির জন্যে মোস্ট প্রেফারেবল হল সেন্টমারটিন বা হানিফ। নন এসিতে এস আলম, ইকোনো। এছাড়াও ময়মনসিংহ/গাজীপুর (শান্তি), রংপুর(শ্যামলী) আর দক্ষিণবঙ্গের(ঈগল) সরাসরি বাস সার্ভিস আছে।

থাকার বেশ কয়েকটা ভাল হোটেল আছে। অরণ্য বিলাস, ইকোছড়ি ইন, পর্যটন মোটেল, মামনি ইত্যাদি।

খাবার হোটেল সিস্টেমের কথা তো সবাই জানেন। বাম্বু চিকেনটা খেতে পারেন।

সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ ভ্রমণে সবাইকে শুভ কামনা।

Post Copied From:

মাহরুফ নজরুল>Travelers of Bangladesh (ToB)

Share:

Leave a Comment